পণের দাবিতে স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, কাঠগড়ায় পুলিশ আধিকারিক

শান্তনু কর: এবার রক্ষকের বিরুদ্ধেই উঠল অত্যাচারের অভিযোগ। তাও আবার পণের দাবিতে। পণের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধেই। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার পুরাতন কান্দাপাড়া এলাকায়। স্ত্রী অনুরাধা সাহাকে খুনের চেষ্টায় অভিযুক্ত জলপাইগুড়ি পুলিশের এএসআই অসীম সাহা।

[হুকিংয়ের জেরে রাজ্যে বিদ্যুৎ অপচয় ৬০%, চুরিতে এগিয়ে দুই ২৪ পরগনা]

২০০৮ সালে অসীমের সঙ্গে বিয়ে হয় অনুরাধার। বছর তিরিশের মহিলার অভিযোগ, বিয়ের সময়ই পণ হিসেবে এক লক্ষ টাকা নিয়েছিল অসীম। কিন্তু তাতে তাঁর চাহিদা মেটেনি। আরও টাকার জন্য অনুরাধা ও তাঁর পরিবারকে ক্রমাগত চাপ দাওয়া হতে থাকে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়দিনই অশান্তি লেগে থাকত। স্ত্রীকে মারধর করার অভিযোগও রয়েছে এএসআই-এর বিরুদ্ধে।

সবকিছুই মুখ বুঝে সহ্য করছিলেন বলে জানান অনুরাধা। কিন্তু গত তিরিশে নভেম্বর অত্যাচারের সমস্ত সীমা পেরিয়ে যায় অসীম। স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে তাঁকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। কোনওমতে স্বামীর কবল থেকে নিজে বাঁচিয়ে সেই অবস্থাতে স্থানীয় কোতয়ালি থানায় পৌঁছান অনুরাধা। সেখানে পুলিশকে সব খুলে বলেন। স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে চান। সঙ্গে ছিলেন তাঁর বাবা অনন্ত মহন্তও। তবে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে বলেই অভিযোগ জানিয়েছেন ওই মহিলা।

[অভিভাবকদের চাপে ‘অপসারিত’ প্রিন্সিপাল, বৃহস্পতিবারই খুলছে জি ডি বিড়লা স্কুল]

এদিকে গায়ে কেরোসিন নিয়ে মহিলার থানায় আসার কথা স্বীকার করে নিলেও পুলিশের দাবি, ওই মহিলার সারা শরীর থেকে গন্ধ বের হচ্ছিল। তাঁকে দেখে অসুস্থও মনে হচ্ছিল। তাই পুলিশ তাঁদের পরামর্শ দেয় আগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করিয়ে তারপর আসতে। এলেই অভিযোগ নেওয়া হবে। কিন্তু এরপর আর অনুরাধা সাহা ও অনন্ত মহন্ত ফিরে আসেননি। ফলে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। অবশ্য মৌখিক কথা ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন জলপাইগুড়ি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়।

[দলিত বিয়ে করলে শর্ত ছাড়াই আড়াই লক্ষ, নির্বাচনী মরশুমে দরাজ কেন্দ্র]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *