২৯ অগ্রহায়ণ  ১৪২৫  শনিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ 

BREAKING NEWS

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

২৯ অগ্রহায়ণ  ১৪২৫  শনিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ 

BREAKING NEWS

কতোরঙের ফুল সকালবেলা বিকেলবেলা ছাদের টবে ফুটে ওঠে। 

কথাটা, কথাটা তো সত্যি

ওদের নিয়ে আমাদের আর তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই। - ভাস্কর চক্রবর্তী

এই যে এতদিন ছিল, থেকে গিয়েছিল ইয়াহু মেসেঞ্জার, তা নিয়েও আমাদের কোনও মাথাব্যথা ছিল না। যেদিন বেজে গেল মৃত্যুঘণ্টা  সেদিন বেদনার ফুল ফোটে স্মৃতির বাগানে। পায়চারি করতে গিয়ে আমরা দেখি, কত প্রেম রাখা আছে বইয়ের পাতার ভাঁজে। কত মনকেমন ছড়ানো-ছেটানো অসময়ের টবে। সেদিন হয়তো অনেক কিছুই হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। অথচ কতকিছুই হয়নি। তবু সমস্ত সম্ভাবনার কথা মনে পড়লে আজও বুকের রক্ত ছলকে ওঠে। এএসএল (এজ-সেক্স-লোকেশন) উচ্চারণে নেমে আসে মিঠে খুনসুটির রাত। কতশত দুষ্টুমির সেইসব নির্মল পাপ আজ আমাদের সমূলে বিদ্ধ করে, গোপনে কাঁদায়। তবে আমরা কাঁদব না তো কাঁদবে কে! এগোতে এগোতে আমরাই তো ভুলে থাকি, আমাদের অতীত আমাদের সঙ্গে সঙ্গেই চলে। উদাসীনতার মুদ্রাদোষ একদিন তার হাত কেড়ে নেয় আমাদের আঙুল থেকে। তবুও অপেক্ষা থাকে। আর যত শীত-গ্রীষ্ম পেরোয়, পেরতে থাকে, তত প্রশস্ত হয় কবরের ভূমি। একদিন সেখানের মুখ লোকায় অতীত। স্মৃতির শুকনো পাতা হাতে আমরাও কবরস্থ করি আমাদেরই একাংশ। সভ্যতার এই অভিশাপ বয়ে চলা ছাড়া গতি নেই। সুতরাং গোপন রক্তক্ষরণ ছাড়া আমাদের বিশেষ কিছু সম্বলও নেই।

আনন্দ-এর রোল ফিরিয়ে দিয়েছিলাম বলে অাফসোস হয়নি ]

পুরনোর জায়গায় নতুন আসবে- এ নিয়মের ব্যত্যয় নেই। শরতের সোনা এসে মুছে দেবে বর্ষার সবুজ। তাতে আক্ষেপেরও কিছু নেই। কেননা পুরুষ্ট শস্য এসেই তো পুষ্টি দেবে সভ্যতাকে। পৃথিবী তাই এই নিয়মেই ঘুরিয়ে চলেছে সময়ের কাঁটা। কিন্তু এই যে আমরা চামড়ার নিচে ঢুকিয়ে দিয়েছি উদাসীনতা, এই যে আমরা নির্লজ্জভাবে অতীতবিচ্ছিন্ন ও আত্মগোপনকারী, এ প্রবণতাই শঙ্কার। খেয়াল করলে দেখব, ওই চ্যাটে ভুয়ো নামে অস্তিত্বশীল হওয়ার মতোই ঘুরব বেড়াচ্ছে আমাদের মিছে সত্তা। আর কতদিন কাউকে চিঠি লিখছি না আমরা  কতদিন আদরের গন্ধে আঁকা হয়নি হরফ: কেমন আছো? অথচ উপায় যে নেই তা তো নয়। তবু কতদিন আমরা চেপে বসিনি মন্থর ট্রামে। কতদিন বাসস্টপে দাঁড়ানো কাউকে জিজ্ঞেস করিনি, কটা বাজে? এই ট্রাম-ঘড়ি-চিঠিও একদিন হয়তো চলে যাবে। আর যন্ত্রণার রক্ত বুকে চেপে আমরা ছটফটিয়ে মরব সভ্যতার উপহার ঠান্ডা শপিংমলে। তবু কতদিন কেটে যাবে, রাস্তায় নেমে কাউকে হাত ধরিয়ে ক্রসিং পের করিয়ে দেব না আমরা। কতদিন পেরবে, অচেনা কারওর সঙ্গে গল্প করতে করতে আমরা বলে ফেলব না, আসুন না একটু চা খাই। একদিন সবই চলে যাবে। আর সেই সব হারানোর ভিতর জেগে থাকবে আমাদের ভারচুয়াল আমি। আমাদের আদরের ডাকনামকে ভেংচি কেটে বিদ্রুপ করে যাবে, আমাদেরই ডিজিটাল সিগনেচার।

সুতরাং আমাদের উপশম নেই। প্রগাঢ় ক্লান্তি শুধু জেগে আছে চোখের তলায়। সেই অনপনেয় ক্লান্তিরেখায় বাস করতে করতে আমারা একদিন বুঝেও যাই,

আমার শবযাত্রা আস্তে আস্তে এগিয়ে চলেছে শ্মশানের দিকে আর আমি

তার পেছন পেছন হাঁটছি।

ব্যাকরণ না-মানা রন্ধনশিল্প কিংবা পিকাসোর ছবি ]

ট্রেন্ডিং