রাজনৈতিক মোকাবিলা করতে না পেরেই আদালতে বিরোধীরা, ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

সন্দীপ চক্রবর্তী: পঞ্চায়েত ভোটের ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে৷ আইনি জট যেরকম পাকিয়েছে তাতে সঠিক সময়ে ভোট হওয়া এখন প্রায় অসম্ভব৷ আর তাতেই বেজায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে বিরোধীরা একজোট হয়ে আদালতে যাচ্ছে৷

[  পঞ্চায়েত ভোট পিছোতেই আদালতে বিরোধীরা, অভিযোগ পার্থর ]

পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে জটিলতার কারণে এদিন মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বলেন, যেভাবে উন্নয়নের কাজ থমকে যাচ্ছে, তাতে মানুষের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী৷ ঠিক কী অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে পঞ্চায়েত ভোট? এদিন ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে জানানো হয়, এই মামলার নিষ্পত্তি হবে সিঙ্গল বেঞ্চেই৷ কারণ যেহেতু মামলাটি সিঙ্গল বেঞ্চেই চলছিল তাই তার উপর ডিভিশন বেঞ্চ হস্তক্ষেপ করবে না৷ অন্যদিকে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ের বিরোধিতা করেই ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল শাসকদল ও কমিশন৷ কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে সে আশা তো ধাক্কা খেলই, উলটে ভোট পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা জোরাল হয়েছে৷ এদিকে সিঙ্গল বেঞ্চ যে স্থগিতাদেশ জারি করেছিল তা আপাতত বহাল আছে৷ মঙ্গলবার ফের মামলার শুনানি৷ ডিভিশন বেঞ্চ যদিও দ্রুত মামলার নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে৷ প্রয়োজনে রোজ শুনানি করে মামলা শেষ করতে বলা হয়েছে৷ কিন্তু তাতেও দিনের হিসেবে নির্ধারিত সময়ে পঞ্চায়েত ভোট হওয়া প্রায় অসম্ভব৷ ভোট যে পিছোচ্ছে তা একরকম নিশ্চিতই৷ যে নমুনা দেশে খুব এখটা বেশি নেই৷ কিন্তু রাজ্যের ক্ষেত্রে তাই-ই হতে চলেছে৷ এতেই চূড়ান্ত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি জানান, রাজনৈতিক বিরোধিতায় পেরে না উঠেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বিরোধীরা৷ সকলে একজোট হচ্ছে৷ প্রসঙ্গত, ভোট পিছনোর জন্য বিরোধীদেরই দায়ী করেছিলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রীও বিরোধীদের দায়ী করে বলেন, ভোটপ্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাওয়ার জেরে উন্নয়নও বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ কোনও প্রকল্প চালু করতে পারছেন না তিনি৷ কোনও প্রকল্পের কাজে সইও করতে পারছেন না৷ এতে ক্ষতি হচ্ছে রাজ্যেরই৷ বিরোধীদের জন্য মানুষ ভুগছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি৷ আর এ জন্যই রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *