সবুজে ঘেরা স্বপ্নের দেশ

হিমি মিত্র রায়: ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ একদিন সপরিবার ঘুরে এলাম ঝান্ডি৷ ডুয়ার্সের নাম না-জানা অচেনা জায়গাগুলো দু’একবছর হল প্রচারের আলোয় আসা শুরু করেছে৷ লুকনো পাহাড়ের খাঁজ, পাহাড়ি ঝোরা, রংবাহারি কত ফুলের পসরায় সাজানো বাগান এই ঝান্ডি৷ সকাল সকাল রওনা হলাম ছুটির দিনে৷ মালবাজার থেকেই প্রকৃতির নিসর্গে ভরপুর৷ চা-বাগান শুরু হতেই সবুজে চোখ জুড়িয়ে যায়, রাস্তার একপাশে সুন্দর চা-বাগিচা, উল্টোদিকে এক সারিতে ছোট ছোট কোয়ার্টার, যেন কেউ সাজিয়ে রেখেছে যত্ন করে, ভারি সুন্দর লাগে দেখে৷ সকালে ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলেই সবুজ বাগান দেখলে মনটা এমনিই ভাল হয়ে যায়৷ নাকে ভেসে আসে চা গাছের গন্ধ৷ এই কাঁচা গন্ধের এক অদ্ভুত টান৷ গাড়ি চলতে থাকে, একটা চা-বাগান পেরিয়ে কিছুটা গিয়ে লোহার ব্রিজ দেখতে পেলাম৷ গন্তব্যের নাম গরুবাথান৷ বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে ছোট ছোট বসার জায়গা করে দিয়ে দোকানি পশরা সাজিয়ে বসে আছে, পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে চেল নদী৷ এই পাহাড়ি নদী একসময় খুব ভয়ানক আকার ধারণ করত, ভাসিয়ে দিত গোটা অঞ্চল৷ এখন সেরকম হয় না, তবে শোনা যায় এই নদী অতিরিক্ত জলের ভারে ভাসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে বিস্তীর্ণ এলাকা৷

jhandi-2-web

গাড়ি দাঁড় করিয়ে স্থানীয় দোকানে ধোঁয়া ওঠা মোমো অর্ডার দিলাম৷ চেল নদীর পাশে খুব সুন্দর পাথরে ঘেরা নদীর পাড়ে বসে ঝাল সস সহযোগে মোমো খেলাম৷ অপূর্ব সে স্বাদ৷ কিছুক্ষণ আগে থেকেই হালকা পাহাড় দেখা যাচ্ছিল, আস্তে আস্তে গাঢ় হতে হতে গরুবাথানের অনেকটা সামনে চলে এল৷
গরুবাথান থেকে ঝান্ডির রাস্তা হঠাৎ করে উচ্চতা নিয়ে নেয়৷ কিছুদূর ওঠার পর বেশ খারাপ রাস্তা, সাবধানে উঠতে হয়৷ তবে এদিক দিয়ে গাড়ি কমই চলে, অন্য রাস্তা দিয়েই মানুষের আনাগোনা বেশি৷ দু’ধারের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে একসময় দেখা যায় ঝান্ডি ইকো হাটের গেট স্বাগত জানাচ্ছে আমাদের৷ রংবেরঙের পতাকা উড়তে দেখা যায় আকাশে মিশে যাওয়া জায়গা ঘিরে৷ রৌদ্রোজ্জ্বল দিনের দুধসাদা কাঞ্চনজঙ্ঘা তার ঝাঁপি খুলে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য৷ ঘণ্টার পর ঘণ্টা তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে ইচেছ করছিল আমার৷ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলাম কতক্ষণ, তা খেয়াল নেই৷

jhandi3_web
আগে থেকে ফোন করে বুকিং করা ছিল আমাদের৷ স্থানীয় গৃহকর্ত্রী হাসি মুখে স্বাগত জানাল আমাদের৷ গরম গরম চা খেতে খেতে পাহাড়ি পরিবেশে সময় কাটছিল দারুণ৷ সুন্দরভাবে সাজানো একুশটি কটেজ রয়েছে এখানে৷ প্রচুর ট্যুরিস্ট আসে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে৷ ওপরে ভিউ পয়েন্ট থেকে পাহাড়ে ঘেরা জায়গা আর সঙ্গে বয়ে চলা নদীর আঁকিবুকি দেখে মনটা ভাল হয়ে যায়, যেন আকাশ ছুঁয়ে আছি মনে হয়৷

দুপুরের খাওয়া সারলাম একেবারে বাঙালি খাবার দিয়ে৷ গরম গরম সাদা ভাত, আলু ভাজা, পাঁচমিশেলি তরকারি, চিকেন আর স্যালাড, আচার দিয়ে৷ জানলা দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা উঁকি দিচ্ছিল বারবার৷ সপরিবার ঘুরে আসার জন্য এই ঝান্ডি ইকো হাট এককথায় অনবদ্য৷

jhandi-4_web

কীভাবে যাবেন
এন. জে. পি. থেকে সেবক, ওদলাবাড়ি, গরুবাথান হয়ে লাভা হয়ে যাওয়ার রাস্তাই ঝান্ডি যাওয়ার জন্য আদর্শ৷ সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা মতো৷ আর একটি রাস্তা আছে, যেটা মালবাজারের ওপর দিয়ে যেতে হয়, তাতে গাড়ি কম থাকে কিন্ত্ত শেষের দিকে রাস্তার অবস্থা একটু খারাপ৷

কোথায় থাকবেন
ঝান্ডি ইকো হাট৷ ঘরভাড়া ১,২০০-৪,০০০ টাকার মধ্যে৷

কী খাবেন
স্থানীয় মোমো, থুকপা, তাজা সবজির তরকারি৷

কখন যাবেন
জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস সবচেয়ে ভাল ঝান্ডি ঘোরার জন্য৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *