Bangladesh

জল্পনায় সিলমোহর, ইস্তফা দিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আপাতত দায়িত্বে স্পিকার

হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের কারণেই সরতে হল?

সুকুমার সরকার
সুকুমার সরকার

শেষ আপডেট: জুলাই ২৪, ২০২৬, ১৭:১৫

options
link
জল্পনায় সিলমোহর, ইস্তফা দিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আপাতত দায়িত্বে স্পিকার
ফাইল চিত্র।

পদত্যাগ করতে চলেছেন, জানা গিয়েছিল গতকালই। সেই খবরে সিলমোহর পড়ল শুক্রবার। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকারই দায়িত্ব পালন করবেন। জানা গিয়েছে, গত মে মাসে সাহাবুদ্দিন লন্ডন সফরে গিয়েছিলেন। সেই সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কথা হয় টেলিফোনে। মনে করা হচ্ছে, এর জেরেই তাঁকে ইস্তফা দিতে হল।

Advertisement

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই মতো স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

Advertisement

গত ৯ মে সাহাবুদ্দিন লন্ডনে গিয়েছিলেন। ফেরেন ১৮ মে। এরই মধ্যবর্তী সময়ে তিনি ফোনে কথা বলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে গোয়েন্দা সূত্রে। মনে করা হচ্ছে, এরপরই তাঁকে সরে যাওয়ার বার্তা দিয়ে দেয় প্রশাসন। কিন্তু বিএনপির এক বর্ষীয়ান নেতার দাবি, পরিস্থিতি আরও জটিল। কেবল ফোনালাপই কারণ নয়। এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা করেছেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই সেদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে। এমতাবস্থায় সাহাবুদ্দিনের সরে যাওয়ার মাধ্যমে একটা স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না হয়, সেই কারণেই এখন থেকে সতর্ক থাকতে চাইছে তারেক রহমানের সরকার।

Advertisement

আওয়ামি লিগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মহম্মদ সাহাবুদ্দিন পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের ২২ তম রাষ্ট্রপতির হন। সেই হিসাবে তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন। ২০২৪-এর জুলাইয়ে গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদে থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, সাহাবুদ্দিনের কুর্সি টিকে ছিল সেনার সমর্থনে। মনে করা হচ্ছে, সেনা হাত তুলে নেওয়াতেই পদ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.