Tarique Rahman

রাষ্ট্রসংঘের বক্তৃতায় মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা, শাহবাজের সঙ্গে পার্শ্ববৈঠক, ভারসাম্যের চাল তারেকের 

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় ১৯৮০ সালে জিয়াউর এবং ১৯৯৩ সালে তারেকের মা তথা বাংলাদেশের প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বক্তৃতা করেছিলেন। নিউ ইয়র্কের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুক্রবার সে কথা স্মরণ করেন তারেক।

সুকুমার সরকার
সুকুমার সরকার

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ২১:০৫

options
link
রাষ্ট্রসংঘের বক্তৃতায় মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা, শাহবাজের সঙ্গে পার্শ্ববৈঠক, ভারসাম্যের চাল তারেকের 
রাষ্ট্রসংঘে বক্তৃতা দিচ্ছেন তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত।

হাসিনা কাঁটায় ভারতের আমন্ত্রণ পেয়েও ‘ব্রিকস’-এ যোগ দেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। যদিও শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় যোগ দেন তিনি। সেখানে নিজের বক্তৃতার শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। ভারসাম্য রক্ষা করে ২০২৪ সালের শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রসঙ্গও টানেন তারেক। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে।

Advertisement

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতা ছিলেন তারেকের পিতা তথা বাংলাদেশের নিহত রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান। সেই অতীতকে যেমন অস্বীকার করা কঠিন তারেকের পক্ষে, অন্যদিকে সাম্প্রতিক হাসিনা বিরোধী হাওয়াকেও নিজের বক্তৃতায় ছুঁয়ে যান তিনি। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় ১৯৮০ সালে জিয়াউর এবং ১৯৯৩ সালে তারেকের মা তথা বাংলাদেশের প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বক্তৃতা করেছিলেন। নিউ ইয়র্কের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুক্রবার সে কথা স্মরণ করেন তারেক।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

হাসিনা বিরোধী গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘২০২৪ সালে বাংলাদেশ ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত’ হয়েছে। শাসন ও শোষণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশকে পুনরুদ্ধার, পুনঃস্থাপন ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করছে।’’ মায়ানমার থেকে ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বিশ্ব মঞ্চে সেই বিষসয়টিও তুলে ধরেন তারেক। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশকে দীর্ঘ ন’বছরেরও বেশি সময় ধরে মায়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে হচ্ছে। এর ফলে আমাদের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।” যোগ করেন, “বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমি মায়ানমারে নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়াই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।’’ এই বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চের সহযোগিতা চান তিনি।

Advertisement

তারেক জানান, বিশ্ব জুড়ে সামরিক সংঘাত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা-সঙ্কট, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের তেমন ভূমিকা না থাকলেও বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বহন করতে হচ্ছে।”

এদিকে রাষ্ট্রসংখঘের সদর দপ্তরেই আলাদা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তারেক। বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষীক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য দিক নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় করেন বলেই জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, হাসিনার দেশত্যাগ এবং ইউনুস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলাদেশের পাকিস্তান প্রীতি বর্ধমান। সেই সম্পর্ক যে অব্যাহত রয়েছে তা শাহবাজ-তারেক বৈঠকে স্পষ্ট।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.