পরকীয়ায় মজে স্ত্রী, প্রতিবাদ করায় স্বামীকে পুড়িয়ে খুন

বাবুল হক, মালদহ: স্ত্রীর‘পরকীয়া’ জেনে ফেলে প্রতিবাদ করেছিলেন। আর তার জেরেই স্ত্রীর হাতে খুন হতে হল স্বামীকে। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় মালদহ শহরের মহেশপুর বাগানপাড়া এলাকায়। ঘটনার পর থেকেই ফেরার অভিযুক্ত গায়ত্রী মণ্ডল।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সোনা মণ্ডল (৩৬)। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের পড়শিদের কাছ থেকে পাওয়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ইংলিশবাজার থানার পুলিশ। যদিও অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে মৃতের স্ত্রী গায়ত্রী মণ্ডল।

[ভিড়িঙ্গির ফ্ল্যাটে রাজীবকে নিয়ে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করাল পুলিশ]

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনা মণ্ডল পেশায় টোটো চালক ছিলেন। ২০০৫ সালে গায়ত্রী মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের এক কন্যা সন্তান ও দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, একাধিক পর পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে গায়ত্রীর। তার প্রতিবাদ করতেন সোনাবাবু। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে অশান্তি চলছিল। শুক্রবার রাতেও প্রথমে তাঁদের মধ্যে এই নিয়ে বচসা শুরু হয়, তারপর সেটা বাড়তে বাড়তে এই বরাত ঘটনার রূপ নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে সোনাবাবু তাঁদের বলেছেন, গায়ত্রীই তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণ পরই তাঁর মৃত্যু হয়। যদিও অভিযুক্ত স্ত্রী গায়ত্রীর বক্তব্য, রোজ রাতে মদ খেয়ে বাড়ি ফিরে তার উপর অত্যাচার চালাতেন স্বামী সোনা মণ্ডল। বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করতেন। আর এইদিন সোনাবাবু নিজেই গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছেন।

ইংলিশবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছেন,  মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মৃতের বাবা কানু মণ্ডল পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গায়ত্রী দেবীর নামে।বর্তমানে গায়ত্রী দেবীর খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। এই প্রসঙ্গে মৃতের ছোট মেয়ে পুলিশকে জানিয়েছে, ‘সেদিন রাতে বাবা টিভি ভেঙেছিল। আর মা চেয়ার ছুঁড়ে বাবাকে মেরেছিল।’

[চিকিৎসার গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, পরিজনদের তাণ্ডবে উত্তাল রায়গঞ্জ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *