কীভাবে ভাল থাকবেন? আপনার মনেই লুকিয়ে আছে অব্যর্থ উপায়

ভাল ভাবুন, ভাল থাকুন। দরকার শুধু মনের কোণে একটুখানি আশা আর সাহস সঞ্চয় করে রাখা। তাহলেই অবসাদ মুছে ফিরে আসা যায় ‘রাইট ট্র্যাকে’। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের বিশেষজ্ঞরা নিজের পাশাপাশি অন্যকেও ভাল রাখার সহজ কিছু পরামর্শ দিলেন। লিখছেন কোয়েল মুখোপাধ্যায়

জীবনে ওঠাপড়া ছিল, আছে আর থাকবেও। এ রুটিন বদলাবে না। কিন্তু তা বলে নিরাশ হয়ে পা ছড়িয়ে বসে কাঁদলে-কঁকালে, বিলাপ করলে, অভিযোগ জানালে মিলবে তো কিছুই না! উলটে বিষাদ বাড়বে, কষ্ট দ্বিগুণ হবে, শরীরে গোপনে বাসা বাঁধবে একের বেশি রোগ-জ্বালা। তাই, যে কোনও পরিস্থিতিতে ভাল থাকতে হবে। হবেই। আর কারও জন্য না হলেও অন্তত নিজের জন্য তো বটেই। ‘পজিটিভ’ ভাবনাচিন্তা করলে জীবনটাও কিন্তু ‘পজিটিভ’ হতে পারে। বেলাইন দশা থেকে ফিরে আসতে পারে ‘রাইট ট্র‌্যাকে’। দরকার শুধু একটু সাহস সঞ্চয় করা, মনের কোণে একটু হলেও আশা রাখা আর কয়েকটি ‘গোল্ডেন রুল’ অনুসরণ করে চলা। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের বিশেষজ্ঞরা আশ্বাস দিয়ে বলছেন, এটুকু করলেই হবে। নিজেও ভাল থাকবেন। অন্যকেও ভাল রাখবেন।

[গরমে তুমুল অস্বস্তি? পুরুষদের জন্য এবার বাজারে Cool অন্তর্বাস]

কীভাবে?

কৃতজ্ঞতা জানান:

আপনি জীবনে যা পেয়েছেন, যতটুকু পেয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন। কারণ, এমন কেউও থাকতে পারে, যাঁর এটুকুও জোটেনি। সে অর্থই হোক বা মা-বাবা-আত্মীয়স্বজন সান্নিধ্যই হোক কিংবা মাথার উপর ছাদই হোক অথবা দৃষ্টি-শ্রবণের ক্ষমতা থেকে বাক-শক্তি। তাই যা আছে, তার কথা ভেবে খুশি থাকুন। সময় বের করে নিয়ে পরিজনদের সঙ্গে, বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলুন। না পারলে চিঠি লিখে জানান, আপনার জীবনে তাঁদের অবদানের কথা। দিনের মধ্যে কিছুটা সময় এই কাজের জন্য বরাদ্দ করে রাখুন। প্রত্যেক মানুষের জীবনেই এমন কয়েকজন ‘বিশেষ’ মানুষ থাকেন। তা সে মাই হন বা বাবা, দিদি, দাদা বা বন্ধু। মন কোনও কারণে খারাপ হলে, এঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আন্তরিকভাবে কথা বলুন। ভাল সময়গুলো মনে করুন আর তার জন্য এঁদের ধন্যবাদ জানান, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। দেখবেন, কাজ হবে।

Say-Thanks-to-your-teeth

প্লাস পয়েন্ট মনে রাখুন:

নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন, এমন মানুষের সংখ্যা এ পৃথিবীতে নেহাত কম নয়। আপনিও কি এই তালিকায় পড়েন? তাহলে কিন্তু মুশকিল! নিজের নামটা এখনই কাটিয়ে নিন। আপনার ‘প্লাস পয়েন্ট’ কী কী, আপনার ‘স্ট্রেংথ’ কী, সেটা আপনাকেই জানতে হবে। তাহলেই তো, তার সদ্ব্যবহার করে লাভবান হতে পারবেন। মন খারাপের মেঘ সরিয়ে দিয়ে জীবনে একটুখানি রোদ্দুর আনতে পারবেন। দুর্ভাগ্যবশত, ব্রিটেনের একটি সমীক্ষার ফল জানাচ্ছে, পৃথিবীতে বসবাসকারী মানুষের মাত্র এক-তৃতীয়াংশই নিজেদের শক্তি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। এখন যদি আপনিও এই তালিকায় পড়েন, তাহলে মুষড়ে পড়বেন না। উপায় একটা আছে। জীবনে যাঁকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন, যাঁর পরামর্শ অন্ধের মতো বিশ্বাস করেন, তাঁকে গিয়ে প্রশ্ন করুন এ ব্যাপারে। তিনিই আপনাকে বলে দেবেন, গাইড করবেন। তবে একটা কথা মনে রাখবেন। আনন্দে থাকা এবং আনন্দে রাখার মতো ‘প্লাস পয়েন্ট’ কিন্তু আর অন্য কিছু হয় না। ভালবাসা, প্রাণোচ্ছলতা, উৎসাহ এ সবেরই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

6990296-girl-outdoor-sunrise

মুহূর্তে বাঁচুন:

ছোট ছোট মুহূর্ত জীবনে বড় ফারাক গড়ে দেয়। তাই আনন্দের মুহূর্ত, বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করুন। মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা হল, উৎসব অনুষ্ঠানের মধ্য থেকে আনন্দ খুঁজে নেওয়া। কোনও একটা বিয়েবাড়ি, গেট-টুগেদার, জন্মদিনের পার্টি বা নিদেনপক্ষে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ছোট্ট একটা মজলিশে উপস্থিত থাকতে পারলেই দেখবেন, মন অনেকটা ভাল হয়ে গিয়েছে। তাই, কাজের মধ্যে আকণ্ঠ ডুবে না গিয়ে এই সবের জন্যও সময় বের করে রাখুন। ‘রিফ্রেশ’ড থাকবেন। আরও একটা কথা। বিশেষজ্ঞদের মত হল, যতটা বেশি সম্ভব ‘মাল্টি টাস্কিং’ থেকে দূরে থাকুন। একসঙ্গে একাধিক কাজ করলে, অনেকগুলো বিষয়ে মন দিলে নিজের আনন্দ খুঁজে বের করার জন্য সময় আর পাবেন না। প্রাতরাশের টেবিলে হাতে খবরের কাগজ নিয়ে রেডিও শুনলে, গানের মাধুরী বা সকালে প্রকৃতির সৌন্দর্য, কোনওটাই উপভোগ করতে পারবেন না। আবার পোষ্যকে নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়ে মনে মনে কাল কী কী করবেন, ভাবতে থাকলে প্রিয়জনটির সান্নিধ্য উপভোগ বা কাজ থেকে একটু বিশ্রাম বা বিরতি নেওয়া কোনওটাই হবে না।

girl-watching-sunrise-lovesove

[পরীক্ষার ভয়ে ভীত সন্তান? সুরাহার পথ দেখাচ্ছেন গবেষকরা]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *