অজানা চোরের আতঙ্কে তটস্থ বাঁকুড়াবাসী, বিভ্রান্তিতে নাজেহাল পুলিশও

সন্ধের পরে আর কেউ বাড়ি থেকে বেরোতেই চাইছেন না কেন?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০১৮, ০৮:০০

options
link
অজানা চোরের আতঙ্কে তটস্থ বাঁকুড়াবাসী, বিভ্রান্তিতে নাজেহাল পুলিশও

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: গুজব যেন পিছু ছাড়ছে না বাঁকুড়ার। আর সেখান থেকে ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। ডান্ডাম্যানের গুজব ফিকে হওয়ার পরেই ছেলেধরার গুজবে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল এই জেলায়। সেই গুজবে বেশ কয়েকজন মারধরও খেয়েছিলেন। এবার আর একটি গুজব নয়। একাধিক গুজবে ও দিকে দিকে বিভ্রান্তিতে নাজেহাল পুলিশ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ জেলায় গ্রামে-পুর এলাকায় ফের সন্ধে নামার পরে কোথাও চোরের, কোথাও বাড়িতে ঢিল মারার গুজব ছড়িয়েছে। আর তাতেই সন্ধের পরে আর কেউ বাড়ি থেকে বেরোতেই চাইছেন না। পাছে চোরের মুখে পড়েন।  কিংবা মাথায় এসে পড়ে ভারী পাথর।

Advertisement

[বন্দি-কারারক্ষী সংঘর্ষে অগ্নিগর্ভ হুগলির জেল, মুড়ি মুড়কির মতো পড়ল বোমা]

Advertisement

তবে বাঁকুড়া পুলিশের গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বিভিন্ন এলাকা থেকে এই ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর টহলদারি পুলিশকর্মীরা ওই এলাকায় গিয়েছেন। তবে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কাউকে ধরাও সম্ভব হয়নি। অথচ এই আতঙ্কের হাত থেকে বাদ যায়নি বাঁকুড়া পুরসভার ওয়ার্ডগুলিও। অভিযোগ, সম্প্রতি বাঁকুড়া পুরসভার লোকপুরে হাসপাতালের মর্গ লাগোয়া বসতি এলাকায়, লালবাজারের বাউরি পাড়ায়, আশ্রমপাড়ায়, সিনেমা রোড সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ধের পর এলাকায় চোরের হানা দেওয়ার গুজব রটেছে। ওই সমস্ত এলাকায় এলাকাবাসী বাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরোতেও ভয় পাচ্ছেন। একই কথা শোনা গিয়েছে বাঁকুড়া-১, বাঁকুড়া-২, ছাতনা, বিষ্ণুপুর, সোনামুখীর একাধিক গ্রামে। তবে বিষ্ণুপুর শহর ও সোনামুখী পুর শহরে তেমন কোনও অভিযোগ সামনে আসেনি বলে জানান বিষ্ণুপুর পুরসভার পুরপ্রধান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। এ প্রসঙ্গে সোনামুখীর পুরপ্রধান সুরজিৎ মুখোপাধ্যায়কে ফোন করা হলে অবশ্য তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বাঁকুড়া সদর মহকুমা শাসক অসীমকুমার বালা।

Advertisement

[৪৮ ঘণ্টায় রহস্যের সমাধান, শিলিগুড়ি হাসপাতালে শিশু চুরির ঘটনায় মহিলা-সহ ধৃত ২]

বাঁকুড়া শহরের লোকপুর এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হরিপদ ডোমের সাথে কথা বলতেই তিনি জানান, ‘সন্ধে নামলেই এলাকায় চোর এসেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে মুখে গুজগুজ ফুসফুস শুরু হয়ে যায়। মাঝে মাঝে এলাকাবাসী একজোট হয়ে চেঁচামেচি শুরু করছেন। কিন্তু চোরের কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।’  একই কথা শোনা গেল বাঁকুড়ার বদড়া গ্রামের বাসিন্দা পিন্টু পালের মুখে। তিনি বলেন, ‘গুজবে মেতেছেন মানুষজন। কখনও কারও বাড়িতে রাতের অন্ধকার নামলেই অদৃশ্য কেউ ঢিল ফেলছে বলে অভিযোগ তুলছেন। কেউ আবার বলছেন রাতের অন্ধকার নামলেই গ্রামে চোর ঢুকছে। এতেই আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে গ্রামে।’

অলঙ্করণ: শান্তনু দে

[খেলার মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় তাণ্ডব দুষ্কৃতীদের, আহত ২ ছাত্রী]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.