নববর্ষের উৎসবে মাতল ঢাকা, রমনার বটমূলে বর্ষবরণ

সুকুমার সরকার, ঢাকা: পুরনো দিনের ব্যর্থতা ও গ্লানি ভুলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার শুরু। শনিবার দিনভর বর্ষবরণের আনন্দোৎসবে মেতে থাকল বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকা। এদিন সূর্য ওঠার আগেই ঢাকার রমনা বটমূলে১৪২৫ সালকে বরণ করে নেওয়া হল। বরণ করে নিল বাংলাদেশের অন্যতম সংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। ‘বিশ্বায়নের বাস্তবতায় শিকড়ের সন্ধান’ প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শুরু করে সংগঠনটি।

[রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠাতে এবার আসরে রাষ্ট্রসংঘ]

বাঙালির কৃষ্টি-সংস্কৃতি রুখে দিতে ১৭ বছর আগে ২০০১-এহামলার ঘটনা ঘটেছিল। বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বোমা-গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল মৌলবাদী গোষ্ঠী। এর জের প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৯ জন। আহতের সংখ্যা ছিল শতাধিক। বহু ভাষাবিদ ড: শহীদুল্লাহর পঞ্জিকা অনুসারে বাংলাদেশে পয়লা বৈশাখ উদযাপিত হলো শনিবার। এদিন ভোর সোয়া ছ’টায় ছায়ানটের আয়োজনে শুরু হয় বর্ষবরণের প্রভাতী আয়োজন। হলুদ সবুজ পোশাকে এ সময় রমনার বটমূলে প্রায় দেড় শতাধিক শিল্পীর উপস্থিতি ছিল। গান গেয়েই নতুন বছর ১৪২৫-কে স্বাগত জানান তাঁরা। উপস্থাপনায় ছিল বৈশাখী মগ্নতা, নতুনের আহ্বান।

[‘সিরিয়ায় হামলার ফল ভুগতে হবে’, আমেরিকাকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি রাশিয়ার]

বটমূল সংলগ্ন মঞ্চ ছাড়া বাকি জায়গায় ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বটমূলের বর্ষবরণ আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত পুলিশ প্রহরা ছিল। এবার সংগঠনের ৫১ বছর পূর্তি, তাই আয়োজনেও ছিল নতুনত্বের ছোঁয়া। ছায়ানটের প্রভাতী সংগীতানুষ্ঠান থেকে শুরু করে মঞ্চ সাজানোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভোর থেকে হাজারো মানুষ ভিড় করে রমনা বটমূলে। শিল্পীদের গানে অনেকেই গলা মেলান। এই প্রসঙ্গে ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুন বলেছেন, “শিকড়ের টানে দৃঢ় থাকব। এভাবেই এই বিশ্বায়নের যুগেও আমরা ঋদ্ধ হব।” বাঙালির জীবনে এদিনের ভোর এসেছে নতুন বার্তা নিয়ে। এই ভোরের আলোয় বাংলা পঞ্জিকাও নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে। প্রত্যেকে নতুন পোশাকে নববর্ষকে বরণ করে নিয়েছে। নানা আয়োজনে, নানা আঙ্গিকে সারা দেশ জুড়েই চলছে বাঙালির সার্বজনীন বর্ষবরণ উৎসব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *