হাতিয়ার ‘পঞ্চায়েত সন্ত্রাস’, তৃণমূলের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনের পথে বিজেপি

রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: পঞ্চায়েতে হিংসার অভিযোগকে এবার সর্বভারতীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। লোকসভা ভোটের আগে পঞ্চায়েত ভোটের সন্ত্রাসই ইস্যু হতে চলেছে গেরুয়া শিবিরের। বুধবার দিল্লিতে কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র উপস্থিতিতে ঠিক হয়েছে, ২৫ জুন দেশের সব রাজ্যের রাজধানীতে বাংলার সন্ত্রাস ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিজেপির নেতা ও কর্মীরা। বঙ্গ বিজেপির তরফেও একেকজন নেতা একেকটি রাজ্যে যাবেন। এরপর ২ জুলাই দিল্লির রাজঘাট এ ধরনা কর্মসূচি করবে বঙ্গ বিজেপি। সেখানে থাকবেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, শমীক ভট্টাচার্য-সহ দলের সাংসদ থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও।

[প্রথমবার মহিলাদের ইফতারের ব্যবস্থাপনায় কলকাতার টিপু সুলতান মসজিদ]

ওই ধরনা কর্মসূচিতে নিয়ে যাওয়া হবে বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার ঘটনায় নিহত দলীয় কর্মীদের পরিবারের লোকজনকে। এছাড়া আক্রান্ত কর্মীরাও থাকবেন। ওইদিন তাঁদেরকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছেও যাওয়া হবে। বুধবার দিল্লিতে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুকে নিয়ে এই কর্মসূচি চূড়ান্ত করেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। এছাড়া, এই সন্ত্রাস ইস্যুতে ১৮জুন থেকে ২৪জুন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সব জেলায় প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও কর্মসূচি চলবে বিজেপির।

[অস্ত্রোপচারে রোগীর শরীরে ভুল গ্রুপের রক্ত, কাঠগড়ায় বেসরকারি হাসপাতাল]

এ রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটের আঁচ যে দিল্লিতে পড়েছে তা বোঝা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পঞ্চায়েত সন্ত্রাসের উল্লেখ থাকার পর।সাধারণত কোনও রাজ্যের স্থানীয় স্তরের নির্বাচন নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতে দেখা যায় না কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। এরাজ্য নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা যে কতটা উদ্বিগ্ন তা বোঝা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের পর। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা বারেবারে পঞ্চায়েত ভোটে সন্ত্রাসকে হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন। এখানেই থেমে না থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবার মমতা বিরোধী আন্দোলনকে গোটা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

[মাছ-ভাতকে এবার বিশ্বের বাজারে তুলে ধরছে রাজ্য সরকার]

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯ লোকসভা পর্যন্ত ক্রমাগত তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে চাইছে রাজ্য বিজেপি। কিন্তু আপাতত হাতেগরম কোনও ইস্যু বিজেপির কাছে নেই। তাছাড়া নির্বাচনী সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার মতোও কিছু নেই গেরুয়া শিবিরের হাতে। তাই মাসখানেক আগে শেষ হওয়া পঞ্চায়েত ভোটে দলীয় কর্মীদের আক্রান্ত হওয়াকেই শেষমেশ কাজে লাগাতে চাইছেন দিলীপ ঘোষরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *