বর্ষার শুরুতেই তিলোত্তমায় বিপর্যস্ত জনজীবন

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আকাশ কালো করে এক ঘণ্টা মুষলধারায় বৃষ্টি। বানভাসি কলকাতা। উত্তর থেকে দক্ষিণ, রাস্তায় প্রায় হাঁটুজল। যানবাহন তো বটেই, বৃষ্টির জন্য হাওড়া ও শিয়ালদহে ধীরগতিতে চলছে ট্রেনও। বিপর্যস্ত জনজীবন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর ও সেচ দপ্তরকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। নবান্নে কন্ট্রোলরুম থেকে চলছে নজরদারি। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কলকাতা ও লাগোয়া জেলায় ঢুকে পড়েছে বর্ষা। বাংলাদেশ লাগোয়া ত্রিপুরায় সক্রিয় ঘুর্ণাবর্তও। তাই বুধবার পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে। উত্তরবঙ্গেও জারি বৃষ্টির সতর্কতা।

[বরানগরে ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার মহিলার ঝুলন্ত দেহ, গ্রেপ্তার স্বামী]

এখন আবহাওয়ার মতিগতি বোঝা দায়! গত বছর পর্যন্তও উত্তরবঙ্গ দিয়েই রাজ্যে ঢুকেছে বর্ষা। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছিলেন, উত্তরবঙ্গের চেনা পথে রাজ্যে বর্ষা ঢুকতে আরও দিন তিনেক সময় লাগবে। কিন্তু, শেষমুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে দক্ষিণবঙ্গ দিয়ে রাজ্যে ঢুকে পড়ল বর্ষা। ফলে উত্তরবঙ্গে এখনও বৃষ্টি দেখা নেই। কিন্তু ভিজতে শুরু করেছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ। রবিবার দুপুরেও তুমুল বৃষ্টি হয়েছে কলকাতায়। তবে বিক্ষিপ্তভাবে কয়েক জায়গা জল জমলেও, মোটের পর স্বাভাবিকই ছিল জনজীবন। কিন্তু মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে ভেসে গেল তিলোত্তমা।

এদিন দুপুরে আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামে শহরে। এক ঘণ্টা পর যখন বৃষ্টি থামল, তখন উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতায় প্রায় সব রাস্তাই জলের তলায়। জল জমেছে বেহালা, রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, গল্ফগ্রিন, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, কাঁকুড়গাছি-সহ সর্বত্রই। জলমগ্ন রাস্তায় ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। শহরের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার ডাফরিন রোডে আবার গাছ ভেঙে বেশ কিছুক্ষণ যানচলাচল বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। বৃষ্টিতে হাওড়া ও শিয়ালদহে ট্রেনের গতিও মন্থর। সবমিলিয়ে রাজ্যে বর্ষা প্রবেশ করার পর, প্রথম বৃষ্টিতেই কলকাতায় বিপর্যস্ত জনজীবন। তবে শুধু এ শহরেই নয়, মঙ্গলবার বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায়ও। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।এদিকে বর্ষা পরিস্থিতি মোকাবিলা তৎপর প্রশাসনও। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর ও সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের রাস্তা নামার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। নবান্নে কন্ট্রোল রুম থেকে চলছে নজরদারিও।

[শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড নিয়ে জন্ম, বাঁচানো গেল না মেদিনীপুরের বিরল শিশুকে]

ছবি- পিন্টু প্রধান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *