Bangladesh

মৌসুমি বায়ু ও নিম্নচাপের জোড়া ফলা, বন্যার বাংলাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ, মৃত ৫১

বর্তমানে দেশটির তিনটি বড় নদীর চারটি জায়গায় জল বিপদসীমার উপরে বইছে। একই সঙ্গে আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নদীর জল বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। সাপে কেটেছে ৯৫ জনকে। উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে প্রশাসন।

সুকুমার সরকার
সুকুমার সরকার

শেষ আপডেট: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১৯:২৩

options
link
মৌসুমি বায়ু ও নিম্নচাপের জোড়া ফলা, বন্যার বাংলাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ, মৃত ৫১
টানা বর্ষণে নদীর জল বৃদ্ধিতে ছয়টি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

জুলাইয়ের শুরু থেকেই বাংলাদেশে একটানা ব্যাপক বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এর ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দেশে জুলাই মাসে গড়ে ৫২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু মাসের প্রথম ১১ দিনেই তার প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃষ্টি
হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে দেশটির তিনটি বড় নদীর চারটি জায়গায় জল বিপদসীমার উপরে বইছে। একই সঙ্গে আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নদীর জল বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এখনও পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের। সাপে কেটেছে ৯৫ জনকে। উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে প্রশাসন।

Advertisement

মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে ওঠায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আজ সোমবার সকাল থেকেও রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি চলছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া দপ্তর। ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন রাজধানী ঢাকা। গতকাল রবিবার সকাল ৬টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৭ ঘণ্টায় ঢাকায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার থেকে মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১১ দিনে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মাত্রায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে সারা দেশে গড়ে ৩৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা জুলাই মাসের স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছিল।

Advertisement

শ্রীহট্টের সুরমা নদীর সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে জল বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। কুশিয়ারা নদীর সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া সোমেশ্বরী নদীর নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে জল বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে। ১২৭টি নদী পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৮০টিতে জল বৃদ্ধি পেয়েছে।

টানা বর্ষণ ও নদ-নদীর জল বৃদ্ধিতে দেশের অন্তত ছয়টি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যা ও বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত
হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ৯৫ জন সাপে কাটা রোগীকে চিকিৎসা হয়েছে। সাপের কামড় থেকে সুরক্ষার জন্য সব জায়গায় অ্যান্টিভেনম পৌঁছানো হচ্ছে। তবে বন্যাকবলিত অঞ্চলে এখনও কলেরা আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.