রাহুল চক্রবর্তী: প্রয়োজনের তুলনায় স্কুলে শিক্ষক কম। তাই নিচু শ্রেণিগুলিতে বিজ্ঞানের ক্লাস নেন ওয়ার্ক এডুকেশনের শিক্ষক। আর সেই ক্লাসে বিষয় বোঝানোর অছিলায় ছাত্রীদের গা-পিঠ-কোমরে হাত বোলানো চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। তাও শুধু গা বা পিঠে ‘হাত বোলানো’ থেমে থাকলে সমস্যা হত না। স্যারের হাত যে আরও সুদূরগামী! ছাত্রীদের অভিযোগ, “শরীরের গোপন জায়গায় হাত দেন স্যর।” এবং সেই ‘হাত বোলানো’ যেন একটু ‘অন্যরকম’।
[২ নয় ৭৯, RTI করে প্রাপ্ত নম্বর জানতে পারল ‘ফেল’ পরীক্ষার্থী]
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমার গাইঘাটা থানার বেড়িগোপালপুর আদর্শ বিদ্যালয়ের এই ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। প্রধান শিক্ষকের কাছে স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীদের সমবেত অভিযোগের পরই খবর প্রকাশ্যে আসে। এদের মধ্যে ১০ জন লিখিত এবং বাকিরা মৌখিকভাবে অভিযোগ জমা দিয়েছে। নির্দিষ্ট একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোটা ক্লাসের ছাত্রীদের অভিযোগ জমা পড়ায় বিষয়টি উড়িয়ে দিতে পারছেন না কেউই। স্বাভাবিকভাবেই তোলপাড় স্কুল। খবর পৌঁছেছে মহকুমা শাসক হয়ে স্কুল শিক্ষা দপ্তরেও। স্কুল-সূত্রে খবর, অভিযোগের তির ওয়ার্ক এডুকেশনের শিক্ষক সুজিতকুমার ঘোষের বিরুদ্ধে। নিচের দিকের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে তিনি বিজ্ঞানের ক্লাস নেন। তিন শ্রেণিরই ছাত্রীদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই তারা লক্ষ্য করছিল সুজিত স্যার ক্লাসে পড়ানোর নাম করে মেয়েদের গায়ে হাত দিচ্ছে। প্রথমদিকে বিষয়টি ক্লাসের অঙ্গ কি না, তা ছাত্রীরা বুঝে উঠতে পারছিল না। কিন্তু দিন যত এগোতে থাকে, ততই এসকেজি স্যারের ছাত্রীদের গায়ে হাত বোলানো বাড়তে থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রীর কথায়, “এসকেজি স্যর বারণ করেছিলেন এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করতে। উনি আমাদের বলেছিলেন শারীরবিজ্ঞানের ক্লাস চলছে তো! তাই!”
[‘পদ্মাবতী’র বিক্ষোভে এবার আগুনে ঘি ঢাললেন প্রসূন]
কিন্তু বিষয়টি বাড়তে বাড়তে একসময় সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যাওয়ার ভয়-সঙ্কোচের বাঁধ ভেঙে যায় ছাত্রীদের। শেষপর্যন্ত নিজেদের মধ্যে কথা বলে ছাত্রীরা সিদ্ধান্ত নেয়, এর একটা হেস্তনেস্ত হওয়া দরকার। যৌথভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। এরপরই গত ৮ নভেম্বর একসঙ্গে দশজন ছাত্রী একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করে সুজিত স্যারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানায় প্রধান শিক্ষকের কাছে। চিঠিতে ছাত্রীরা অভিযোগ করেছে, “এসকেজি স্যার আমাদের পেটে-গায়ে অন্যরকমভাবে হাত বোলায়। আমাদের বোঝানোর জন্য অন্যরকমভাবে হাত দেয়। বিশেষ লজ্জিত জায়গায় হাত দেয়।” ছাত্রীদের আনা অভিযোগে আলোড়ন পড়ে যায় গোবরডাঙা স্টেশন সংলগ্ন এই স্কুলে। কিন্তু ৮ নভেম্বর একসঙ্গে একই ক্লাসের দশজন ছাত্রীর জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগের পরও স্কুল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট স্যারের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ জমতে শুরু করে। শেষমেশ শুক্রবার প্রধান শিক্ষকের ঘরে ছাত্রীদের অভিভাবকরা চড়াও হন। চাপে পড়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক খবর দেন থানায়। পুলিশের হাতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীদের অভিযোগপত্রটি তুলে দেওয়া হয়। অভিযোগ পেয়ে দু’জন ছাত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন পুলিশ আধিকারিকরা। মহকুমা শাসককেও বিষয়টি জানানো হয়। সেখান থেকেই শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের কানে পৌঁছয় ন্যক্কারজনক এই ঘটনার কথা। তার পরই নড়েচড়ে বসে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
[১৭ বছর পর ফের বিশ্বসুন্দরীর মুকুট উঠল ভারতীয় তন্বীর মাথায়]
স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বপনকুমার বালা বলেন, “পুলিশ বিষয়টি দেখছে। ছাত্রীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। বিভাগীয় পর্যায়েও দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে বলে এর বাইরে আর কিছু বলতে পারব না।” ৮ তারিখের অভিযোগের পরে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে দেরি হয়েছে, এই যুক্তি মানতে চাননি প্রধান শিক্ষক। তাঁর বক্তব্য, “বাইরে কে কী বলছেন, তা বলতে পারব না। যাঁরা অভিযোগ করছেন, তাঁরাই বলবেন।” ঘটনার পর থেকে স্কুলে আসছেন না অভিযুক্ত শিক্ষক সুজিতকুমার ঘোষ। তাঁকে একাধিকবার ফোন করা হলেও বন্ধ পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন স্থানীয় মানুষের। তাঁদের প্রশ্ন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতজন ছাত্রীর এমন গুরুতর অভিযোগ! অথচ তা কেন টেরই পেল না স্কুল কর্তৃপক্ষ?
সর্বশেষ খবর
-
হড়পা বানে মৃত্যুমিছিল, নেপালে একতা চাইছেন ‘ভারতবিদ্বেষী’ বলেন্দ্র! নয়াদিল্লির পাঠানো ত্রাণ নেবেন?
-
যজ্ঞেই শয়তান তাড়ানোর কথা বলে ‘শ্লীলতাহানি’, গয়না নিয়ে উধাও সঙ্গিনী-সহ তান্ত্রিক
-
হড়পা বানে আটকে কৈলাসযাত্রী শিষ্যরা, বিধ্বস্ত নেপালে উদ্ধারকাজে নামতে চান সদগুরু!
-
রাজ্যে উড়ল প্যালেস্তাইনের পতাকা! ‘জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে আপস নয়’, কড়া বার্তা শুভেন্দুর
-
হাতে হাত, রংমিলান্তি পোশাক, ফের একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রীকে দেখে শান্তি ভক্তদের