রোজভ্যালি কাণ্ডে টালিগঞ্জের জনপ্রিয় নায়িকাকে ডাকছে সিবিআই

স্টাফ রিপোর্টার: রোজভ্যালি কাণ্ডে টালিগঞ্জের দাপুটে, জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে ডাকছে সিবিআই৷ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদর দফতর থেকে সোমবারই এ বিষয়ে সবুজ সংকেত পেয়েছেন রোজভ্যালি কাণ্ডের তদন্তকারী অফিসাররা৷ রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুর সঙ্গে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেত্রীর যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও অভিযোগ৷ এমনকী, এই ঘনিষ্ঠতার জেরেই স্ত্রীর সঙ্গেও গৌতমের অশান্তি সৃষ্টি হয়েছিল৷

কলকাতার পাশাপাশি মুম্বই, লন্ডন ও সিঙ্গাপুরেও রোজভ্যালির কর্ণধারের সঙ্গে ওই অভিনেত্রী বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য পৌঁছেছে৷ সিবিআই জানতে পেরেছে, এই অভিনেত্রীর সূত্র ধরেই বিদেশে হাওলা মারফত রোজভ্যালির টাকা পাঠানো হয়েছে৷ বস্তুত, এই কারণে অভিনেত্রীকে ডেকে সূত্র ও তথ্যগুলির সত্যতা যাচাই করতে চাইছে সিবিআই৷

(এবার কলকাতায় বাসে চড়ুন মাত্র ১ টাকায়)

টলিউডের দাপুটে অভিনেত্রীকে অবশ্য রাজনৈতিক মঞ্চে কখনও দেখা যায়নি বলে সিবিআই সূত্রে খবর৷ রোজভ্যালির বিষয়ে তদন্ত শুরুর পর একে একে নানা তথ্য হাতে আসায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরে ছিলেন এই অভিনেত্রী৷ তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পেরেছেন রোজভ্যালির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি রূপায়নে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী৷ তদন্তে সিবিআই জেনেছে, রোজভ্যালি বিভিন্ন জায়গা থেকে যত টাকা আয় করেছে বা সম্পত্তি হস্তান্তর করে যে টাকা পেয়েছে ও পাচ্ছে তা ওই নায়িকার মাধ্যমেই বিদেশে তাঁর আত্মীয়র অ্যাকাউণ্টে জমা হয়েছে৷ গোয়েন্দাদের কাছে খবর, বেশ কয়েকবার ওই নায়িকার হাত ধরে বিদেশে রোজভ্যালির টাকা পাঠানো হয়েছে৷

টলিউড কাঁপানো ওই নায়িকার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও সিবিআই কর্তারা সন্দেহ পোষণ করেছেন৷ কারণ যেভাবে সিঙ্গাপুর, লন্ডনের মতো শহরে ওই অভিনেত্রী গিয়েছেন এবং টাকা খরচ করছেন, তা গোয়েন্দাদের কাছে যথেষ্ট সন্দেহের৷ প্রয়োজনে অভিনেত্রীর রোজগার ও খরচের সামাঞ্জস্য দেখতে আয়কর দফতরেরও সাহায্য নেবে সিবিআই৷

(টিকিট, কার্ডের ঝামেলা ছেড়ে স্মার্ট হচ্ছে কলকাতা মেট্রো)

তবে অভিনেত্রীকে কলকাতা না ভুবনেশ্বরে তলব করা হবে তা নিয়ে দু’-একদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেবেন সিবিআই গোয়েন্দারা৷ সিবিআইয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই নায়িকা রোজভ্যালির একটি সিনেমা অল্প দামে কেনেন৷ খাতায় কলমে কম দাম দেখানো হলেও বাস্তবে তার জন্য মোটা অঙ্কের লেনদেন হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারী অফিসাররা৷ এবিষয়ে তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বলেও সিবিআইয়ের তরফে দাবি করা হয়েছে৷

ওই নায়িকার সন্দেহজনক একাধিক কার্যকলাপের পরই তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখা শুরু করেন সিবিআই অফিসাররা৷ সিবিআই সূত্রে খবর, রোজভ্যালি কাণ্ডের নাম জড়ানোর পরই টলিউডের ওই নায়িকা দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলেন৷ অভিনেত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউণ্ট সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় করার কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন তদন্তকারীরা৷ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ২০১১ থেকে ২০১৪-র লেনদেনের হিসাব চেয়ে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ ওই অভিনেত্রীকে ডেকে তাঁর অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন তথ্য চাইবেন সিবিআই কর্তারা৷

(নরেন্দ্র মোদিকে ন্যাড়া করে, কালি ঢালার ফতোয়া বরকতির)

২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়কালে অভিযুক্ত অভিনেত্রী কোথাও কোনও সম্পত্তি কিনেছেন কি না, কিনলে সেই সম্পত্তির পরিমাণ, কোথাও ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন কি না, বা কোথাও টাকা হস্তান্তর (অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হোক বা নগদে) করেছেন কি না– তাও খতিয়ে দেখে পুরো বিষয়টি ওই অভিনেত্রীর কাছ থেকে জানবেন সিবিআই কর্তারা৷

সিবিআই জানতে পেরেছে, রোজভ্যালি কর্তা গৌতম কুণ্ডুর সঙ্গে টলিউড ও বলিউডের বেশ কয়েকজন গ্ল্যামার কুইন সবসময় ঘনিষ্ঠ হয়ে থাকতেন৷ গৌতম কুণ্ডুর টলিউডে প্রবেশের চাবিকাঠি ছিলেন মূলত এই অভিনেত্রী৷ তাঁর সূত্র ধরেই টলিউডে নিজের জমি শক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন গৌতম৷ গৌতম কুণ্ডুর মুম্বই, দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর বা অন্যান্য যে ফ্ল্যাট ছিল সেখানে মাঝেমাঝেই যেতেন টলিউডের এই নায়িকা৷ এই দাপুটে নায়িকা ছাড়াও আরও দু’-একজন মাঝারি মানের অভিনেত্রীকেও ডাকবে সিবিআই৷ ডাক পেতে পারেন বলিউডের কয়েকজন মাঝারি মানের অভিনেত্রীও৷

(রোজভ্যালি তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়, ইডি-র নাম করে ভুয়ো চিঠি সিবিআইকে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *