আজ ‘দিল্লি চলো’র ডাক মমতার

কিংশুক প্রামাণিক:  আজ, বৃহস্পতিবার ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটকে সামনে রেখে ‘দিল্লি চলো’-র ডাক দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই লড়াই জেতার প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে দলকে নির্দেশ দেবেন তিনি৷ তার আগে জিততে হবে পঞ্চায়েত৷

বিধানসভা নির্বাচনে ২১১ আসন জিতে বঙ্গ রাজনীতিতে ইতিহাস সৃষ্টি করার পর ২১ জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ মঞ্চ থেকেই মা-মাটি-মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানাবেন নেত্রী৷ বলবেন, মানুষই সব চেয়ে বড় বুদ্ধিমান৷ তাই মানুষের স্বার্থ ছাড়া দ্বিতীয় কোনও স্বার্থ তৃণমূলের কারও থাকতে পারে না৷ দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেই তিনি প্রশাসনের ঘুঘুর বাসা ভাঙতে ও দলের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তুলে ধরতে কার্যত অভিযানে নেমেছেন৷ আজ উন্নয়ন, শিল্পায়ণ ও বিকাশের ক্ষেত্রে রাজ্যের ইতিবাচক মনোভাবটা আরও একবার স্পষ্ট করে দেবেন তিনি৷

তবে সবকিছু ছাপিয়ে আজ তাঁর বক্তৃতায় সামনে এসে যাবে আগামী লক্ষ্যের বিষয়টি৷ বাংলার সার্বিক উন্নয়ণে বাধা কেন্দ্রের বঞ্চনা৷ সেই সমস্যা চিরতরে দূর করতে চাই দিল্লির ক্ষমতা৷ বিজেপি ও কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে তৃতীয় বিকল্প গড়ার ডাক মমতা ইতিমধ্যে দিয়েছেন৷ আগামিদিনে ফেডারেল ফ্রণ্টকে কার্যকর করে তুলতে তিনি বদ্ধপরিকর৷  সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মমতার গুরুত্ব যে কতটা বেড়ে গিয়েছে, তা ২১-এর সভার আগের দিনই আবার বোঝা গেল৷ বিজু পট্টনায়েকের জন্মশতবর্ষের একটি অনুষ্ঠান ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক কলকাতায় করতে চান মমতাকে সামনে রেখে৷ বিজু-পুত্রের প্রতিনিধি হয়ে ওড়িশার তিন মন্ত্রী বুধবার নবান্নে এসেছিলেন৷ ছিলেন সে রাজ্যের শিল্প ও কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী দেবীপ্রসাদ মিশ্র, খাদ্য সুরক্ষামন্ত্রী সঞ্জয় দাসবর্মন এবং বিধানসভার মুখ্য সচেতক তথা বিজেডির রাজ্য সভাপতি অনন্তকুমার দাস৷ মমতা তাঁদের বলেন, তিনি নিজেও ওড়িশায় গিয়ে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন৷

এবার প্রশ্ন, আজ ভিড় কত হবে? সত্যি কথা বলতে কী, যত মানুষ ধর্মতলামুখী আজ হবেন, তার সহস্রগুণ মানুষ আজ দুপুরে টিভির পর্দায় চোখ রাখবেন মমতার কথা শুনতে৷ বিশাল জয়ের পর তোলাবাজি, সিন্ডিকেট চক্র, প্রশাসনের ঘুঘুর বাসার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করায় নেত্রীর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে৷ বুধবার তা বোঝা গেল ধর্মতলায়৷ দুপুর থেকে সভাস্থলে নজিরবিহীন ভিড়৷ সন্ধ্যা সাতটা কুড়িতে যখন প্রতিবারের মতো মঞ্চ পরিদর্শনে এলেন, তখন মানুষের ভালবাসায় তিনি কার্যত বন্দি৷ রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিসহ উপস্থিত নেতৃত্বকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েই নেত্রী ফিরে যান দ্রুত৷ পিছনে ছুটতে থাকেন জনতা৷ পুলিশের হিসাবে বুধবারই প্রায় পাঁচ সাত লক্ষ মানুষ দূর জেলা থেকে কলকাতায় এসে গিয়েছেন৷ প্রবল ভিড় হবে ধরে নিয়েই অনেক জায়ান্ট স্ক্রিন লাগানো হচ্ছে৷ আকাশে উড়বে ড্রোন৷ টেলিভিশন সম্প্রচারে ব্যবহার করা হবে ড্রোনের ফুটেজ৷

এদিকে, শোনা যাচ্ছে, ২১ মঞ্চে কংগ্রেস ও সিপিএমের ভাঙনের ছবিটা স্পষ্ট হবে৷ অনেকেই তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন৷ মুকুল রায়ের মতো সিনিয়র নেতা বলে দিয়েছেন অন্তত ২০ জন বিরোধী বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিতে প্রস্তুত, সে কারণে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে৷ এই প্রসঙ্গেই মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কংগ্রেস ভাঙছে আর সিপিএম তো মিউজিয়ামে চলে গিয়েছে৷ দেখুন না কি হয়৷ আমাদের নেত্রী এই সভা থেকে মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানাবেন ঐতিহাসিক জয়ের জন্য৷”

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আন্দোলনে গুলি চালিয়েছিল বাম সরকারের পুলিশ৷ নিহত হয় ১৩ জন যুবক৷ সেই ইতিহাসকে স্মরণ করে এবারের মঞ্চও প্রস্তুত হয়েছে যুব তৃণমূলের ব্যানারেই৷ দায়িত্বে যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মঞ্চে ২১ জুলাই থেকে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, সাঁইবাড়ি শহিদ পরিবারের সদস্যরা থাকবেন৷ এছাড়াও সমাজের বহু বিশিষ্ট মানুষ আজ আমন্ত্রিত৷ সব আয়োজন চূড়ান্ত৷ তবে সাহিত্যিক মহাশ্বেতাদেবী অসুস্থ৷ তিনি থাকতে পারবেন না৷ মমতার এটুকুই যা দুঃখ৷

13709536_1101719436569683_1273224066_o

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *