মৃতদেহ নিয়ে মোর্চার রাজনীতি, পাহাড়ে ধিক্কার মিছিল

সব্যসাচী ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: পুলিশের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ। তার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ধিক্কার মিছিলেও মৃতদেহ ঘিরে রাজনীতি। ২ সমর্থকের দেহ নিয়ে দার্জিলিংয়ে মিছিল বের করে মোর্চা। মুখে নীরব প্রতিবাদের কথা বললেও, পাহাড় জুড়ে বিমল গুরুয়ের অনুগামীদের তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। মোর্চার আন্দোলনের পাশাপাশি তৃণমূলের ঘরেও ভাঙন ধরেছে। পুলিশের গুলি চালানোয় অভিযোগ জানিয়ে ঘাসফুল শিবির ছাড়লেন কালিম্পিংয়ের এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা।

[ডুয়ার্সে মোর্চার বনধে স্তব্ধ জয়গাঁ সীমান্ত, চা-বাগানে প্রভাব]

নতুন করে রক্ত না ঝরলেও রবিবার থমথমে ছিল পাহাড়। শনিবার যে এলাকা ঘিরে অশান্তির ঘনঘটা, সেই সিংমারিতে ছিল কড়া পুলিশি প্রহরা। তিন দলীয় সমর্থকের মৃত্যুর দাবি জানিয়ে রবিবার পাহাড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন বিমল গুরুং। দলীয় সভাপতির নির্দেশমতো রবিবার সকালে পথে নামে মোর্চা সমর্থকরা। তবে এই প্রতিবাদ মিছিলেও মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি শুরু করে গুরুংয়ের দল। শনিবার তারা তিন দলীয় সমর্থকের মৃত্যুর দাবি করেছিল। কিন্তু রবিবার দেখা গেল দুই কর্মীর মৃতদেহ তারা নিয়ে আসে। চকবাজারে কালো পতাকা নিয়ে ধিক্কার মিছিল করে মোর্চা। বিমল গুরু পাহাড়বাসীকে পথে নেমে প্রতিবাদের আবেদন জানালেও মিছিলে সাধারণ মানুষকে সেভাব দেখা যায়নি। তবে মোর্চার এই মিছিলের আগে দার্জিলিংয়ের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন শান্তি মিছিল করেন। দার্জিলিংয়ে মৌন মিছিল করলেও, পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় মোর্চার জঙ্গিপনা এদিনও জারি ছিল। শনিবার রাতে কালিম্পংয়ে দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে মোর্চা সমর্থকদের বিরুদ্ধে। রবিবার কালিম্পংয়ের একটি লাইব্রেরিতে আগুন ধরানো হয়।

[গোপন আস্তানা থেকে প্রত্যাঘাতের ডাক গুরুংয়ের]

মোর্চার আন্দোলন বেলাগাম। পুলিশের গুলি চালানো নিয়ে তরজা। এরই মধ্যে শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়ালেন গোউলান লেপচা। পাহাড়ে গুলি চালানোর প্রতিবাদে কালিম্পংয়ের এই তৃণমূল নেতা দল ছাড়লেন। গোউলান জিএনএলএফের প্রতীকে তিনবার বিধায়ক হয়েছিলেন। প্রাক্তন এই বিধায়কের বক্তব্য, পুলিশের এই পদক্ষেপ পাহাড়ের ইতিহাসে কালো দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *