সুকুমার সরকার, ঢাকা: নয়াদিল্লিতে জি-২০ সম্মেলন (G-20 Summit) শেষ করে ভারত ছেড়ে সরাসরি বাংলাদেশ চলে গেলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ (Emmanuel Macron)। রবিবার রাতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভাবিত উন্নয়নের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। শেখ হাসিনা ফ্রান্সকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়নসহযোগী বলে উল্লেখ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে রবিবার নৈশভোজে অংশ নেন ম্যাক্রোঁ। প্রায় তিন দশক পর ফ্রান্সের কোনও প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ (Bangladesh) সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে ২০২১ সালের নভেম্বরে ফ্রান্সে গিয়েছিলেন। তার আগে ১৯৯০ সালে তৎকালীন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁর বাংলাদেশ সফরের পর এটি বাংলাদেশে কোনও ফরাসি প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় সফর। বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে মোট বাণিজ্য ২১০ মিলিয়ন ইউরো থেকে বর্তমানে ৪.৯ বিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত হয়েছে এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে ফ্রান্স (France)পঞ্চম দেশ। ফরাসি কোম্পানিগুলো এখন ইঞ্জিনিয়ারিং, জ্বালানি, অ্যারোস্পেস ও জলসম্পদ-সহ বিভিন্ন খাতে পরিপূর্ণ।
[আরও পড়ুন: G-20: ‘বাইডেনের সঙ্গে হাসিনার সেলফি দেখে ঘুম উড়েছে বিএনপি-র’, কটাক্ষ আওয়ামি লিগের]
বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইট এবং বাংলাদেশের শহুরে পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত দুটি চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ এবং ফ্রান্স। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক এবং একান্ত বৈঠকের পর তাঁদের উপস্থিতিতে এসব চুক্তি সই হয়। ‘ইমপ্রুভিং আরবান গভর্নেন্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রোগ্রাম’ বিষয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং ফ্রান্স ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এএফডি) মধ্যে একটি ঋণ চুক্তি। বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইট বিষয়ে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) এবং ফ্রান্সের এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেসের মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে একটি লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) সই হয়। সোমবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসেন। কার্যালয়ের টাইগার গেটে তাঁকে ফুলের স্বাগত শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে তাঁরা দ্বিপাক্ষিক এবং একান্ত বৈঠক করেন। বৈঠকের পর এসব চুক্তি সই হয়।
দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়তা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর-সহ রোহিঙ্গা সংকটের মত ইস্যুও গুরুত্ব পায়। এর আগে সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এসময় জাতির পিতার ছোট কন্যা শেখ রেহানা এবং তাঁর ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রতিস্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। পরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন এবং জাদুঘরে সংরক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে সই করেন তিনি।
[আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ডেঙ্গু নিয়ে ফের উদ্বিগ্ন WHO, ২০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক]
সর্বশেষ খবর
-
টুলুর কারবারের সঙ্গে যোগ? বীরভূমের ভূমি দপ্তরের হেড ক্লার্কের বাড়িতে পুলিশি হানা
-
রাজসাক্ষী হতে চান! জমি দুর্নীতি মামলায় ইডি আদালতে আবেদন জয় কামদারের
-
বাড়ির প্রত্যেক সদস্যদের আলাদা আয়ুষ্মান কার্ড, আধার নম্বরেই মিলবে উপভোক্তার তথ্য
-
দেবরাজের ‘দাদাগিরি’র নয়া হদিশ! দাবিমতো কোটি টাকা না দেওয়ায় কাজ বন্ধ মামলায় চার্জশিট
-
ধনঞ্জয় ফাঁসির ২২ বছর! ‘বিচার মেলেনি’, মামলার পুনঃতদন্তের দাবিতে ফের মিছিল বাঁকুড়ার গ্রামে