Bangladesh

স্যাটেলাইটের নাম বদলের পর কোপ বঙ্গবন্ধু শান্তি পদকেও, মুজিবরের নামের পুরস্কার বাতিল ইউনুসের

প্রতি দু'বছর পরপর একজন ব্যক্তিকে এই পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তৎকালীন আওয়ামি লিগ সরকারের।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২৫, ১৯:৪৩

options
link
স্যাটেলাইটের নাম বদলের পর কোপ বঙ্গবন্ধু শান্তি পদকেও, মুজিবরের নামের পুরস্কার বাতিল ইউনুসের

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গতকালই বদলে ফেলা হয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নাম। এবার কোপ পড়ল ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক শান্তি পদক’-এ। ‘নতুন’ বাংলাদেশে আর দেওয়া হবে না এই পদক। আজ মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, গত বছরের ২০ মে মাসে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা-সহ বিভিন্ন অবদানের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পদক’ সংক্রান্ত নীতিমালার চুড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামি লিগ সরকার। কিন্তু তারপর পদ্মা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। ছাত্র-জনতার ‘গণ অভ্যুত্থানে’ ৫ আগস্ট পতন ঘটে হাসিনা সরকারের। ওই পুরস্কার এখনও পর্যন্ত দেওয়া কাউকে হয়নি। কিন্তু অনুমোদনের ১০ মাসের মাথায় অন্তর্বতী সরকার সেটা বাতিল করল। 

Advertisement

ওই নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি দু’বছর পরপর একজন ব্যক্তিকে এই পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তৎকালীন আওয়ামি লিগ সরকারের। পদকের জন্য মনোনীত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লক্ষ মার্কিন ডলার এবং ৫০ গ্রাম ওজনের ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণপদক ও সনদ। পৃথিবীর যেকোনও স্থানে শান্তি প্রতিষ্ঠা, ক্ষুধা ও দারিদ্র থেকে মুক্তি, যুদ্ধ বন্ধ ও বিরতিতে অবদান রেখেছেন এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এই নীতিমালা মঙ্গলবার বাতিল করে দেওয়া হল।

Advertisement

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর নাম পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। এনিয়ে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের উপসচিব মহম্মদ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১)-এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১) করার প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন করেছেন। এর আগে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্তে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে অভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তির নামে রাষ্ট্রীয় সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নামকরণ বাতিল করা হবে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের আলোচনা অনুযায়ী, সকল মন্ত্রক ও বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এই মুহূর্তে ‘নতুন’ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছুড়ে ফেলা হচ্ছে ডাস্টবিনে। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মুজিবের বাড়ি। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে সরেছে তাঁর ছবি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুজিব-হাসিনার নাম মুছে ফেলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের নবনির্মিত হলের নাম রাখা হয়েছে ফজলুল কাদের চৌধুরীর নামে। যাকে চট্টগ্রামের সবচেয়ে কুখ্যাত গণহত্যাকারী রাজাকার হিসাবেই চেনে সকলে। এতেই প্রশ্ন উঠছে, এটাই তাহলে বদলের বাংলাদেশ? যাঁরা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছেন, তাঁদের নাম মুছে স্থান পাচ্ছে ফজলুলের মতো রাজাকাররা। ইসলামি বাংলাদেশ গড়ার পথেই কি এগোচ্ছে মহম্মদ ইউনুসের প্রশাসন? এনিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.