চিনে পাচারের পথে ১০০ কোটির সাপের বিষ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার: বঙ্গোপসাগর থেকে জলদস্যুদের লুঠ করা একশো কোটি টাকার সাপের বিষ উদ্ধার করল সীমা সুরক্ষা বল (এসএসবি)-এর জওয়ানরা। বাংলাদেশ থেকে এরাজ্যে হয়ে ওই বিষ পাচার হচ্ছিল চিনে। তবে মাঝপথেই ধরা পড়ে গেল পাচারকারীরা। মঙ্গলবার, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত থেকে তিনটে বিষের পাত্র সমেত তিন পাচারকারীকে পাকড়াও করলেন সীমা সুরক্ষা বলের জওয়ানরা। সঙ্গে ছিল বনদপ্তর, সিআইডিও। তিনটি বুলেট প্রুফ বেলজিয়াম কাচের সিল করা পাত্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ছ’পাউন্ড গোখরোর বিষ। ওই বুলেট প্রুফ পাত্রগুলির প্রত্যেকটির দাম ৪৫ লক্ষ টাকা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এদিন ফাঁদ পেতে এই পাচারকারীদের ধরা হয়। বুধবার এই তিনজনকে আদালতে পেশ করা হবে।

[লালসা মেটাতে অনাথ আশ্রমের নাবালিকাদের ধর্ষণ করত রাম রহিম]

একটি মারুতি আই টেন গাড়িতে করে এদিন সাপের বিষ ভরা পাত্রগুলি নিয়ে দমদম বিমানবন্দরে যাচ্ছিল তিন পাচারকারী। বারাসতের রথতলা মোড়ের কাছে তাদের আটকায় এসএসবি, বনদপ্তর ও সিআইডি। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ওই তিনটি বুলেট প্রুফ পাত্র উদ্ধার হয়। উত্তর ২৪ পরগনার ডিএফও মানিক সরকার জানিয়েছেন, “তিনটি পাত্রে তিন রকম বিষ পাওয়া গিয়েছে। তরল, পাউডার ও ক্রিস্টাল। এই তিনটির আনুমানিক বাজার মূল্য একশো কোটি টাকা।” এসএসবির ৬৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমানড্যা্ন্ট ডি কে সিং জানিয়েছেন, “সম্প্রতি একটি জাহাজে করে ফ্রান্স থেকে জাপানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এই বিষের পাত্রগুলি। বঙ্গোপসাগরে সেই জাহাজটি লুঠ করে জলদস্যুরা। ওই লুঠ হওয়া বিষের পাত্র বিভিন্ন হাত ঘুরে বাংলাদেশে পৌঁছয়। সেখান থেকে চোরাপথে এরাজ্যে ঢোকে। এই তিন পাচারকারী ওই তিনটে বিষের পাত্র দমদম বিমানবন্দরে অন্য এক দলের হাতে তলে দিত। তারা এগুলি চিনে পাচার করত।”

[কোনও ধাপ্পাবাজি নয়, এরকম গোলাপি নদী দেখেছেন কখনও?]

এসএসবি ও বনদপ্তর সূত্রে খবর, চিনের কালোবাজারে ব্যাপক চাহিদা এই বিষের। ওষুধ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন মাদক তৈরির কাজেও ব্যবহার হয় এই বিষ। মূলত দুরারোগ্য অসুখের ওষুধ তৈরি হয় এই বিষ থেকে। বনদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ধৃত তিনজনের মধ্যে একজন ডেবরার বাসিন্দা। বাকি দু’জন মধ্যমগ্রাম আর টালিগঞ্জের। বুধবার তাদের বারাসত আদালতে পেশ করা হবে।

তদন্তকারীদের থেকে জানা যায়, সাপের বিষ মূলত তরল পদার্থে থাকে। সেগুলি শুকিয়ে পাউডার আর ক্রিস্টালে রূপান্তর করা হয়। ওষুধ তৈরি করতে বিষের এই তিনটি ধরনই প্রয়োজন হয়। এর আগেও শিলিগুড়ি থেকে এধরনেরই সাপের বিষের পাত্র উদ্ধার করা হয়। তবে এসএসবি সূত্রে খবর, এই দলের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। তবে তাদের ধরা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *