‘ধর্মবিদ্বেষী’ মন্তব্য করার দায়ে পাকিস্তানে তিন বোনের হাতে খুন ব্যক্তি

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মানুষের জন্য ধর্ম না ধর্মের জন্য মানুষ? ধার্মিক ও ধর্মান্ধের মধ্যে যে সীমারেখা ছিল তা ক্রমশ মুছে যাচ্ছে। চরম ধার্মিক উন্মাদনার গ্রাসে আজ বিশ্ব। ক্রমশই বাড়ছে জেহাদিদের প্রভাব। আবারও ধার্মিক উন্মাদনার এক ভয়াল রূপ প্রকাশ পেল পাকিস্তানে। ১৩ বছর আগে ‘ধর্মবিদ্বেষী’ মন্তব্য করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গুলি করে খুন করল তিন বোন। বুধবার এই ঘটনাটি ঘটে পাকিস্তানের শিয়ালকোটের নঙ্গল মির্জা গ্রামে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আমনা, আফসান ও রাজিয়া নামের ওই অভিযুক্তদের।

[২৩ এপ্রিল রাজ্য জয়েন্ট, পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ পেন ও ঘড়ি]

পুলিশ সূত্রে খবর, তিন অভিযুক্ত, ফজল আব্বাস নামের ৪৫ বছরের এক ব্যক্তিকে খুন করে। আব্বাসের বাবা মাজহার হুসেন সইদ প্রার্থনার মাধ্যমে লোকের রোগ সরানোর কাজ করেন। জানা গিয়েছে, বুধবার ওই তিন বোন মাজহার হুসেনের বাড়ি যান। সেখানে হুসেনকে তাদের জন্য প্রার্থনা করতে বলে তিন অভিযুক্ত। প্রার্থনার পর তারা মাজহারের ছেলে আব্বাসের সঙ্গে দেখা করতে চায়। বাড়ির ভেতর থেকে আব্বাস বেরিয়ে এলে বুরখা পরিহিতা তিন বোন তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাটিতে লুটিয়ে পরেন আব্বাস। সঙ্গে সঙ্গে  মৃত্যু হয় তাঁর। তারপরই উল্লাসে ফেটে পরে অভিযুক্তরা ।

[যুদ্ধের জন্য লাল ফৌজকে তৈরি হওয়ার নির্দেশ চিনা প্রেসিডেন্টের]

পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে ওই তিন বোন জানিয়েছে, ২০০৪ সালে ধর্মবিদ্বেষী মন্তব্য করেছিলেন আব্বাস। সে সময় ছোট থাকায় তাঁকে হত্যা করতে পারেনি তারা। জানা গিয়েছে, ওই বছরই তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগ দায়ের হওয়ায় পাকিস্তান ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যান আব্বাস। সম্প্রতি দেশে ফিরছিলেন তিনি। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইসলামের অবমাননা করার অভিযোগে পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত লোকেদের সংখ্যা কয়েকশো। একটি রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ১৯৯০ সাল থেকে ধর্মের অবমাননা করার দায়ে ওই দেশে হত্যা করা হয়েছে প্রায় ৬৫ জন লোককে।

[আপনার লেবু জলের গেলাসে টুকরো বরফখানা মর্গ থেকে আনা নয়তো!]

প্রসঙ্গত, গতসপ্তাহে একটি পাকিস্তানি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠিদের হাতে খুন হয়েছিলেন মাশাল খান নামের এক ছাত্র। তিনি নাকি ইসলামের অবমাননা করেছেন। তাই তাঁকে নির্মম ভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, ইসলামিক উগ্রপন্থীদের সন্তুষ্ট করতে পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ঘোষণা করেছেন যে ধর্মের অবমাননা করলে কড়া সাজা পেতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *