রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলা বহু পরিবর্তনের সাক্ষী। বিচারব্যবস্থায় দ্রুত গতি থেকে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, একাধিক বদল এসেছে। শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর অনেক নিয়ম লাগু হওয়ায় জনগণের রোজকার জীবনও পরিবর্তন হয়েছে। রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা কয়েকমাস আগেও অধরা ছিল। শুধুই শোনা যেত বোমার আওয়াজ। শুক্রবার শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দান থেকে এভাবেই বিগত তৃণমূল সরকারকে বিঁধে বর্তমান শাসকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন লাগু নিয়ে তাঁর আশ্বাস, শরণার্থীদের কোনও চিন্তা নেই। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে বের করা হবে। যে কাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার আটকে দিয়েছিল, সেটা এবার হবে।
আরও পড়ুন:
অমিত শাহর বক্তব্য, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এরাজ্যে লাগু করার বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত দেননি। কারণ, উনি জানতেন, এটা লাগু হলে কাটমানি, সিন্ডিকেট সব ভেঙে চুরচুর হয়ে যেত। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে প্রথম এই ফাইল সই করেছেন। এখান থেকে ইংরেজ আমলের নিয়ম তুলে দিয়েছেন।”
শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা সংক্রান্ত বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠান। তাতে যোগ দিতে এবং উত্তরবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে বৈঠক করতে এসেছেন অমিত শাহ। সেই অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এরাজ্যে লাগু করার বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত দেননি। কারণ, উনি জানতেন, এটা লাগু হলে কাটমানি, সিন্ডিকেট সব ভেঙে চুরচুর হয়ে যেত। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে প্রথম এই ফাইল সই করেছেন। এখান থেকে ইংরেজ আমলের নিয়ম তুলে দিয়েছেন। এবার আপনারা দেখতে পাবেন, তিন ন্যায় সংহিতা (ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম) কীভাবে নাগরিক সুরক্ষা দেবে, সম্পত্তি বাঁচাবে। ৩ বছরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত ন্যায় দিতে পারি, সেটা এবার দেখবেন। বাংলার পুলিশ যা করার করবে।” শাহের কটাক্ষ, বাম ও তৃণমূলের জমানায় ‘ক্যাডার রাজ’ চলত। তৃণমূল জমানায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাটিতে রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনা যেত না। শোনা যেত বোমার শব্দ। কিন্তু এবার আইনের শাসন চলছে।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ চালু নিয়েও অমিত শাহর দাবি, ‘‘সিএএ আমরা চালু করলাম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে। তাতেও বাধা দিলেন মমতাজি। কিন্তু কী লাভ হল তাতে? এই তো এখানে কাজ চলছে। বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে, জনবিন্যাস বদল রুখতে আমরা এটা লাগু করেছি। শরণার্থীদের কোনও চিন্তা নেই। সীমান্ত সুরক্ষার জন্য আমাদের জমি দরকার ছিল, এখন সেই জমি পেয়েছি। আমাদের কাজ ভালোভাবে করব। আপনারা সবাই নিশ্চিন্তে থাকুন।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এবিভিপি-র বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্ত! যাদবপুর-মেদিনীপুর কলেজে অশান্তিতে কী বললেন শমীক?
-
প্লাবিত মেদিনীপুরে জলযাতনা, বিপন্ন মানুষের পাশে ত্রাণ নিয়ে ভারত সেবাশ্রম সংঘ
-
যাদবপুরের আদলে এবার প্রেসিডেন্সিতেও অশান্তির ছক! গেটের কাছে এবিভিপি-এসএফআই সংঘর্ষ
-
ফেলো কড়ি, নাও লাইসেন্স, নিউ মার্কেটে ওড়ে হাওয়ালার টাকা! ‘শিখা’র আগুনে আলোয় ‘অন্ধকার জগৎ’
-
তারেক বরণের মহড়া বাতিল রাষ্ট্রপতি ভবনের, প্রশ্নের মুখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর