প্রয়াত মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন সাংসদ মান্নান হোসেন

কল্যাণ চন্দ, বহরমপুর: প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মান্নান হোসেন। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের দুবারের সাংসদ মান্নান দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। কিডনি বদল করেও শেষরক্ষা হল না। সোমবার বিকেলে মৃত্যু হয় তাঁর।

[বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের টাকা খরচে পিছিয়ে দিলীপ ঘোষ, ‘ফার্স্ট বয়’ বিক্রম]

mannan

মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নাম মান্নান হোসেন। ১৯৫২ সালের ১৫ অক্টোবর তাঁর জন্ম হয়েছিল বহরমপুরের রাধারঘাট এলাকায়। কৃষ্ণনাথ কলেজে পড়াশোনার সময় ছাত্রী রাজনীতিতে হাতেখড়ি। করতেন ছাত্র পরিষদ। দ্রুত জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের নজরে চলে আসেন। ১৯৭৮ সালে মান্নান সাহেব প্রথমবার কংগ্রেসের টিকিটে জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার হন বিধায়ক। মান্নানের হাত ধরেই অধীর চৌধুরী কংগ্রেসে আসেন। দুই নেতার জন্য মুর্শিদাবাদে দাপট দেখায় কংগ্রেস। ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটে সিপিএমের মইনুল হাসানকে হারিয়ে সাংসদ হন মান্নান। ২০০৯ সালেও জয়যাত্রা জারি ছিল। তবে গত লোকসভা ভোটে অবশ্য অল্প মার্জিনে হেরে যান। এরপর থেকেই অধীর চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়ে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। কংগ্রেসে দীর্ঘদিন থাকলেও সেভাবে কোনও বড় সাংগঠনিক পদ পাননি। তবে তৃণমূলে যোগ দিয়েই তিনি জেলা সভাপতির দায়িত্ব পান। তাঁর জমানায় তৃণমূল মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ দখল করে। পায় একাধিক পুরসভা। প্রাক্তন সহযোদ্ধা তথা রাজনৈতিক গুরুর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। মান্নানের একদা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তথা সিপিএম নেতা মইনুল হাসানের বক্তব্য, দুঃখজনক ঘটনা। জেলা রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন মান্নান। প্রাক্তন সাংসদের দুই ছেলে সৌমিক ও রাজীব তৃণমূল কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। পেশায় শিক্ষক ছিলেন মান্নান হোসেন।

[পথ দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন শুভেন্দু অধিকারী]

প্রয়াত নেতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে মান্নান সাহেব কিডনি সংক্রান্ত সমস্যায় বেশ কয়েক বছর ধরে ভুগছিলেন। নিয়মিত ডায়ালিসিস চলছিল। গত মাসে তিনি কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে কিডনি পালটান। তারপরও বাঁচানো গেল না। মঙ্গলবার রাতে তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়া হবে বহরমপুরে। বুধবার সকাল ১০টায় তাঁর মরদেহ বহরমপুরে দলীয় কার্যালয়ে রাখা থাকবে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন তাঁর অনুগামীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *