2024 Lok Sabha Election

মহঃ সেলিম-আবু তাহেরের লড়াইয়ে কতটা ফায়দা তুলবে বিজেপি? ইতিহাসের মুর্শিদাবাদে ঐতিহাসিক যুদ্ধ

মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে বিজেপির পাশাপাশি আইএসএফও মাথাচাড়া দিয়েছে। সংখ্যালঘু ভোট কাটাকাটিতে অংশ নেবে তারা। মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৯, ২০২৪, ২০:১১

options
link
মহঃ সেলিম-আবু তাহেরের লড়াইয়ে কতটা ফায়দা তুলবে বিজেপি? ইতিহাসের মুর্শিদাবাদে ঐতিহাসিক যুদ্ধ

অতুলচন্দ্র নাগ, মুর্শিদাবাদ: বঙ্গ রাজনীতির চরিত্র নানা দিক থেকে বর্ণময়। কখন কীভাবে কী বদলে যাবে, আজকের শাসক আগামীর বিরোধী হয়ে যাবে, তা যেন বঙ্গ রাজনীতিতে একটু বেশিই বেহিসেবি। বহু বছর ধরে রাজনীতির আনাচেকানাচে ঘুরে বেড়ানো অভিজ্ঞ রাজনীতিকের পক্ষেও তা বোঝা সম্ভব হয়ে ওঠে না। প্রতিটা নির্বাচনেই চমক দেখা যায় এখানে। তেমনই এক চমকপ্রদ কেন্দ্র মুর্শিদাবাদ (Murshidabad)। দেশের স্বাধীনতার পর নির্বাচনের শুরুতে যা ছিল কংগ্রেসের দুর্গ, আবার জনগণের ভোটে বদলে গিয়ে সেটাই হয়ে যায় ইন্ডিয়ান ডেমোক্রেটিস ও সিপিএম দলের। পরে তা আবার তৃণমূলের দখলে চলে যায়। রাজনৈতিক রেখচিত্রের ওঠানামায় ইতিহাস বিজড়িত মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রটি ঐতিহাসিক হয়ে উঠেছে। সামনে আবার এক লোকসভা নির্বাচন (Lok Sabha Election 2024)। কেমন হবে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের নির্বাচনী লড়াই? আসুন, বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করি এই প্রতিবেদনে।

Advertisement

১৯৫২ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে দুই দফায় মোট চারবার এই আসনের দখল ছিল কংগ্রেসের (Congress) হাতে। এমনকী বাম সরকারের আমলেও কংগ্রেস ২০০৪ ও ২০০৯ সালে হওয়া পর পর দুবারের নির্বাচনে দখল নিয়েছিল মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রটি। সাংসদ হয়েছিলেন মান্নান হোসেন। তার আগে ১৯৫২ এবং ১৯৫৭ সালের পর পর দুটি নির্বাচনে কংগ্রেসের মোঃ খোদাবক্স জয়ী হয়েছিলেন। পরে ১৯৬২ ও ১৯৬৭ সালে পর পর দুবার নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডেমোক্রেটিস পার্টি। ১৯৭১ সালে জয়ী হয়েছিল ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ। আবার ১৯৭৭ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন জনতা পার্টির কাজেম আলি মির্জা। সেবার লোকসভার মেয়াদ ১৯৮০ সালে শেষ হয়ে গিয়েছিল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: কলকাতায় নতুন ছবির শুটিংয়ে কাজল, যাবেন বোলপুরেও]

১৯৮০ সালের সপ্তম লোকসভা নির্বাচন থেকে ১৩ তম লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত এই কেন্দ্রের একচেটিয়া দখলদারি ছিল সিপিএমের (CPM)। এই সময়ে পরপর পাঁচবার সাংসদ ছিলেন সিপিএমের মাসাদুল হাসান। তার পরে ও দুবার সদস্য ছিলেন মইনুল হাসান। ১৪ তম লোকসভা নির্বাচন ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেবার জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেসের আবদুল মান্নান হোসেন। তিনি ২০০৯ সালের নির্বাচনেও জয়ী হয়েছিলেন।

Advertisement
প্রয়াত মান্নান হোসেন মুর্শিদাবাদের দুবারের সাংসদ। প্রথমে কংগ্রেস, পরে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। নিজস্ব চিত্র।

পরে ২০১৪ সালে তৃণমূলের (TMC) ভোটবৃদ্ধির ফলে কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামে। যার ফলে ৩৩.৩৩ শতাংশ ভোট পেয়ে কেন্দ্রটির দখল নেয় সিপিএমের বদরুদ্দোজা খান। এর পর ২০১৯ সালের নির্বাচনে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে আসা তৃণমূলের ঝোড়ো হাওয়ায় কেন্দ্রটি সিপিএমের হাতছাড়া হয়। সাংসদ হন তৃণমূলের আবু তাহের খান।

মুর্শিদাবাদের তৃণমূল প্রার্থী আবু তাহের খান।

জনবিন্যাস

মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

বিধানসভা কেন্দ্র
এই লোকসভার অধীনে রয়েছে ৭ টি বিধানসভা কেন্দ্র –

১.ভগবানগোলা
২.লালবাগ
৩.হরিহরপাড়া
৪.রানিনগর
৫.ডোমকল
৬.জলঙ্গি
৭. করিমপুর (নদিয়া জেলার)

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থা

১৯৯৮ সালে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন দল হিসাবে তৃণমূলের আবির্ভাবের পরেও এই কেন্দ্রটি পর্যায়ক্রমে সিপিএম এবং কংগ্রেসের দখলেই ছিল বেশিরভাগ সময়। ১৯৯৯ সালে এখান থেকে সাংসদ হয়েছিলেন সিপিএমের মইনুল হাসান। আবার ২০০৪ সালের নির্বাচনে মইনুল হাসানকে পরাজিত করেন কংগ্রেসের মান্নান হোসেন। তিনি ২০০৯ সালের নির্বাচনেও জয়ী হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে কেন্দ্রটি ফের দখল করে সিপিএম। সাংসদ হন বদরুদ্দোজা খান। পরে ২০১৯ সালের নির্বাচনে প্রবল গতিতে এগিয়ে আসা তৃণমূল কংগ্রেস ৪১.৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে সাংসদ হন তৃণমূলের আবু তাহের খান। লক্ষ্যণীয় বিষয়, এই মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে বিজেপির পাশাপাশি নতুন দল হিসেবে আইএসএফ মাথাচাড়া দিয়েছে।

[আরও পড়ুন: আলিঙ্গন না করে মালিঙ্গাকে ধাক্কা, হার্দিকের রোষের মুখে কি এবার শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন বোলার?]

তাছাড়া ২০১৯ সালে কংগ্রেস সিপিএম পৃথকভাবে লড়াই করলেও এবার তাদের মধ্যে পাকাপোক্তভাবে জোট হয়েছে। ২০১৯ সালে তাদের প্রাপ্ত ভোটের অঙ্ক একসঙ্গে করলে অবস্থান হয় ৩৮.৪৪ শতাংশ। তৃণমূলের সঙ্গে মাত্র ৩.১৩ শতাংশ ভোটের তফাৎ। তাছাড়া জোটের প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত নাম, হেভিওয়েটে মহম্মদ সেলিম। আবার বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন লালবাগের বিধায়ক গৌরীশংকর ঘোষ। ২০১৯ এ বিজেপির প্রাপ্তভোটের শতাংশ ১৭। এবার এলাকায় বিজেপি এবং আইএসএফের অগ্রগতিও লক্ষ্যণীয়। পাশাপাশি গোষ্ঠীকোন্দলে তৃণমূলের ভোট এবার ক্ষয়িষ্ণু। সবমিলিয়ে জটিল অঙ্কের উপর দাঁড়িয়ে তৃণমূল এবং কংগ্রেস-সিপিএম জোটের জয় পরাজয়।

২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের ফলাফল

সেবছর নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের লড়াই হয়েছিল চতুর্মুখী। তৃণমূলের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথকভাবে লড়াই করেছিল কংগ্রেস এবং সিপিএম। এই অবস্থায় তৃণমূলের আবু তাহের খান ৬,০৪,৩৪৬ টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের আবু হেনার চেয়ে তার ভোটের ব্যবধান ছিল ২,২৬,৪১৭ টি। কংগ্রেস প্রার্থী আবু হেনা পেয়েছিলেন ৩,৭৭,৯২৯ টি ভোট। এখানে সিপিএমের প্রার্থী বদরুদ্দোজা খান পেয়েছিলেন ১,৮০,৭৯৩ টি। কংগ্রেস এবং সিপিএমের মিলিত ভোটের শতাংশ ৩৮.৪৪।

২০২৪ এর লড়াই
এবার মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে লড়াই হচ্ছে মূলত দ্বিমুখী। তৃণমূলের আবু তাহের খান বনাম কংগ্রেস সিপিএম জোটের মহম্মদ সেলিমের মধ্যে।

মুর্শিদাবাদে সিপিএম-কংগ্রেসের জোটপ্রার্থী মহঃ সেলিম।

আবার গতবারের ১৭ শতাংশ ভোট নিয়ে ময়দানে বিজেপিও রয়েছে। এই কেন্দ্র থেকে লড়ছেন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী গৌরীশংকর ঘোষ। পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসাতে ময়দানে রয়েছেন আইএসএফ প্রার্থী হাবিব শেখ।

মুর্শিদাবাদের বিজেপি প্রার্থী গৌরীশংকর ঘোষ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.