Hilsa Fish

পদ্মার ইলিশ যেন রূপকথা! ভরা মরশুমেও বাংলাদেশে রুপোলি শস্যের হাহাকার, কেন এই হাল? 

বাংলা ক্যালেন্ডার অনুয়ায়ী ভরা মরশুমের দেড় মাস গড়িয়েছে। এরপরেও বাজারে ইলিশ নেই বললেই চলে। যেটুকু বা আছে, তা আকাশ ছোঁয়া দামের কারণে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। যদিও মৎস্য অধিদপ্তরের কাগজের হিসাব অন্য কথা বলছে।

সুকুমার সরকার
সুকুমার সরকার

শেষ আপডেট: জুলাই ২৫, ২০২৬, ১৯:০৯

options
link
পদ্মার ইলিশ যেন রূপকথা! ভরা মরশুমেও বাংলাদেশে রুপোলি শস্যের হাহাকার, কেন এই হাল? 
গত দেড় মাসে যত ইলিশ উঠেছে তার অধিকাংশই খোকা বা জাটকা।

ভরা মরশুমেও বাংলাদেশে ইলিশের হাহাকার। রাজধানী ঢাকায় এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম পৌঁছে গিয়েছে বাংলাদেশি সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। ইলিশের রাজধানী হিসেবে খ্যাত চাঁদপুর, এমনকী বরিশালের বাজারেও দেখা নেই রুপোলি শস্যের। মৎস্যজীবীদের দাবি, নদী-সাগরে ছোটাছুটি সার হচ্ছে। ইলিশের তেমন দেখা মিলছে না। আর পদ্মার ইলিশ তো রুপকথায় ঠাঁই নিয়েছে। পদ্মায় চর পড়ে ইলিশের আনাগোনা নেই বললেই চলে। পদ্মায় ঢোকার আগেই যা কিছু ইলিশ আসে তা ধরা পড়ে যায় পদ্মা-মেঘনা-যমুনার সঙ্গমস্থল চাঁদপুরে।

Advertisement

বাংলা ক্যালেন্ডার অনুয়ায়ী ভরা মরশুমের দেড় মাস গড়িয়েছে। এরপরেও বাজারে ইলিশ নেই বললেই চলে।

ঢাকার ঠাঁটারিবাজারের ইলিশ বিক্রেতা চণ্ডীবাবু জানাচ্ছেন, এবার ইলিশ ধরা পড়ছে কম। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। দেড় কেজি ওজনের ইলিশ সাড়ে চার হাজার টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ সাড়ে তিন হাজার এবং খোকা অর্থাৎ স্থানীয় ভাষায় জাটকা, যার ওজন ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম। সেই ইলিশও ১৬ বা ১৭শো টাকার নিচে মিলছে না। (সমস্ত বাংলাদেশি টাকায়)।

Advertisement

বাংলা ক্যালেন্ডার অনুয়ায়ী ভরা মরশুমের দেড় মাস গড়িয়েছে। এরপরেও বাজারে ইলিশ নেই বললেই চলে। যেটুকু বা আছে, তা আকাশ ছোঁয়া দামের কারণে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। যদিও মৎস্য অধিদপ্তর অন্য হিসাব দিচ্ছে। মরশুমের প্রথম মাসে, অর্থাৎ জুনে
দক্ষিণাঞ্চলের নদনদী ও সাগর থেকে গত বছরের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি ইলিশ উঠেছে। গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বাধিক ইলিশ মিলেছে গত মাসে। কিন্তু হাটবাজারে আসা ইলিশের পরিমাণ মৎস্য অধিদপ্তরের কাগজের হিসাবকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

Advertisement

প্রজনন ও জাটকা বড় হওয়া নিরাপদ করতে নদী-সাগরে পর্যায়ক্রমে বছরের আট মাস বিভিন্ন মেয়াদে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা পালিত হয়।

সূত্রের খবর, যে ইলিশ উঠেছে তার দুই-তৃতীয়াংশ জাটকা (১০ ইঞ্চির কম আকারের) ও ছোট মাঠ। যদিও জাটকা নিধন ও বিক্রি দণ্ডযোগ্য অপরাধ। জাটকা নিধন চলছে নিষিদ্ধ ট্রলিং জাহাজ দিয়ে। অর্থাৎ কিনা, ছোট মাছের আহরণ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ ইলিশেই মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে সংখ্যা বেড়েছে।

বলা বাহুল্য, বর্ষার সময়টাকেই ইলিশের মরশুম ধরা হয়। প্রজনন ও জাটকা বড় হওয়া নিরাপদ করতে নদী-সাগরে পর্যায়ক্রমে বছরের আট মাস বিভিন্ন মেয়াদে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা পালিত হয়। সর্বশেষ সাগরে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে গত ১১ জুন। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত নদী-সাগরে কোনও নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। তাই এই চার মাস ইলিশের ভরা মরশুম হিসেবে গণ্য হয়। দেশে মোট আহরিত ইলিশের ৭০ ভাগ পাওয়া যায় দক্ষিণাঞ্চলের নদী-সাগরে।

মৎস্য অধিদপ্তরে বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুনে বিভাগের ছয় জেলায় মোট ৪০ হাজার ৫১৬ টন ইলিশ ধরা পড়েছে। কাগুজে হিসাবে এবার যে পরিমাণ ইলিশ মিলেছে তাতে গত বছরের চেয়ে দাম কম হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উলটো।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.