মুম্বই কাঁটায় বিদ্ধ হয়ে আইপিএল থেকে বিদায় নিল নাইটবাহিনী

কলকাতা নাইট রাইডার্স: ১০৭ (সূর্যকুমার-৩১)

মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: ১১১/৪ (ক্রুনাল- ৪৫*)

৬ জয়ী মুম্বই ইন্ডিয়ান্স

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাত ৮টায় মেঘলা আকাশ৷ রাত দশটায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বষ্টি৷ নাহ্৷ এসব পূর্বাভাসকে মিথ্যে প্রমাণ করে আইপিএল-এর এলিমিনেটর ম্যাচ হল নির্বিঘ্নেই৷ কিন্তু আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মতোই আরও একটা স্বপ্ন মিথ্যে হয়ে গেল৷ কিং খান থেকে কেকেআর ভক্তরা তৃতীয়বার ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে বুঁদ হয়েছিলেন৷ কিন্তু মুম্বই কাঁটা সেই বিঁধেই গেল৷ চলতি টুর্নামেন্টে ‘থার্ড টাইম লাকি’ হওয়া হল না গৌতম গম্ভীরের৷ সমর্থকদের স্বপ্ন মিথ্যে প্রমাণ করেই এবারের মতো আইপিএল-কে বিদায় জানাল নাইটবাহিনী৷ আর দু’বারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই চতুর্থবার আইপিএল ফাইনালের টিকিট পাকা করে ফেলল৷

[বিরাটের নতুন ফ্যান এই খুদে! দেখুন তো চেনেন কিনা?]

CI1I1898

চিন্নাস্বামী বোলিং সহায়ক উইকেট বলেই পরিচিত৷ শুক্রবার কলকাতা ও মুম্বই দু’পক্ষের ইনিংস দেখার পর তেমনটাই ফের স্পষ্ট হল৷ নাইটদের ব্যাটিং-অর্ডার নিয়ে রীতিমতো ছিনিমিনি খেললেন কর্ণ শর্মা, বুমরাহ, মিচেল জনসনরা৷ চলতি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা জুটির তকমা পাওয়া ক্রিস লিন (৪), সুনীল নারিনের (১০) অসহায় পরিস্থিতি যেন চোখে দেখেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না গ্যালারিতে উপস্থিত শাহরুখ খান৷ কথায় বলে না, বৃথা আশা মরিতে মরিতেও মরে না৷ চরম টেনশনের মুহূর্তে আঙুল কামড়াতে কামড়াতে কেকেআর ভক্তরা ভাবছিলেন, গম্ভীর ও উথাপ্পা নিশ্চয়ই পরিস্থিতি পাল্টে দেবেন৷ কিন্তু তেমনটা হল না৷ কর্ণ শর্মাদের দাপটে ৩১ রানে পাঁচ-পাঁচটি উইকেট খুইয়ে বসল কলকাতা৷ আর তখনই যেন জয়ের আশা শেষ হয়ে গেল৷ চিন্নাস্বামীর বুকে এক মুহূর্তের জন্য ভেসে উঠল ইডেন গার্ডেন্সের ছবি৷ ব্যাঙ্গালোর বনাম কলকাতা ম্যাচের মতো ফল হবে না তো? যেখানে বিরাটদের মাত্র ৪৯ রানে গুটিয়ে দিয়েছিলেন নারিনরা! সেই লজ্জার হাত থেকে অবশ্য দলকে রক্ষা করলেন ইশাঙ্ক জাগ্গি ও সূর্যকুমার যাদব৷ তাঁদের ব্যক্তিগত ২২ ও ৩১ রানেই ১০০-র গণ্ডি টপকায় কলকাতা৷ চারটি উইকেট তুলে নিয়ে নাইটদের ফাইনালে পৌঁছনোর লড়াইয়ের সবটুকু আত্মবিশ্বাস নিংড়ে নিলেন লেগ-স্পিনার কর্ণ৷ তিনটে উইকেট ঝুলিতে ভরেন বুমরাহ৷ দু’টি উইকেট নেন জনসন৷

IMG_2975

গোটা টুর্নামেন্টে গম্ভীরের নেতৃত্ব ও প্যারফরম্যান্স দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে৷ কিন্তু গম্ভীরকে নিঃসন্দেহে একটা বিষয়ই কুড়ে কুড়ে খাবে৷ রোহিত শর্মাকে কেন হারানো গেল না? চেষ্টা তো কম করেননি তাঁরা৷ এদিনও শুরুতেই তিনটে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর দলের বোলাররা৷ সিমন্স ও আম্বাতি রাইডুকে ফেরান পীয়ূষ চাওলা৷ কিন্তু শেষরক্ষা হল না৷ রোহিত শর্মার ২৬ রান ও ঠান্ডা মাথার ক্রুনাল পাণ্ডিয়ার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়েই শেষ হয়ে গেল কেকেআর-এর এবারের সফর৷ রবিবার হায়দরাবাদে পুণের বিরুদ্ধে তৃতীয়বার ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামবেন রোহিত শর্মারা৷ অন্য দিকে, প্রথমবার ট্রফি ঘরে তুলে আইপিএল-কে বিদায় জানাতে বদ্ধপরিকর স্মিথ অ্যান্ড কোম্পানি৷ ধোনি-রোহিত দ্বৈরথে কে শেষ হাসি
হাসে, এখন তারই অপেক্ষা৷

GAZI4548

[জানেন, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের এই ক্রিকেটার ছিলেন রেস্তরাঁ কর্মী?]

ছবি সৌজন্যে BCCI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *