বামেদের ‘নির্বিষ’ লালবাজার অভিযান থামল গন্তব্যের আগেই

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ঠিক বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পূর্ব ঘোষণা মাফিক সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে লালবাজার অভিমুখে যাত্রা শুরু করে বামেদের বিশাল মিছিল। মিছিলের সামনে ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র, রবীন দেব সহ অন্যান্য বাম নেতারা।

‘চোর ধরো জেল ভরো’। বামেদের লালবাজার অভিযান থেকে আজ এই স্লোগান তুললেন দলের নেতাকর্মীরা। ১৭টি বামপন্থী সংগঠনের আহ্বানে বুধবার লালবাজার অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। এদিনের অভিযান ঘিরে কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি প্রশাসন। লালবাজারে গেটে ছিল ব্যাপক পুলিশি বন্দোবস্ত। দরজা ছিল বন্ধ। নিরাপত্তার কড়াকড়িও ছিল যথেষ্ট। পুলিশ সূত্রে খবর ছিল, গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউতেই আটকে দেওয়া হবে বামেদের লালবাজারমুখী মিছিল।

[সরকারি কর্মী মারা গেলে চাকরি পাবেন বিবাহিত মেয়েও]

বামেদের মিছিল শুরু হয় সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যার থেকে। গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ ধরে লালবাজারের দিকে এগোয় মিছিল। পরে লালবাজার থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে একটি সমাবেশ করেন বাম নেতারা। বক্তব্য রাখেন সূর্যকান্ত মিশ্র, বিমান বসু, রবিন দেব ও অন্য নেতারা। বামেদের অন্য দাবিগুলির মধ্যে ছিল, রাজ্যে মহিলাদের উপর অত্যাচার বন্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে প্রশাসনকে। লালবাজার ও নবান্ন অভিযানে সামিল হওয়া মানুষদের অযথা পুলিশি হয়রানি করা চলবে না। কলকাতায় রাজনৈতিক সভা সমিতি করার জন্য সমস্ত দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে। মানুষে মানুষে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। মূলত এই বক্তব্যেই সীমিত থাকল বামেদের চটকহীন, ঝাঁঝহীন বক্তব্য।

[ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবের নামে যুবককে প্রতারণা, পুলিশের জালে ২ তরুণী]

মাস কয়েক আগে, বামেদের নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র পরিস্থিতির চেহারা নেয়। সেকথা মাথায় রেখে এদিনও ব্যারিকেড করে ছিল প্রচুর পুলিশ। ছিল জলকামান। তৈরি ছিল ব়্যাফ, কাঁদানে গ্যাসের শেল। তবে মিছিল ব্যারিকেড পর্যন্ত যাওয়ার চেষ্টা করেনি। বরং তার আগেই বামেদের মঞ্চের কাছে মিছিল শেষ হয়। কয়েকজন বাম প্রতিনিধি তাঁদের দাবি পত্র নিয়ে যান লালবাজারে। ফলে কোনও রকম উত্তেজনার পরিস্থিতি এদিন সৃষ্টি হয়নি। তবে এই মিছিলকে কেন্দ্র করে রীতিমতো সমস্যায় পড়েন অফিস ফেরত নিত্যযাত্রীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *