Agnimitra Paul

বাড়ি ভাঙার বর্জ্য থেকে তৈরি হবে ইট! পরিবেশ দূষণ রোধে অগ্নিমিত্রা বললেন ‘প্রযুক্তিই হাতিয়ার’

পরিবেশ বান্ধব বাংলা গড়তে সরকারের পদক্ষেপ নিয়েও আশ্বাস দেন পুর মন্ত্রী।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুন ২৬, ২০২৬, ১৭:০৬

options
link
বাড়ি ভাঙার বর্জ্য থেকে তৈরি হবে ইট! পরিবেশ দূষণ রোধে অগ্নিমিত্রা বললেন ‘প্রযুক্তিই হাতিয়ার’
বাড়ি ভাঙার বর্জ্য থেকে তৈরি হবে ইট।

‘ডবল ইঞ্জিন’ আমলে পুনর্ব্যবহারে জোর। পশ্চিমবঙ্গে পরিবেশ দূষণ রোধে এবার উদ্যোগী রাজ্য সরকার। দুর্গাপুরে কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে পরিদর্শনে যান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী আগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। জমে থাকা বর্জ্য সমস্যার সমাধানে সিএমইআরআই-এর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনীয় জমি দেবে রাজ্য। প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকেই নতুন উৎপাদনের কথাও জানান তিনি।

Advertisement

শুক্রবার সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে যান আগ্নিমিত্রা পাল। গবেষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘুরে দেখেন গোটা ইনস্টিটিউট। কীভাবে, কোন পন্থায় বর্জ্য থেকে নতুন করে উৎপাদন সম্ভব, একাধিক প্রযুক্তি সম্পর্কেও এদিন আলোচনা করেন তিনি। পরিবেশ বান্ধব বাংলা গড়তে সরকারের পদক্ষেপ নিয়েও আশ্বাস দেন পুর মন্ত্রী। অগ্নিমিত্রার দাবি, ‘প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি, জৈব বর্জ্য থেকে সার, শুকনো পাতা থেকে বিকল্প জ্বালানি এবং ভাঙা বাড়ি ও নির্মাণের বর্জ্য থেকে কম খরচের ইট তৈরির মতো প্রযুক্তি রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় কাজে লাগানো হবে।’

Advertisement
Agnimitra-paul-said-that-bricks-would-be-made-from-demolition-waste
পুনর্ব্যবহারের প্রযুক্তি সম্পর্কে মন্ত্রীকে বোঝাচ্ছেন গবেষকরা। ছবি: সনাতন গরাই।

অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘ভাঙা বাড়ি ও নির্মাণের বর্জ্য থেকে তুলনামূলক নিম্নমানের ইট তৈরি হবে। এই প্রযুক্তি রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় কাজে লাগানো হবে। ফেন্সিং বা বাউন্ডারি তৈরির কাজে এই ইট ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্জ্য থেকে তৈরি ইটের দামও তুলনামূলক কম হবে।’

প্রসঙ্গত, সরকারি পালাবদলের পর থেকে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে রাজ্যের দিকে দিকে চলছে বুলডোজার অ্যাকশন। ভাঙা বিল্ডিংয়ের বর্জ্যও এবার কাজে লাগানো হবে বলে জানান অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, ‘ভাঙা বাড়ি ও নির্মাণের বর্জ্য থেকে তুলনামূলক নিম্নমানের ইট তৈরি হবে। এই প্রযুক্তি রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় কাজে লাগানো হবে। কোনও ইমারত তৈরির কাজে এসব ইট কাজে লাগানো যাবে না ঠিকই, তবে যে কোনও ফেন্সিং বা বাউন্ডারি তৈরির কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্জ্য থেকে তৈরি ইটের দামও তুলনামূলক কম হবে।’

Advertisement
গবেষণাগার পরিদর্শনে পুর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ছবি: সনাতন গরাই।

পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, ‘অতীতে রাজ্য সরকার কেন্দ্রের গবেষণা ও প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের মাধ্যমে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার জমি দেবে, সিএমইআরআই প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। সেই প্রযুক্তি অনুযায়ী পুরনো জমে থাকা বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরি করা হবে। প্লাস্টিক, ধাতু, জৈব এবং নির্মাণের বর্জ্য আলাদা করে পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি রাজস্ব আয়েরও সম্ভাবনা তৈরি হবে।’ তিনি জানান, ইতিমধ্যেই নগরোন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে সিএমইআরআই-কে চিঠি পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুরনো জমে থাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.