Hooghly

আয়ার অত্যাচারের জেরে পঙ্গুত্বের পথে ৮০ বছরের বৃদ্ধা! পুলিশের দ্বারস্থ পরিবার

অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৯, ২০২১, ২০:৩৯

options
link
আয়ার অত্যাচারের জেরে পঙ্গুত্বের পথে ৮০ বছরের বৃদ্ধা! পুলিশের দ্বারস্থ পরিবার
ছবি: প্রতীকী

দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: আয়ার পাশবিক অত্যাচারে শয্যাশায়ী অশীতিপর বৃদ্ধা। ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির (Hooghly) চুঁচুড়া থানা এলাকায়। ইতিমধ্যেই বৃদ্ধার মেয়ে অভিযুক্ত আয়ার বিরুদ্ধে চুঁচুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। রোমহর্ষক এই ঘটনা প্রকাশ্য আসতেই রীতিমতো আঁতকে উঠেছেন এলাকার মানুষ। তাঁরাও অভিযুক্তর কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধার মেয়ের নাম অনিমা কোলে। তিনি একটি স্কুলের শিক্ষিকা। বিয়ের পর থেকে মগরায় শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন তিনি। কিছুদিন আগে মায়ের কাছে থাকবেন বলে শ্বশুরবাড়ির অনুমতি নিয়ে চুঁচুড়ায় শিবতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করেন তিনি। স্বামী ব্যবসার কাজ দেখাশোনা করার জন্য মগরাতেই থাকতেন। অনিমাদেবী সারাদিন মায়ের সঙ্গে থাকার জন্য একজন মহিলাকে নিয়োগ করেন। মিঠু নামে ওই মহিলা সারাদিন বৃদ্ধার সঙ্গে থাকতেন। অনিমাদেবী স্কুল ছুটি হওয়ার পর ফিরে এলে বাড়ি যেতেন ওই মহিলা। অনিমাদেবী জানান, অন্যান্যদিনের মতো গত ১৬ জানুয়ারি তিনি স্কুল থেকে ফিরে আসতেই মিঠু বাড়ি চলে যায়। অনিমাদেবীর অভিযোগ, সেদিন থেকেই তাঁর মা কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। যে হেঁটে বাথরুম যেতেন, তিনি পাশ ফিরে শুতে পর্যন্ত পারছিলেন না।

Advertisement

[আরও পড়ুন: ‘গড়’ ধরে রাখতে পারবে অধিকারীরা? কী বলছে পূর্ব মেদিনীপুরের ভোটচিত্র]

এতেই সন্দেহ হয় অনিমার। জানা গিয়েছে, পরেরদিন থেকে মিঠু কাজে আসা বন্ধ করে দেওয়ায় সন্দেহ আরে বাড়ে। মিঠুকে বারবার ফোন করলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি অনিমাদেবী। এরপরই ওই স্কুল শিক্ষিকা লক্ষ্য করেন, তাঁর মায়ের পা থেকে শুরু করে সারা শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত চিহ্ণ। বুঝতে পারেন বৃদ্ধা মাকে একা পেয়ে মিঠু তাঁর মায়ের উপর পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছে। অভিযোগ, অনিমাদেবী চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। সেই কারণে মঙ্গলবার এক আইনজীবীর সাহায্যে চুঁচুড়া থানায় মিঠুর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন তিনি। এরপরই পুলিশ অনিমাদেবীর ফ্ল্যাটে গিয়ে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখেন। অনিমা দেবী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাব না বলেই দেখাশোনা করার জন্য আয়া রেখেছিলাম। কিন্তু মানুষ এতটা পাশবিক আচরণ করতে পারে তা ভাবাই যায় না। ” উল্লেখ্য, চুঁচুড়া থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

Advertisement

[আরও পড়ুন: ঘরের মেয়ে মমতা, নন্দীগ্রামের দোকানে নিজের হাতে চা বানালেন মুখ্যমন্ত্রী]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.