কর্ণাটক কুরসি অধরা কুমারস্বামীর, বিজেপিকেই সরকার গড়তে ডাক রাজ্যপালের

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এ যেন সোনার হরিণ! দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না। কংগ্রেসের কাছে সরকার গড়া এখন অনেকটা এরকমই হয়ে দাঁড়িয়েছে। অল্পের জন্য হাতছাড়া হয়েছিল গুজরাট। ফসকে যেতে চলেছে কর্ণাটকও। জেডিএস-এর সঙ্গে জোট করেও শেষরক্ষা হল না। একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজেপিকেই সরকার গড়ার আহ্বান জানাতে চলেছেন কর্ণাটকের রাজ্যপাল। সেক্ষেত্রে হয়তো আগামিকালই মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন ইয়েদুরাপ্পা।

[  কর্ণাটকে সরকার গড়ার সুযোগ না পেলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ইঙ্গিত কংগ্রেসের ]

কর্ণাটকে কে সরকার গড়বে, তা নিয়ে দিনভর চলে চূড়ান্ত রাজনৈতিক নাটক। উঠেছে ঘোড়া কেনাবেচার অভিযোগও। এইচডি কুমারস্বামী সাফ জানিয়েছেন, তাঁদের বিধায়ককে মাথাপিছু ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিজেপি। তবে তাতেও শেষপর্যন্ত কোনও জেডিএস বিধায়ক গেরুয়া শিবিরে মাথা গলিয়েছেন বলে সন্ধে পর্যন্ত খবর নেই। এই অবস্থায় যখন গলদঘর্ম বিজেপির কর্ণাটকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা প্রকাশ জাভড়েকর, তখন তাঁকে বাঁচিয়ে দিল সরকারিয়া কমিশনের রিপোর্ট। ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রাজ্যপালের কাছে দুটি রাস্তা খোলা ছিল। এক, কংগ্রেস-জেডিএস জোটকে সরকার গড়তে ডাক পাঠানো। কিন্তু চিরকালের অভিযোগ এতে গণতন্ত্র ভূলুন্ঠিত হয়। কারণ দুটি দল জোট করে অঙ্কের বিচারে এগিয়ে গেল ঠিকই, কিন্তু জনতার রায় তাতে অপমানিত হল। কেননা মানুষের সমর্থন অন্য দলের পক্ষে। যে দল একক বৃহত্তম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সুতরাং সরকার গড়ার অধিকার থাকা উচিত তারই। এ দ্বন্দ্ব আজকের নয়। সেই ১৯৮৩ সালে এ নিয়ে গঠন করা হয় সরকারিয়া কমিশন। সংবিধানের আওতার মধ্যে ত্রিশঙ্কু অবস্থায় কী কী করণীয় তা খতিয়ে দেখা হয় কমিশনের কাজ। পাঁচ বছর পর ১৯৮৮ সালে রিপোর্ট পেশ করে কমিশন। যা মোতাবেক একক বৃহত্তম দলকে সরকার গড়তে ডাকতে পারে রাজ্যপাল। সূত্রের খবর, সেই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ীই এক্ষেত্রে বিজেপিকে ডাক পাঠাচ্ছেন সংঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ তথা এককালের গুজরাটের মোদি মন্ত্রিসভার অন্যতম মুখ বাজুভাই বালা।

[  কংগ্রেসের সমর্থনে সরকার গড়ুন, কুমারস্বামীকে ফোন মমতার ]

ত্রিশঙ্কু অবস্থায় সরকার গড়ার দাবিদার অনেকেই। কিন্তু কোনটিকে অগ্রাধিকার দেবেন রাজ্যপাল তার একটি তালিকা করে দেয় কমিশন। যেমন, ভোটের আগে যদি একাধিক দলের জোট হয়, তবে সেই জোট পরে অগ্রাধিকার পাবে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে। এরপরই আসছে একক বৃহত্তম দলের কথা। তারাও যদি অন্য কোনও দলের সমর্থনে বা নির্দলের সমর্থন জোটাতে পারে তবে তারাই সরকার গড়বে। ঠিক এই জায়গাতেই জিতে যাচ্ছে বিজেপি। কারণ, কংগ্রেস ও জেডিএস ভোটের আগে জোট করেনি। ফলে এক্ষেত্রে তারা অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যেতে পারে। ঠিক এই জায়গাটির কথাই বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মত ছিল, আগে জোট করলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। যদি আগে জোট হত তাহলে যে কোনও মূল্যে কংগ্রেস-জেডিএস জোটই সরকার গড়ায় অগ্রাধিকার পেত। কিন্তু এক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। ফলে সংবিধান মেনেই বিজেপিকে সরকার গড়তে ডাকতে পারে রাজ্যপাল। এবং তাই-ই হতে চলেছে। বিজেপি বিধায়ক সুরেশ কুমার সেই মর্মে টুইটও করেছেন।

এরপর কংগ্রেসের হাতে কী কী রাস্তা খেলা থাকল? কংগ্রেস-জেডিএস একযোগে ধর্ণায় বসতে পারে। রাষ্ট্রপতির কাছে দরবার করতে পারে। এমনকী সুপ্রিম কোর্টেও যেতে পারে। তবে সরকার গড়ার স্বপ্ন এবারও তাদের কাছে সোনার হরিণই হয়ে থাকল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *