মহিলা পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণেই ছেলের বিয়ে, নজির বিজেপি নেতার  

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিয়ে মানেই এলাহি কাণ্ড৷ আনন্দ, উৎসবের মেজাজ, নিয়ম-কানুন পালনের ধুম৷ কিন্তু এত হইচইয়ের মাঝেও থাকে কিছু বেদনা৷ পুরুষশাসিত সমাজের এমন কিছু আচার-আচরণ থাকে একজন মেয়ের পক্ষে যা হয়ে দাঁড়ায় বিদায়ের চোখের জল৷ দানের সামগ্রী হওয়ার বেদনা৷ এতদিনের কাছের মানুষগুলিকে ছেড়ে যাওয়ার বেদনা৷ কেন? এটাই রীতি৷ এটাই কর্তব্য৷ এমনটাই এতদিন কমবেশি শুনতে হয়েছে এতদিন৷

[লক্ষ্মীবাঈ হতে চেয়ে আইনি গেরোয় কঙ্গনা]

তবে এতদিন যা হয়েছে,  তা এখন পরিবর্তন করা যাবে না এমন তো কোনও কথা নেই৷ চার হাত এক হওয়া নিয়ে কথা৷ তাতে অপ্রয়োজনীয় কয়েকটা নিয়ম না হয় বাদই গেল৷ এমনটাই মনে করেন আশয় সহস্রবুদ্ধে ও শিওয়াড়া চথেওয়ালা৷ নাগপুরের এই দম্পতির বিশ্বাস বিয়ে মানে দু’টি মনের মিলন৷ দুই পরিবারের মিলন৷ এখানে দানপ্রথার কোনও গুরুত্বই নেই৷ কারণ কনে কোনও সামগ্রী নয় যাঁকে দান করা যেতে পারে৷ তাই কন্যাদানের মতো অযাচিত প্রথা বাদ দিয়েই সাতপাকে বাঁধা পড়লেন দু’জনে৷ নিলেন ভবিষ্যত জীবনে একসঙ্গে পথ চলার শপথ৷ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমস্ত বাধা পার হওয়ার শপথ৷

[মার্কিন অভিবাসন দপ্তরের হেফাজতে মৃত্যু ভারতীয় প্রৌঢ়ের]

নবীন প্রজন্মের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন দুই পরিবারের প্রবীণরাও৷ আশয়ের বাবা আর কেউ নন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি বিনয় সহস্রবুদ্ধে৷ আর শিওয়াড়া বিজেপির ফরেন অ্যাফেয়ারস সেলের প্রধান বিজয় চথেওয়ালের কন্যা৷ চাইলে আরও বড় করে ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিতেই পারতেন তাঁরা৷ অনেক হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীরাই তা করে থাকেন৷ কিন্তু সে পথে তাঁরা হাঁটতে নারাজ৷ এলাহি আয়োজনের চাইতে প্রগতিশীল চিন্তাধারাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন তাঁরা৷ সে কারণেই বিয়ের মন্ত্র পড়ার জন্য ডাকা হয়েছিল মহিলা পুরোহিতকে৷ সাধারণত পুরুষ পুরোহিতকেই বিয়েতে দেখতে যাঁরা অভ্যস্ত, তাঁদের চোখে ঐতিহ্য ও প্রগতির মিশেলকে তুলে ধরার এর থেকে ভাল আর উপায় হতে পারে না বলেই মনে করে দুই পরিবার৷

[‘নাম থেকে মহম্মদ হটাও’, পাক নাগরিকের কটাক্ষে কী জবাব কাইফের?]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *