টাকায় আঁকা গৌরবের কাহিনি, বাংলাদেশ পেল ‘বিজয় ইতিহাস অ্যাপ’

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সংগ্রামের ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস কখনও দেশবাসীর হৃদয় থেকে মুছে যায় না। সময় পালটায়। প্রজন্মে আসে বদল। ইতিহাসের আধারেও আসে পরিবর্তন। এতদিন যা ছিল পুঁথির পাতায়, ডিজিটাল যুগে তাই-ই উঠে এসেছে ক্লিক-স্ক্যানে। অভিনব উদ্যোগ। ইতিহাসকে সমসময়ের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখতে এবার বাংলাদেশে এল বিজয় ইতিহাস অ্যাপ।

[ তাইওয়ানের আকাশে ৯ ঘণ্টা রং ছড়াল রামধনু,উচ্ছ্বসিত বাসিন্দারা ]

এ নিছকই এক অ্যাপ নয়। আর পাঁচটা অ্যাপ নিয়ে যেমন খুটখাট সুবিধার কাজে মাতে তরুণ প্রজন্ম, এ ততটা সাধারণ নয়। বরং একবার এ দুনিয়ার প্রবেশ করলেই জীবন্ত হয়ে ইতিহাস। খুঁজে পাওয়া যায় নাড়ির যোগ। অতীত যেন প্রযুক্তির হাত ধরেই বেঁচে থাকার সরণি খুঁজে পায়। উদ্যোগ বাংলাদেশের টেলিকম অপারেটর রবি আক্সিয়াটা লিমিটেডের। পরাধীনতার বন্ধন মোচন করে স্বাধীন বাংলাদেশের নবজন্মের পথে থেকে যাওয়া মাইলফলকগুলিকে ছোঁয়া হয়েছে প্রযুক্তির মাধ্যমে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিয়য়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরের হাতেই উদ্বোধন হল এই অ্যাপটির। তিনি জানালেন, বাংলাদেশের জন্য এ এক সত্যিই গর্বের মুহূর্ত। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের মতো দেশের গৌরবজ্জ্বল অতীতকে অ্যাপটি পুনরুদ্ধার করেছে। হাতে এই অ্যাপ থাকা মানে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত সেই গৌরবের সাক্ষী হতে পারবেন, তাকে বহন করতে পারবেন। এই অভিনব উদ্যোগের জন্য টেলিকম সংস্থা রবি-কে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।

[ মঙ্গল কি ছিল যুদ্ধক্ষেত্র? ‘কামানের গোলা’র সন্ধান পেয়ে তাজ্জব বিজ্ঞানীরা ]

সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহতাব উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, অ্যাপে যে ক’টি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ধরা হয়েছে তার সঙ্গে সংযোগ রয়েছে জাতীয় স্মৃতি সৌধের সাতটি পিলারের সঙ্গেও। আরও একটি অভিনব উদ্যোগ নেওযা হয়েছে। দেশের টাকা বা নোটের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন অঙ্কের হলেও প্রতিটি নোটেই এই জাতীয় স্মৃতি সৌধের ছবি আছে। নোট সকলের কাছেই আছে। দেশের প্রতিটি কোণায় মেলে। এবার নোটের উপর থাকা স্মৃতি সৌধের ছবি স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনায় পৌঁছে দেব অ্যাপটি। চলতে শুরু করবে ভিডিও। মূর্ত হয়ে উঠবে ইতিহাস।

24824681_1613130088746703_668468698_n

[ পাকিস্তান জঙ্গিদমনে অক্ষম হলে নামানো হবে মার্কিন সেনাকে ]

তরুণ প্রজন্ম যে টেক স্যাভি তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ফিলহাল সময়ে বই পড়ার অভ্যাসও কমেছে। তাহলে ইতিহাস জীবন্ত থাকবে কী করে? তরুণের অভ্যাসের উপর ভর করেই তার সামনে ইতিহাসকে তুলে এনেছে এই অ্যাপ। তরুণ-তরুণীরা নানারকম জিনিস ডাউনলোড করে থাকে। এই অ্যাপ ডাউনলোড করা মানে, যে কোনও সময়ই ইতিহাসের সাক্ষী হওয়া। প্রতিটি নাগরিক এভাবে ইতিহাসকে আরও বেশি করে মনে রাখতে পারবেন। আর তাই-ই জন্ম দেবে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের। তাই অ্যাপ হলেও, এ নিছকই একটি অ্যাপ নয়। বরং আধুনিক সময়ে জাতীয়তাবোধ জাগরণের এক হাতিয়ারও বটে। ডিজিটাল দুনিয়ার গোলোকধাঁধায়, বহু দেশের বহু সংস্কৃতির ভিড়ে, নিজের দেশকে প্রকৃত অর্থে চিনে নেওয়ার মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার নিয়েই যেন চালু হল ‘বিজয় ইতিহাস অ্যাপ’।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *