চূড়ান্ত শাস্তির মুখে ঋতব্রত, গন্তব্য কি বিজেপি?

স্টাফ রিপোর্টার: বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, গৌতম দেব, সুজন চক্রবর্তীর মতো নেতাদের হাত মাথায় থাকলে পার্টি থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহিষ্কার ঠেকানো যায় কি না, তা জানতেই উদগ্রীব সিপিএম নেতা-কর্মীরা। একইসঙ্গে তারা দেখতে চান, ঋতব্রতকে দল থেকে তাড়াতে সেলিমরা কত তথ্য জোগাড় করেন! ঋতব্রতর মোবাইল বন্ধ। দলের নেতারা মন্তব্য করতে চাইছেন না। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক মন্তব্য ঘিরে নতুন নতুন বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। সেই বিতর্ক থেকে রেহাই পাননি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও। ঋতব্রত সম্পর্কে টুইট, অতীতে অনেক বিষয়েই ভুল স্বীকার করেই ক্ষমা চেয়েছেন বুদ্ধদেব। এবার তিনি কি ঋতব্রতকে সাংসদ করার জন্য ফের ক্ষমা চাইবেন?

প্রায় ‘সাইনবোর্ড’ হয়ে যাওয়া একটা পার্টির অসংখ্য সমস্যা ও সঙ্কটপূর্ণ পরিস্থিতি কার্যত ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে ঋতব্রতকে নিয়ে শুরু হওয়া চলতি বিতর্কে। সংবাদমাধ্যমে মহম্মদ সেলিম ও কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন দলের ‘তরুণ তুর্কি’। তবে সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী বিষয়টিকে তেমনভাবে গুরুত্ব না দেওয়ার পক্ষপাতী। ঋতব্রতকে দলে রাখা হবে কিনা, তা ঠিক করতে মঙ্গলবার সকালে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক ডাকা হলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত রাখা হয়। আলিমুদ্দিন সূত্রের খবর, বুধবারের বৈঠকেই এই সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী। এদিকে, মোবাইল বন্ধ রাখলেও ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় টুইট করেছেন ঋতব্রত। এতদিন দল সম্পর্কে বিষোদগার করলেও এদিন কিন্তু তিনি অনেকটাই সাবধানী। টুইট করেছেন, বাংলার স্বার্থকে তিনি বরাবরের জন্য অগ্রাধিকার দিয়ে যাবেন। শেষে লিখেছেন ‘জয় বাংলা’। সিপিএমের একটি মহল মনে করছে, তাঁকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি সাংসদ পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন না। টুইটে তেমনই ইঙ্গিত পেয়েছে রাজনৈতিক মহল।

[পাহাড় জট কাটছে, বনধ প্রত্যাহারের আরজি মুখ্যমন্ত্রীর]

বিচারের আগেই তাঁর ফাঁসি হয়ে গিয়েছে। শাস্তি দিয়েছে ‘ক্যাঙারু কোর্ট’। যে কোর্টের বিচারক মহম্মদ সেলিম। সিপিএমের বিতর্কিত সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এমনভাবেই পার্টি গঠিত তিন সদস্যের কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করেন। এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক ঋতব্রত বেনজিরভাবে বলেন, মহম্মদ সেলিম সংখ্যালঘু কোটায় পলিটব্যুরোয় জায়গা পেয়েছেন এবং তিনি সাংসদ হওয়াতেই সেলিম-সহ দলের মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষী নেতা প্রথম থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে অকারণে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন। তাই তাঁর এই পরিণতি। সিপিএম সূত্রে খবর, এমন বিতর্কিত মন্তব্য করার পর বহিষ্কারের মুখে ঋতব্রত।

সিপিএম সাংসদের অভিযোগ, দলের রাজ্য কমিটি থেকে তিনি বাদ গিয়েছেন মহম্মদ সেলিমের জন্যই। নিজেকে সিপিএমের এক কর্মী হিসাবে পরিচয় দিয়ে বলেছেন, “আমার সাংসদ হওয়াই কাল হয়েছে। যেদিন সীতারাম ইয়েচুরি ফোন করে আমাকে রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার কথা জানান, সেদিন থেকেই এঁরা আমার বিরুদ্ধে লেগে পড়েছেন। কারণ একটাই। আমি সংসদে বাংলার স্বার্থ নিয়ে সরব। যদি বোবা-কালা হতাম, তাহলে সমস্যা হত না।” যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই সেলিম অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু ঋতব্রতকে থামানো যায়নি। তাঁর সংযোজন, “ঠিক এইজন্যই অঙ্ক কষে সীতারামকে আর রাজ্যসভায় পাঠানো হল না।” তাঁর পর্যবেক্ষণ, “সীতারাম মাউন্ট এভারেস্টের মতো। ভাবের ঘরে চুরি করে বেশিদিন চলতে পারে না।” তিনি কি বিজেপি বা তৃণমূলে যোগ দেবেন? বহিষ্কারের মুখে দাঁড়িয়েও রহস্য জিইয়ে ঋতব্রত বলছেন, “সময় উত্তর দেবে।”

[কাঁঠালে পুরে আগ্নেয়াস্ত্র পাচার, মুর্শিদাবাদ যেন ‘মিনি’ মুঙ্গের]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *