গ্রেপ্তার খাগড়াগড় বিস্ফোরণের মূলচক্রী বুরহান শেখ

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অবশেষে পুলিশের জালে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের মূলচক্রী বুরহান শেখ। বৃহস্পতিবার শিয়ালদহের মুচিপাড়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।

ফের আগুন কলকাতা বিমানবন্দরে, আতঙ্কে যাত্রীরা ]

খাগড়াকণ্ডের তদন্তে নেমে এই বুরহান শেখকেই মাথা হিসেবে চিহ্নিত করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। জানা যায়, বর্ধমানের মঙ্লকোটে পুরো জঙ্গি নেটওয়ার্ক সাজানোর নেপথ্যে ছিল এই বুরহানই।  জানা যায়, শিমুলিয়ায় সে মাদ্রাসা খোলে। সেখানে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি মহিলাদেরও ধর্মশিক্ষার নামে জেহাদের পাঠও দেওয়া হত। এমনকী তাদের দেওয়া হত অস্ত্রশিক্ষার প্রশিক্ষণও। বাংলাদেশের জেএমবি জঙ্গিদের সঙ্গে এই মাদ্রাসার যোগাযোগও তারই দৌলতে। জঙ্গিদের যে মডেল খাগড়াগড়ে তৈরি হয়েছিল, তার মূল ভাবনা ছিল এই জঙ্গিরই। আরও একটি মাদ্রাসা খুলে নেটওয়ার্ক বাড়ানোর ছক ছিল তার। তবে তার আগেই বিস্ফোরণের জেরে তা বানচাল হয়। তদন্তে নেমে এনআইএ এই বিরাট চক্রের সন্ধান পায়। এই জঙ্গির মাথার দাম ধার্য হয়েছিল তিন লক্ষ টাকা। দীর্ঘদিন ফেরার থাকার পর অবশেষে কলকাতা পুলিশের সাহায্যে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হল।

সেনার গুলিতে অমরনাথ হামলার মূলচক্রী আবু ইসমাইল খতম ]

২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিকভাবে বাজির বিস্ফোরণ বলে অনুমান করা হয়। কিন্তু কেঁচো খুড়তেই কেউটে বেরিয়ে আসে। জানা যায়, তলে তলে বিরাট জঙ্গি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছিল মাদ্রাসাকে সামনে রেখেই।  যার মূল পান্ডা ছিল এই বুরহান শেখ।  মঙ্গলকোটের শিমুলিয়ার তার মাদ্রাসা থেকে প্রচুর বিস্ফোরক নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছিলেন তদন্তকারীরা।  বিস্ফোরণের পরই বাংলাদেশে গা ঢাকা দেয় বুরহান শেখ।  যদিও তদন্তকারীরা পিছু ছাড়েনি।  বাংলাদেশ থেকে সে কলকাতায় আসতে পারে এমনটাই আন্দাজ করা হয়েছিল।  সেইমতো তৈরি ছিলেন কলকাতা পুলিশের দুঁদে গোয়েন্দারা।  বৃহস্পতিবার শিয়ালদহের মুচিপাড়া থেকে তাকে জালে তুললেন গোয়েন্দারা। বুরহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দেশে জঙ্গি নেটওয়ার্কের আরও হদিশ মিলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *