সস্তার বিদ্যুৎ আর নয়। বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। বাংলাদেশে রপ্তানি করা বিদ্যুতের উপর ইউনিট পিছু বাড়তি চার্জ ধার্য করল ভারত। বিদ্যুৎ রপ্তানি ক্ষেত্রে গ্রিড পরিচালনা ও বিদ্যুৎ লেনদেনের হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তির জন্য সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চার্জ আরোপ করা হচ্ছে। যার জেরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ০.০০৫ টাকা বেশি দিতে হবে বাংলাদেশকে।
আরও পড়ুন:
জানা যাচ্ছে, বিদ্যুতের মূল দামের থেকে আলাদাভাবে নেওয়া হবে এই এনএসএ চার্জ। গ্রিড পরিচালনা, শিডিউলিং, মিটারিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ ও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির ব্যয় মেটাতে এই বাড়তি অর্থ ধার্য করা হচ্ছে। এই বিষয়ে ভারতের সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থা এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি বা এসএনএ চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে। চুক্তিতে দেরি হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। ভারত শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ০.০১ টাকা হারে এই চার্জ দাবি করেছিল। পরে তা কমিয়ে ০.০০৫ করা হয়।
ভারত শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ০.০১ টাকা হারে এই চার্জ দাবি করেছিল। পরে তা কমিয়ে ০.০০৫ করা হয়।
বাংলাদেশি আধিকারীদের তরফে বলা হয়েছে, এই বাড়তি অর্থ বিদ্যুতের দাম নয়, এটি বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনা ও অন্যান্য খরচের জন্য একটি বিশেষ চার্জ। এতে বাংলাদেশের খুব বেশি খরচ বাড়বে না। বরং একবার এনভিভিএনের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেলে লেনদেন আরও সহজ হবে। আলাদা আলাদা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে বিল মেটানোর ঝামেলাও কমবে। এদিকে ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, নেপাল ও ভুটানের থেকেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের জন্য বিষয়টা ভিন্ন কিছু নয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ বছর ধরে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে মোট ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসি থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট ও সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে। এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এসএনএ চার্জ বিষয়ক চুক্তি হচ্ছে। এর বাইরে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। সেখানে অবশ্য আগে থেকেই যুক্ত রয়েছে এই চার্জ। ফলে গড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আলাদা করে চুক্তির প্রয়জন পড়বে না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রাতে কামড়ে দিয়েছে স্ত্রী, সোজা এসএসকেএমে স্বামী! চিকিৎসকের পরামর্শ, ‘বউয়ের থেকে দূরে থাকুন’
-
মিলল অনুমতি! মহিলা ক্রিকেটে খেলবেন ছেলে থেকে মেয়ে হওয়া অনয়া বাঙ্গার
-
বিবেকানন্দের পোস্টার ছেঁড়া, এভিবিপির পতাকা পায়ে মাড়ানো! গ্রেপ্তার টিএমসিপির ২ সদস্য
-
উর্বশীর তেরঙ্গা গাউনে বিতর্ক, জাতীয় পতাকার অপমান! ‘দেশের আবেগই…’, পালটা নায়িকার
-
অবসরের পর পেনশন পাবেন তো? মানতেই হবে এই নিয়ম, সতর্ক করছে ইপিএফও