গ্রীষ্মের দাপুটে ব্যাটিং, শাসক-বিরোধী একজোটে ডরাচ্ছে বৈশাখি গরমকে

নন্দন দত্ত, সিউড়িঃ কথা ছিল সোমবার অনুব্রত মণ্ডল ম্যাজিক দেখাবেন। কিন্তু আদালতের জটিলতা সব কিছুই যেন পালটে দিয়ে গেল। বরং ভোটের গরমের থেকে বৈশাখি গরমে অতিষ্ঠ হল জীবন যাপন। অন্যদিকে সোমবারের পরিস্থিতি দেখে চিন্তা বাড়ল সব রাজনৈতিক দলেই। কারণ পঞ্চায়েত নির্বাচন পিছোচ্ছে এ সম্ভাবনা ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। এবং সেটা কতটা পিছোচ্ছে তা নিয়েও জোর জল্পনা। বিশেষ করে সোমবার গরমের নমুনা দেখে তাঁরা কীভাবে প্রচারে বেরবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন সকলেই।

 ‘জুতোপেটা করে তাড়িয়ে দেব’, মেজাজ হারিয়ে দলীয় কর্মীদেরই হুমকি দিলীপের ]

ঘোষিত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে বীরভূমে পাঁচটি ব্লকে নির্বাচন হবে। কিন্তু সোমবার যে হারে দাবদাহ শুরু হয়েছে তাতে চিন্তায় সবপক্ষ। কারণ ইতিমধ্যে বেশ কিছু নেতার সর্দি-গরমি শুরু হয়েছে। প্রচার সেরে রাত্রে স্নান সারতেই বিপত্তি। আবার বাড়ি ফিরে স্নান না সেরে থাকাও যাচ্ছে না। প্রচারে বেরিয়ে তেমনই অসুস্থ হয়ে পড়া তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি অভিজিৎ সিংহ জানান, ‘সেদিন মহম্মদবাজারের প্রচার সেরে বাড়ি ফিরে স্নান সেরে সর্দি-গরমিতে পড়েছি।’ তাঁর এবং দলের আশা পবিত্র রমজান মাসের আগেই অর্থাৎ ১৫ মে-র আগে নির্বাচন হয়ে গেলে খুব একটা গরম পড়বে না। তবে সোমবার বৈশাখের দ্বিতীয় দিনেই যেভাবে গরমের ব্যাটিং আইপিএলের ঢংয়ে শুরু করেছে তাতে বেলা বাড়তেই এলাকা শূন্য। গরমের সুযোগ বুঝেই আখের রসের ঠ্যালাগাড়ি, আইসক্রিমের গাড়ি ঘন্টা বাজিয়ে দুপুরের রোদে এলাকায় এলাকায় ঘুরেছে। শ্রীনিকেতনের হাওয়া দপ্তরের হিসাবে এদিনের দুপুরের তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই। স্কুলের ছেলেমেয়েরা এদিন মুখে কাপড় বেঁধে যাতায়ত করেছে।

 পঞ্চায়েত ভোট পিছোতেই আদালতে বিরোধীরা, অভিযোগ পার্থর ]

বিরোধীদের অবশ্য দাবি, গরমের থেকে মানুষের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব বেশি। তাই আমাদের রাজ্য সরকারের অনুন্নয়নের বিরোধিতা করতেই হবে। মানুষ এখন গরমের থেকে আরও অসহায় অবস্থায় এ রাজ্যে বেঁচে আছে। তবে ভোট পিছিয়ে গেলে বীরভূমের মত জেলায় পানীয় জলের সংকট ফের একটা জলন্ত ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিরোধীরা প্রচারের সুযোগ পেলে গ্রামে গ্রামে নানা অভিযোগ উঠে আসবে। তাই সোমবারের গরম, দাবদাহের থেকে বেশি চিন্তায় নির্বাচনের সময় রুক্ষ বীরভূমের অবস্থা কেমন থাকবে। তবে সন্ধের দিকে কলকাতা আদালতের রায় বেরনোর পরই ময়ূরেশ্বর মল্লারপুর এলাকায় তুমুল শিলা বৃষ্টি হয়। তাতে স্বস্তি ফের সকলের। আপাতত সকলেরই প্রার্থনা, এবার নির্বাচনী জটিলতা কাটলে হয়।

ছবি: বাসুদেব ঘোষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *