হিমঘরে কিশোরীর দেহ, আশা পুনর্জন্মের

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ক্যানসারে মারা গিয়েছে ১৪ বছরের মেয়েটি৷ তার আশা ছিল ১০০ বছর পর চিকিৎসকদের কল্যাণে সে বেঁচে উঠবে৷ তাঁর শেষ ইচ্ছেকে কুর্নিশ জানাল লন্ডনের আদালত৷ হাই কোর্ট তার রায়ে কিশোরীর দেহ হিমঘরে পাঠতে নির্দেশ দিল৷ আদালতের এই অপ্রত্যাশিত ও নজিরবিহীন রায়ে মেয়ের নবজন্মের আশায় বুক বাঁধলেন তাঁর মা৷ তরল নাইট্রোজেনে রাখা হয়েছে মেয়েটির দেহ৷ নাইট্রোজেনকে তরলে রূপান্তরিত করতে হিমাঙ্কের নিচে ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নিয়ে যেতে হয়৷ নাইট্রোজেনের হিমাঙ্ক মাইনাস ২১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ শতকের পর শতক এই প্রক্রিয়ায় দেহ অবিকৃত থাকে৷
বিচারককে চিঠি লিখে ওই কিশোরী জানিয়েছিল, “আমার বয়স মাত্র ১৪৷ আমি বেঁচে থাকতে চাই৷ কিন্তু আমার আয়ু ফুরিয়ে এসেছে৷ আমার দেহ যদি ক্রায়ো প্রিজারভেশন পদ্ধতির মাধ্যমে সংরক্ষিত করে রাখা যায়, তাহলে ১০০ বছর পর হলেও আমার সুস্থ হওয়ার ও বেঁচে ফিরে আসার সুযোগ থাকবে৷” মেয়েটির বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে৷ সে বিচারককে জানায়, তার মা চাইলে দেহ সৎকার করতে পারবেন৷ কিন্তু কিশোরীর বাবা মেয়েটির দেহ সংরক্ষণের বিষয়ে সহমত হননি৷ তবে মাকে সবসময়েই পাশে পেয়েছে সে৷ কিছুদিনের মধ্যেই মারা যায় সে৷ আদালত এই ঘটনার পরই কিশোরীর ইচ্ছাপূরণে উদ্যোগী হয়৷
আদালতের তরফে বলা হয়, বিজ্ঞানের কথা ভাবা হয়নি৷ অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এক কিশোরীর মৃত্যু ও তার পারিবারিক দ্বন্দ্বের কথা মাথায় রেখে এই প্রথম এরকম বেনজির রায় দেওয়া হয়েছে৷ তার মায়ের ইচ্ছেতেই ক্রায়ো-প্রিজারভেশনের জন্য মেয়েটি দেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আমেরিকায়৷ এই প্রক্রিয়ায় দেহকোষ নষ্ট হয় না৷ কম তাপমাত্রায় উৎসেচকের কার্যক্ষমতা লোপ পায়৷ বৈধ মৃত্যু ছাড়া কোনও মৃতদেহ সংরক্ষণ করা যায় না৷ একমাত্র আমেরিকায় সম্পূর্ণ মৃতদেহ সংরক্ষণের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *