BREAKING NEWS

২৮ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

আনন্দ-এর রোল ফিরিয়ে দিয়েছিলাম বলে আফসোস হয়নি

Published by: দিনের শেষে |    Posted: July 20, 2018 4:52 am|    Updated: December 13, 2019 4:34 pm

An Images

'অপু' থেকে 'ক্ষিদ্দা'। 'ময়ূরবাহন' থেকে 'ময়ূরাক্ষী'। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বাঙালির অভিজাত অহংকার। স্মৃতির ঝাঁপিতে তুলে রাখা ৬০ বছরের না বলা সব কথা তিনি উজাড় করে দিচ্ছেন তাঁর 'দিনের শেষে' কলামে। স্মৃতির সেই দিনলিপি লিখে রাখছেন সহলেখক গৌতম ভট্টাচার্য। 

 

আমাদের অভিনেতাদের পেশাটা বড় অস্থির! বড় অনিশ্চিত! ক্রমাগত নিজেকে প্রমাণ করতে করতে রাস্তা দিয়ে এগোতে হয়। নিজের মধ্যে সর্বক্ষণ উদ্দীপনা জাগিয়ে রাখতে হয় যে, এখুনি হয়তো ভাল কাজ হাতের সামনে নেই। কিন্তু এল বলে। অভিনেতার কাজ ভাল অভিনয় করাতেই শেষ নয়। তার অসম্ভব মনের জোর চাই। বিপর্যয়ের মধ্যেও শক্ত করে তাকে নিজের মনের মাস্তুলটা ধরে রাখতে হয় যে যত ঝড়ঝাপটা আসুক, আমি ভেসে যাব না।


আমার লম্বা অভিনয়জীবনেও কি ক্রাইসিস আসেনি? অবশ্যই এসেছে। একটা ক্রাইসিস পিরিয়ডের কথা মনে করতে পারি যেটা এসেছিল ‘সংসার সীমান্তে’ রিলিজ করার কিছু আগে। সেই সময় আমার পরপর ছবি ফ্লপ করছিল। শুধু ছবি না চলা নয়, কোথাও যেন অামার অভিনয় সত্তাটাই ফুটে উঠছিল না। আমার মনে হচ্ছিল এ কী আমি তো হারিয়ে যাচ্ছি!
এই সময় ‘সংসার সীমান্তে’-র গণপ্রতিক্রিয়া আমাকে আশ্বস্ত করে যে, না সব ঠিক আছে। আমার এত উদ্বেগের কোনও কারণ হয়নি। এ রকম উদ্বেগ-আশঙ্কা আমার জীবনে বহুবার এসেছে।  সব অভিনেতাই কমবেশি এর শিকার।  আর একবার এ রকম ফেজ এল  ‘পরিণীতা’ রিলিজের আগে। মনের মধ্যে দ্বন্দ্ব এসে উপস্থিত হল মানুষ কি আর আমায় চায়? ছবি রিলিজ হয়ে যাওয়ার পর আর এক রকম দ্বন্দ্ব। না, এবার প্রত্যাখ্যান ভাবনা নয়, ঠিক বিপরীত। লোকে হলে উপচে পড়েছে ছবি দেখতে। পূর্ণ  সিনেমায় টিকিটের জন্য হাহাকার।  সপ্তাহের পর সপ্তাহ ছবি ঘিরে ক্রেজ। এ রকম সাফল্যই তো স্টাররা চায়। কিন্তু কেন জানি না, আমি নতুন আতঙ্কে বিদ্ধ হতে শুরু করি যে বক্স অফিসের এই হুড়মুড়িয়ে পড়া সাফল্য আমাকে একটা জালের মধ্যে বন্দি করে দেবে না তো? আমি  টাইপকাস্ট হয়ে যাব না তো অর্ডারমাফিক ডেলিভারি চাইবে সবাই? আর আমায়  সেটা দিতে হবে। আমার একটা সুবিধে ছিল থিয়েটারের প্রতি বরাবরের দুর্নিবার আকর্ষণ। সত্তর দশকে বাংলা নাট্যমঞ্চের জগৎ তখন আলো ঝলমলে করে রেখেছেন এক একজন প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা। তবু সেই আবর্তে দুঃসাহসিক ঝাঁপ দিতে আমার কোনও সমস্যা ছিল না। তার পিছনে আমার ভয়ংকর কনফিডেন্স। শিশির ভাদুড়ীর চ্যালা আমি। আমি কেন অন্য মহীরুহদের দেখে ভয় পাব? শম্ভুবাবুর অভিনয়ের যে আমি খুব ভক্ত ছিলাম এমন নয়। কখনও কখনও ওঁর অভিনয় আমার মনে হত ম্যানারিজম সম্পন্ন। কিন্তু কোনও কোনও নাটকে ওই ম্যানারিজমটা এমন জলদগম্ভীর উপস্থিতি হয়ে দাঁড়াত যে, তাকে অগ্রাহ্য করে কার সাধ্যি? ‘রক্তকরবী’ যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন রক্তকরবীর রাজার ওই যে কণ্ঠস্বর আর তার রাজসিক অন্তর্লীন উপস্থিতি, এর জুড়ি কোথায়? অয়দিপাউস হিসেবেও উনি অনবদ্য।

আয়ু ভরে ওঠে রক্তে, বিরক্তে… ]


উৎপল দত্ত ছিলেন আবার অন্য রকম। কোনও নাটকের মাউন্টিংয়ে, স্তরে স্তরে পারফেকশনের মাধ্যমে তাকে একটা শৃঙ্গে পৌঁছে দিতে উৎপলদার সমকক্ষ আমি কখনও কাউকে দেখিনি। উৎপলদা যে সব নাটক করে গিয়েছেন সেগুলো বাংলা রঙ্গমঞ্চে এক একটা মাইলফলক। ‘কল্লোল’। ‘তিতাস একটি নদীর নাম’। খুব মজার মানুষ ছিলেন উৎপল দত্ত। একবার রাঁচিতে আমরা আউটডোর করছি। উনি হঠাৎ বললেন, “এই সৌমিত্র, তুমি বড় স্টার। তোমার সঙ্গে চামচেরা কোথায়?” আমি বললাম, উৎপলদা কী বলছেন? আপনি তো জানেন আমার সঙ্গে লোকজন থাকে না। উনি বললেন, “তা বললে কী করে হবে? তুমি এত বড় হিরো, তোমার সঙ্গে লোক না ঘুরলে চলে। ঠিক আছে আজ থেকে আমিই হব তোমার চামচে।” আমি লজ্জায় একশেষ। আসলে তখন হিরোদের মধ্যে সত্যিই রেওয়াজ ছিল চামচে নিয়ে  ঘোরার। পৃথিবীতে কোনওকালে চামচেরা সত্যি কথা বলেনি। তখনও বলত না। মোসাহেবদের এই ফাঁদে যারা তখন পা দিয়েছিল তাদের মধ্যে দুঃখজনক ভাবে উত্তমদাও ছিল।

উত্তমদাকে আমি থিয়েটার পাড়া নিয়ে আমার মতো প্যাশনেট থাকতে কখনও দেখিনি। আমার মনে হয় ওর একটা ভয়ও কাজ করত তখনকার দিনের উত্তর কলকাতার ভিড় ঠাসা থিয়েটার পাড়ায় ওর উপস্থিতি ল অ্যান্ড অর্ডার প্রবলেম ডেকে আনতে পারত। কী আকর্ষণ তখন ওঁর। হয়তো ভয় পেত, দম আটকানো ভিড়ে না মবড হয়ে যায়।

আমি যখন আমার প্রথম পাবলিক থিয়েটার নামাই- ‘নামজীবন’। তখন কাউন্টারে শুরুর দিকে খুব একটা ভিড় হচ্ছিল না। দর্শকরা সন্দিগ্ধ ছিলেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নিজে নাটক করবেন? রোজ করবেন? না কি ডুপ্লিকেট করবে? না কি এক-আধ দিন সৌমিত্রকে দেখা যাবে? সপ্তাহ দুয়েক যাওয়ার পর মানুষ বুঝল যে অরিজিনাল সৌমিত্রকেই রোজ পাওয়া যাবে।
বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়ে যাওয়ার পর এবার শুরু হল ভিড়। কাউন্টারে মানুষ উপচে পড়ছে। সেই নাটক দেখতে সত্যজিৎ রায় আর রবিশঙ্করও এসেছিলেন। এর পর বিকাশ রায় এসে একদিন বললেন, “তুই যদি অমিত রে-র চরিত্রটা করতে রাজি হোস, একমাত্র তাহলেই আমি ‘শেষের কবিতা’ নামাতে রাজি আছি।” আমি বললাম অমিত রে আমার খুব প্রিয় চরিত্র। অবশ্যই করব। আমি অমিত। লাবণ্য- লিলি চক্রবর্তী। প্রথম শো হল রবীন্দ্রসদনে। খুব জমজমাট ভাবে। উত্তমদা কিন্তু এবার দেখতে এসেছিল। দেখেটেখে গ্রিনরুমে কথা বলে গেল। সবার সামনে বলল, “পুলু ছাড়া তেমন কিছু পেলাম না।” যা শুনে বিকাশ রায় খুব রেগে গেছিলেন। উত্তমদা চলে যাওয়ার পর বিকাশদা রাগত ভাবে বললেন, “ওর পক্ষে কি ‘শেষের কবিতা’র মর্মার্থ বোঝা সম্ভব?” উত্তমদাকে শুনেছি ‘কোনি’-তে ক্ষিদ্দার রোলটা অফার করা হয়েছিল। উনি না করার পর পরিচালক সরোজ দে আমার কাছে আসেন। ‘কোনি’ আমার শারদীয়া ‘আনন্দমেলায়’ পড়া ছিল। উপন্যাসটা পড়া থেকে আমি উদগ্রীব ছিলাম ক্ষিদ্দা করব বলে। সরোজ দে বলামাত্র রাজি হয়ে যাই।

আর একবার শুনেছিলাম উত্তমদা একটা ফিল্মের জন্য অ্যাডভান্স নিয়েও না করে দিয়েছে। ডিরেক্টর এবার এসেছেন আমার কাছে। আমার নানা কারণে উত্তমদার সঙ্গে মান অভিমান চলছে। ‘অভিনেতৃ সংঘ’ আর ‘শিল্পী সংসদ’-এ তখন মারাত্মক রেষারেষি। যা হোক, আমি সব অগ্রাহ্য করে সন্ধেবেলা সটান ওর ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে চলে গেলাম। উত্তমদা তখন অভিমানে আমার সম্বোধন ‘তুই’ থেকে ‘তুমি’-তে নামিয়ে এনেছে। তাতেও আমি বদ্ধপরিকর- ছবিতে সই করার আগে জানতে চাই ও লিখিত রিলিজ দিয়েছে কি না? ময়রা স্ট্রিট পৌঁছে দেখি বেশ কিছু চামচে উত্তমদাকে ঘিরে বসে হুইস্কি খাচ্ছে। আমি ঢুকতেই তারা সব হনহন করে উঠে দাঁড়াল, “বসুন বসুন একটু দিই।’’ উত্তমদা এদের দিকে একটা গম্ভীর লুক দিয়ে বলল, “পুলু এ সব খায় না।” বলে আমাকে ভিতরের ঘরে নিয়ে গেল, “কী ব্যাপার বল তো? তার আগে তোকে একটু ব্র্যান্ডি দিই। শান্তিতে খা।” আমি বললাম, অমুক ফিল্মের জন্য অ্যাডভান্স নিয়ে তুমি কি সত্যি ছেড়ে দিয়েছ? উত্তমদা ঘাড় নাড়তে বললাম, তা হলে এখনই আমায় নো অবজেকশন লিখে দাও তো। এর বেশ কিছু বছর বাদে টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির এক নায়কের উপর উত্তমদা খুব রেগে গিয়েছিল। আসলে উত্তমদার সঙ্গে ‘বাঞ্ছারামের বাগান’-এ প্রথম কাজ করতে চেয়েছিলেন তপন সিংহ। উত্তমদার দু-একটা শর্ত মেনে নিতে না পারায় উনি বিকল্প নায়ক নেন। এ বার সেই নায়ক কেন সব জেনেও উত্তমদার সঙ্গে কথা বলেনি? কেন তাঁর নো অবজেকশন নেয়নি? ওটা নিয়ে উনি খুব পীড়িত ছিলেন। বলেছিলেন, “পুলু যদি এসে অনুমতি চাইতে পারে অমুক করল না কেন?”

ব্যাকরণ না-মানা রন্ধনশিল্প কিংবা পিকাসোর ছবি ]


আমাদের পেশাদার জীবনে এমন হামেশাই হয়ে থাকে। হয়তো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। কিন্তু একজনের ভাল লাগল না। আর একজন সেটাই করে খ্যাতি পেয়ে গেল। আমি বোম্বাই ইন্ডাস্ট্রি থেকে এক সময় দুটো বড় ছবির অফার ফিরিয়ে দিয়েছি। আমার খুব বন্ধু ছিল শশী কাপুর। সে তার ফিল্ম ‘কলযুগ’-এ আমাকে অভিনয় করতে বলেছিল। আমার চরিত্র ছিল যুধিষ্ঠিরের। স্ক্রিপ্টটা পড়ে আমার মনে হতে থাকে, চরিত্রটা কোথাও যেন একটু দুর্বল। ভেবে দেখলাম জীবনের প্রথম হিন্দি ছবি করব, সেটা নিজের অন্তরাত্মার সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করে কেন করব? শশীকে বোঝালামও, দ্যাখ তুই বেস্ট রোলটা নিজের জন্য রেখে দিয়েছিস। কর্ণের চরিত্র। আর আমাকে গছাচ্ছিস যুধিষ্ঠির। শশী তর্ক করল না। বুঝল। শশীকে আমার খুব ভাল লাগত। ওর জীবনযাপন, পড়াশোনা সব কিছুর মধ্যে কোথাও একটা সংস্কৃতিমনস্কতা ছিল।সাম্প্রতিককালে ‘পিঙ্ক’ একটা ছবি  যার জন্য পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরি আর প্রোডিউসার সুজিত সরকার আমার কাছে এসেছিল। কোর্টরুম দৃশ্যে বিচারক হিসেবে উপস্থিতি। আমার মনেই হয়নি রোলটার মধ্যে যথেষ্ট অভিনয় করার অবকাশ আছে বলে। পরে রোলটা করে ধৃতিমান। বহু বছর আগে হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায় আমাকে ‘আনন্দ’-এ কাজ করার অফার দিয়েছিলেন। রোলটা ছিল বন্ধু ডাক্তারের। যেটা পরে করেছিল অমিতাভ বচ্চন। আমার রোলটা না করা নিয়ে পরবর্তীকালে কখনও কোনও আফসোস হয়নি। বা  কখনও মনে হয়নি হিন্দির এরা যারা সারা ভারতে কাঁপাচ্ছে, এদের সঙ্গে কম্পিট করে দেখি না!


আমি অমিতাভের সেই ‘সওদাগর’ থেকে শুরু করে বেশ কিছু ছবি দেখেছি। ‘দিওয়ার’ দেখেছি। এমনকী ও আর বিনোদ খান্না যে হারিয়ে যাওয়া তিন ভাইয়ের গল্পের উপর তৈরি ফিল্মটা ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’ করেছিল, সেটাও দেখেছি। বেশ ভাল লেগেছিল। অমিতাভের অ্যাংরি ইয়াং ম্যান ইমেজটা আমার যথেষ্ট ভাল লাগত। ওর অার বিনোদ খান্না জুড়ির স্পেশালিটি ছিল যে কমার্শিয়াল ছবির আপাত অবিশ্বাসযোগ্য ব্যাপারস্যাপারকেও ওরা খুব বিশ্বাস্যভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলত। তবে মুম্বই থেকে আমার প্রিয় অ্যাক্টর বাছতে হলে আমি একসঙ্গে দু’জনের নাম করব। শাবানা আজমি আর স্মিতা পাটিল। এ বলে আমায় দ্যাখ তো ও বলে আমায় দ্যাখ। শাবানা তুখড় অভিনেত্রী। যাকে বলে অলরাউন্ডার। যে কোনও চরিত্র জীবন্ত করে দেবে। কিন্তু স্মিতা যে চরিত্রগুলো ভাল করত, একটু মধ্যবিত্ত, অ্যাসপিরেশনাল, সেগুলো যেন একেবারে ভিতর থেকে বার করে আনত।


অভিনয় আসলে এমন এক পেশা যেখানে সফল হয়ে থাকতে গেলে সর্বক্ষণ নিজের অভিনয়বোধের গোড়ায় জল-সার দিয়ে যেতে হবে। অভিনয় খুব নির্মম পেশা। যেখানে নিজের অভিনয়বোধের নিয়মিত পুষ্টিসাধন করে না যেতে পারলে ক্ষয় অবশ্যম্ভাবী। অভিনেতা যেখানে তার ট্যালেন্ট পরিবেশন করবে, সেই ক্ষেত্রে প্রদর্শন ঠিকমতো করতে হলে তাকে আশপাশের সমাজটাকে বুঝতে হবে। জীবনের ব্যথা, দৈন্য, নির্মম বাস্তবতা সব মনের মধ্যে নিতে হবে। কোথাও গিয়ে তাকে জীবনের স্বাভাবিক ফ্লো—টা বুঝতে হবে। বুঝে সেই অনুযায়ী সে অন্তর্নিহিত বোধ তৈরি করতে করতে যাবে আর ক্রমশ তার উন্মোচন ঘটাবে।
আমার কাছে আজকালকার ছেলেপিলেরা খুব যে একটা অভিনয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আসে এমন নয়। তবু ব্যতিক্রমী যে এক-দু’জন আসে তাদের আমি বোঝাবার চেষ্টা করি, অভিনেতার আসল শেখার সময় শুটিং করা বা ডাবিং স্টুডিওয় নয়। তার বাইরে। যখন সে জীবনকে অনাবৃত উপলব্ধি করার জন্য নানা অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যায়।
আসল শিক্ষা- ক্যামেরা বন্ধ থাকার সময়।

Advertisement

Advertisement