অনুগামীরা সব বেপাত্তা, সিবিআইয়ের ডাকে হাজির একলা মদন

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: তিনি কি নিঃসঙ্গ? মদন মিত্র আছেন। ‘কুছ পরোয়া নেহি’ মেজাজ আছে, অথচ সঙ্গে একজনও অনুগামী নেই? এ দৃশ্য বিরল! তাও আবার তাঁরই হোমগ্রাউন্ড লাগোয়া নিজাম প্যালেসে। যেখানে বুধবার তিনি পা রাখলেন সিবিআইয়ের ডাকে। নারদ কাণ্ডে।

ইতিমধ্যে অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলায় নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্রর। ছিলেন বিচারাধীন বন্দিও। সে সময় তাঁকে যখন তদন্তের মুখে পড়তে হয়েছে, অসংখ্য গুণগ্রাহী-অনুগামী সমেত দেখা গিয়েছে তাঁকে। স্বমহিমায় তিনি হাজির হয়েছেন সিবিআই দফতরে। তাঁকে ঘিরে ধরে নামগান করছেন সমর্থকরা। সেই তিনিই এবার নারদ কাণ্ডে সমন পেয়েছেন। এদিনই হাজিরা দেন। দেখা গেল গাড়ি থেকে নামলেন। কিন্তু নামলেন একা। সঙ্গী বলতে নতুন দুধ সাদা গাড়ির চালক। সামনে পিছনে আর কেউ নেই। নেই একজন অনুগামীও!

[ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবের নামে যুবককে প্রতারণা, পুলিশের জালে ২ তরুণী]

হলটা কী মদন মিত্রর? নিন্দুকে বলছে, ‘প্রভাবশালী’ তকমা এড়াচ্ছেন মদন। একবার অর্থলগ্নি সংস্থার তদন্তে নাম জড়িয়ে তাঁর ইমেজে যে দাগ লেগেছে, তাকে যেনতেন প্রকারে মুছতে মরিয়া তিনি। মাটিতে নেমে নতুন করে কাজ শুরু করেছেন। সেই পরিস্থিতি যাতে আর কোনওভাবে নতুন মোড় না নেয়, তাঁকে ঘিরে জনসমর্থনের ঢেউ অন্তত যাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সামনে আর না ধরা পড়ে, তাই এই প্রয়াস।

এদিন দুপুর ১২টার পর নিজাম প্যালেসে প্রবেশ করেন মদন মিত্র। পরনে স্রেফ একটা সাদা ফতুয়া। ইদানীং একাধিক অনুষ্ঠানে রঙিন সাজে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে রাজ্য সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রীকে। পরনে কখনও হলুদ, কখনও লাল, কখনও সবুজ পাঞ্জাবি। সঙ্গে সানগ্লাস। যেখানে গিয়েছেন সঙ্গী অসংখ্য গুণগ্রাহী। প্রচুর সমর্থক।

গোটাটাই কি তদন্তকারী সংস্থার সামনে সাধারণ এক ব্যক্তির ভাবমূর্তি তুলে ধরতে? রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন কেউ কেউ। সদ্য প্রয়াত হয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ার কংগ্রেস বিধায়ক মধুসূদন ঘোষ। তাঁর জায়গায় মদন মিত্রর নাম উসকে দিচ্ছেন তৃণমূলেরই কেউ কেউ। কামারহাটি হোক বা নোয়াপাড়া, নতুন করে তিনিও যে জনসংযোগ বাড়ানোর কাজ শুরু করেছেন, তা স্বীকার করে দলের ইঙ্গিতকে নির্দেশ করেছেন। মদনকে তৃণমূল ভবনে নিয়মিত বসার নির্দেশও দিয়েছে দল। করা হয়েছে কোর কমিটির সদস্যও। এসবই কি নোয়াপাড়ায় তাঁকে প্রার্থী করার ইঙ্গিত। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে তা নিয়ে মন্তব্য এড়িয়েছেন মদন। স্রেফ বলেছেন, “এসব দলের ব্যাপার। আমি একান্ত অনুগত সৈনিক। এসব নিয়ে কোনও নির্দেশ আসেনি। দল যতটুকু বলবে, ততটুকুই করব।”

তার পরই এদিন একেবারে সাদামাটাভাবে তাঁর নিজাম প্যালেসে হাজিরা। যাকে তাঁর পুরনো মহিমান্বিত আবির্ভাবের সঙ্গে মেলাতে পারছেন না তাঁর দলেরই নেতারা। অভিজ্ঞ মহলের ব্যাখ্যা, দল যদি তাঁকে নিয়ে এই মুহূর্তে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়ও, সেক্ষেত্রে তাঁকে বাজিয়ে দেখে নিতে চাইবে। তার মধ্যে এদিনের সমন। নারদ কাণ্ডে তাঁকে দেখা যাচ্ছে টাকা নিতে। এর কার্যকারণ ব্যাখ্যা চাইতেই এদিন তাঁকে সাড়ে ছ’ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা।

কেরিয়ারের দ্বিতীয় ভাগে তাঁকে নিয়ে দলের এক অংশে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রভাব প্রতিপত্তিহীন চেহারাটাই তাঁর কাজে দেবে বলে মনে করছে অভিজ্ঞমহল। তিনি নিজে কী বলছেন? “এই প্রশ্নের কোনও জবাব দেব না” মুচকি হেসে গাড়ির কাচ তুললেন মদন!

[বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ‘অপারেশন ইনসানিয়ত’ শুরু করল ভারত]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *