বীরভূমে সমবায় নির্বাচনে গুলি-তির, মৃত তৃণমূল কর্মী

নন্দন দত্ত, বীরভূম: সমবায় নির্বাচন ঘিরে বীরভূমে ধুন্ধুমার। গুলি, বোমা, তিরের লড়াইয়ে রাজনগরে রক্ত ঝরল। মৃত্যু হল বলরাম মণ্ডল নামে এক তৃণমূল কর্মীর। শাসক দলের আরও কর্মী তিরবিদ্ধ হয়েছেন। দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিরোধীদের দিকে আঙুল তুলেছে শাসক দল।

[শ্মশানেই কেঁদে উঠল ‘মৃত’ শিশু! তারপর…]

রাজনগরের আলিগড় সমবায় সমিতির নির্বাচন ঘিরে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা বাড়ছিল। কয়েক দিন আগে মনোনয়ন জমা নিয়ে এক প্রস্থ অশান্তি হয়। সোমবার ছিল সভাপতি সহ ৬৮ পদে নির্বাচন। ভোটের দিন সকালে তৃণমূল সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধী সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। রাজারকেন্দ জুনিয়র হাইস্কুল চত্বরে চলে বোমাবাজি। এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগও করা হয়। ভাঙা হয় দশটি মোটরবাইক। শাসক দলের দাবি, বিরোধীদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর জখম হন বলরাম মণ্ডল নামে তাদের এক কর্মী। সিউড়ি জেলা হাসপাতালে আনার পথে মৃত্যু হয় ৩৬ বছরের বলরামের। আরও এক তৃণমূল কর্মী তিরবিদ্ধ হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। অন্য সমবায় কেন্দ্রে মনোনয়নে তেমন সুবিধা করতে না পারলেও, বামেদের শক্ত ঘাঁটি আলিগড়ে মনোনয়নপত্র জমা দেয় বিরোধীরা। তৃণমূলের অভিযোগ, তাদের প্রার্থীকে হারাতে সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপি তলে তলে হাত মিলিয়েছে। তার জেরে উত্তেজনাহীন এলাকায় এমন ধুন্ধুমার কাণ্ড। স্থানীয় তৃণমূল নেতা সুকুমার সাধু জানান, মৃত বলরাম মণ্ডল ওই অঞ্চলের প্রাক্তন সভাপতি। বলরাম ভোটারদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন আদিবাসীরা তাকে আটকে গুলি করে। তবে বিরোধীরা এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, শাসক শিবিরই তাদের সমর্থকদের ভোট দিতে যেতে বাধা দিয়েছিল। তৃণমূলের কর্মীরা গুলি ছোড়ে। নিজেদের গুলিতে বলরামের মৃত্যু হয়।

[মাঝ আকাশেই জন্ম শিশুর, আজীবন বিনামূল্যে বিমানযাত্রার ঘোষণা সংস্থার]

মৃত্যু নিয়ে তরজা। পরিস্থিতি সামলাতে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে রয়েছে। রাজনগরের আলিগড় থেকে খুব কাছে ঝাড়খণ্ড। প্রতিবেশী রাজ্য থেকে আসা বহিরাগতরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। সম্প্রতি বীরভূমের নানা জায়গায় বিজেপির বিস্তারকদের সঙ্গে শাসক দলের কর্মীদের গণ্ডগোল বেঁধেছে। সেই অশান্তির আবহে আরও একবার রক্তপাতের ঘটনা ঘটল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *