ইভটিজারদের ধরাশায়ী করবে বিশেষ যন্ত্র, অসামান্য আবিষ্কার বাংলার যুবকের

বাবুল হক, মালদহ: আর ক্যারাটে কিংবা বক্সিংয়ের প্রশিক্ষণ নিতে হবে না। স্কিন কালারের একটি গ্লাভস হাতে পরে নিলেই আত্মরক্ষা করতে পারবেন মেয়েরা। সেই গ্লাভস পরে ইভটিজারকে ছুঁলেই বৈদ্যুতিক শক পেয়ে মাটিতে আছাড় খেয়ে পড়বে আগত কেউ৷ মহিলাদের আত্মরক্ষার জন্য এমনই অভিনব ডিভাইস তৈরি করে জেলায় শোরগোল ফেলে দিয়েছেন মালদহ শহরের যুবক অমিত ঘোষ৷

[  দেশলাই কাঠিতে বিশ্বকাপের রেপ্লিকা গড়ে তাক লাগালেন কালনার শিল্পী ]

স্কুল ছাত্রী থেকে যুবতী, তরুণী- প্রত্যেকেই গ্লাভসটি ব্যাগে রাখতে পারবেন৷ সামনে বখাটে বা বদমাইশ কাউকে সন্দেহ হলেই হাতে পরে নিতে পারেন সেই গ্লাভস। ব্যস, আর কোনও ভয় নেই। এমনই দাবি অমিতের। সেই গ্লাভসে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস সেট করেছেন তিনি। গ্লাভস পরে যাকেই স্পর্শ করবেন, সেই তড়িদাহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়বে। নমুনা গ্লাভস তৈরি করেই বাজিমাৎ করেছেন অমিত। এখন তিনি চান, কোনও বাণিজ্যিক সংস্থা যদি তাঁর প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটি তৈরি করেন তাহলে মহিলাদের নিরাপত্তা আরও সুনিশ্চিত করা যাবে।

নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা অমিতের পরিবারের। তবু তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন, বড় একজন বিজ্ঞানী হবেন। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি মালদহ শহরের মাধবনগর এলাকার বাসিন্দা অমিত ঘোষের। বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সংসারের অভাব। কিন্তু তা বলে অমিতের ইচ্ছা থেমে থাকেনি। সংসারের অভাব তাঁকে স্কুলের পড়াশোনা থেকে থামিয়ে রাখে৷ সপ্তম শ্রেণি পাশ করার পর সংসারে অভাবের কারণে আর পড়াশোনা করে উঠতে পারেননি। তারপর প্রায় ১৪ বছর ধরে ইলেকট্রিকের বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন তিনি৷ বিশেষ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওয়ারিংয়ের কাজ করে সংসারে আর্থিক সাহায্য করতে হয় তাঁকে। ইদানিং ইলেকট্রিক সামগ্রী বিক্রির বেসরকারি একটি সংস্থাতে তিনি কাজ করেন।

[  স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করে সালিশি সভায় আক্রান্ত শাশুড়ি-বউমা ]

আর সেই কাজের ফাঁকে ফাঁকে নতুন কিছু ‘আবিষ্কার’ করার স্বপ্ন দেখছিলেন মাত্র সপ্তম শ্রেণি পাশ করা যুবক অমিত ঘোষ৷ খবরের কাগজ থেকে টিভি ও প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়াতে হাজার-হাজার খবরের মধ্যে মহিলাদের উপর অত্যাচার, শ্লীলতাহানি, অপহরণ, ধর্ষণের মতো খবরগুলি অমিতের নজর কাড়ে। তাঁর মাথায় প্রশ্ন জাগে, এই সমস্ত অপরাধের কবল থেকে মহিলাদের বাঁচানোর কোনও বৈদ্যুতিক অস্ত্র তৈরি করা যায় কি না? ভাবনা থেকেই বেরিয়ে আসে অভিনব ডিভাইস তৈরির পরিকল্পনা। সেই থেকে চলে তাঁর গবেষণাও। বেসরকারি সংস্থার কাজকর্ম সেরে রোজ রাতে ঘরে ফিরে সেই সমস্যার সমাধান খুঁজছিলেন তিনি। প্রায় দেড় বছর ধরে ভেবেচিন্তে কিছু একটা ‘সৃষ্টি’ করতে পেরে খুশি অমিতও। হাতে পরার একটি ইলেকট্রনিক গ্লাভস তৈরি করে আপাতত জেলায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি৷ সরকারের কাছে অমিতের আরজি একটাই, সরকার যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে আরও অত্যাধুনিক এই ডিভাইস তৈরি করতে পারবেন তিনি, যা দিয়ে মহিলারা নিজেদের আত্মরক্ষা করতে পারবে পথে ঘাটে৷ এমনই দাবি মালদহের যুবক অমিত ঘোষের৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *