সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে আনাগোনা বেড়েছে চিনা আধিকারিকদের। এই মুহূর্তে নানা ইস্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চাপানউতোর চলছে, তারই সুযোগ নিয়ে ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে বেজিং। বিএনপি, জামাতের মতো দলের বৈঠক সেরেছেন চিনের আধিকারিকরা। এই আবহে কমিউনিস্ট দেশটিতে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। বৈঠক করতে পারেন সেদেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পের ফাঁদে দেবেন ইউনুস? গোটা ঘটনা প্রবাহের উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ভারত।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রে খবর, আগামী ২৫ থেকে ২৮ মার্চ চিনের হাইনান প্রদেশে ‘বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া’র (বিএফএ) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সামিটে যোগ দিতেই ২৬ মার্চ হাইনানে পা রাখবেন ইউনুস। তারপর সেখান থেকে বেজিংয়ে। ২৮ মার্চ চিনের প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে বসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে চিনে গিয়েছিলেন বিদেশ উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হোসেন। তাঁর সেই সফরের পর জানা গিয়েছিল খুব তাড়াতাড়ি বাংলাদেশিদের জন্য হাসপাতাল বানাবে চিন।
হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইউনুসের জমানায় দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক অনেকটাই বদলে গিয়েছে। লাগামছাড়া হিন্দু নির্যাতন, মুজিবকন্যার প্রত্যর্পণ, অনুপ্রবেশ এই রকম একাধিক বিষয়ে দুদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। এই সুযোগকেই পাখির চোখ করেছে বেজিং। বলে রাখা ভালো, মুজিবকন্যাকে গদিছাড়া করার পিছনে অনেক বিশেষজ্ঞই ‘ড্রাগনে’র কলকাঠি নাড়ার বিষয়ে নানা রিপোর্টে তুলে ধরেছেন। এই মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচনের তোরজোড় চলছে পদ্মাপাড়ে। ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি, জাতীয় পার্টির মতো একাধিক রাজনৈতিক দল। থেমে নেই জামাতও। এই পরিস্থিতিতে ইউনুসের চিনে যাওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।
এছাড়া ইউনুস-জিনপিং সাক্ষাতে উঠতে পারে বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের প্রসঙ্গ। অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন, এই প্রোজেক্ট আসলে পরিকাঠামো উন্নয়নের নামে ঋণের ফাঁদ। যেখানে বিভিন্ন দেশকে জড়াতে চায় বেজিং। এই মুহূর্তে ভারত উপমহাদেশে কৌশলগত অবস্থান মজবুত করছে জিনপিংয়ের দেশ। বাংলাদেশেও এই প্রকল্পের জাল ছড়াতে মরিয়া তারা। চিনের এই ফাঁদে পা দিয়ে ঋণের বোঝায় জর্জরিত শ্রীলঙ্কা। বেল্ট অ্যান্ড রোডে নাম লিখিয়েছে পাকিস্তানও। আর এই বিতর্কিত প্রকল্পের একটি অংশ গিয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের উপর দিয়ে। যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারত। পরিকাঠামো উন্নয়নের নামে এই প্রকল্প যে আদতে একটা জাল তা নিয়ে বরাবরই দিল্লি সরব হয়েছে। হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন চিনের এই প্রকল্প এড়িয়ে গিয়েছেন। কিন্তু ইউনুস এই ফাঁদে পা দেন কিনা সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।
সর্বশেষ খবর
-
‘ভারতের ফ্যান হয়ে গেছি’, ম্যাচ শেষে বললেন ব্রাজিল তারকা, খালিদের প্রশংসা অ্যান্সেলোত্তির
-
শহরে ব্রাজিলের খেলা দেখতে এসে বিপত্তি! পাঁচতারা হোটেলে ‘শ্লীলতাহানি’র শিকার নাগাল্যান্ডের ২ যুবতী
-
নমাজের অছিলায় পিছন থেকে পরপর মার, ককপিটে কীভাবে জঙ্গি হামলা? নেতানিয়াহুকে জানালেন স্মিত
-
সন্ধেয় জ্ঞানেশের অপসারণ চেয়ে মিছিল, রাতেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হল সিপিএম পার্টি অফিস!
-
হারের ভয়ে পারিবারিক ‘গড়’ রায়বরেলিতেও লড়তে চাননি রাহুল, বিস্ফোরক অখিলেশের দলের সাংসদ