নন্দন দত্ত, বীরভূম: তিনি মন্ত্রী। এই দম্ভেই হোটেলের সাধারণ কর্মীদের উপর চোটপাট, মারধর। তারাপীঠে তীর্থ করতে এসে বিতর্কে জড়ালেন বিহারের মন্ত্রী সুরেশ শর্মা। এমনকী তিনি প্রধানমন্ত্রীর নাম করেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ। মন্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
[বিলের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, রোগীদের ভোগান্তি]
বর্ষশেষের রাতে মন্ত্রীর এই তাণ্ডব ঘিরে হইহই কাণ্ড তারাপীঠে। সেদিন ঠিক কী হয়েছিল? হোটেল সূত্রে খবর, অনলাইনে বুকিং করে বীরভূমের তারাপীঠের বেসরকারি হোটেল সোনার বাংলায় আসেন বিহারের মন্ত্রী সুরেশকুমার শর্মা। হোটেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকায় সোনার বাংলা হোটেলের ৪টি ঘর বুক করেন বিহারের মন্ত্রী। সোমবার একদিন হোটেলে থাকার কথা ছিল তাঁদের। সেই মতো রবিবার রাতে দু’টি গাড়িতে মন্ত্রী ও তাঁর দলবল হোটেলে ঢোকে। হোটেল ম্যানেজার সুনীল গিরি জানান, “মন্ত্রী এবং তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা রিসেপশনে গিয়ে বলেন, হোটেলে থাকবেন না। তাঁদের টাকা ফেরত দিতে হবে। কিন্তু আমাদের কর্মীরা জানিয়ে দেন, অনলাইনে বুক করলে একইভাবে অনলাইনেই টাকা ফেরত নিতে হবে।” অভিযোগ, একথা শোনার পরই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মন্ত্রী ও তাঁর সঙ্গীরা। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন তাঁরা। কর্মীদের উপর চড়াও হন মন্ত্রী ও তাঁর দলবল। এমনকী বন্দুক উঁচিয়ে হোটেল কর্মীদের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ। খাতাপত্র ছিঁড়ে দেওয়া হয়। কম্পিউটার ফেলে দেওয়া হয় মেঝেতে। এরপর হোটেলের সমস্ত কর্মীরা তাঁদের ঘিরে ফেললে সবাই গাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময়ও অবশ্য হুমকি দিয়ে যান বিজেপির মন্ত্রী। বলে যান, “আমি মোদির লোক। হোটেল বন্ধ করে দেব।”
[মিনারেল ওয়াটারের নামে সাধারণ জল, অসাধু চক্রের পর্দাফাঁস]
দলবল নিয়ে বিহারের নগর বিকাশ মন্ত্রী সুরেশ শর্মার হোটেল ভাঙচুরের ছবি সিসিটিভি ফুটেজে পরিষ্কার দেখা যায়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মন্ত্রী পালটা হোটেল কর্মীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের তরফেও মন্ত্রী ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত বিহারের বিজেপির মন্ত্রী। সুরেশকুমার শর্মার অভিযোগ, রবিবার হোটেলে এসে দেখেন, তাঁদের জন্য নির্ধারিত ঘর তখনও তৈরি হয়নি। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার কথা বললে তাঁর সঙ্গীদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। হোটেল কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। এরপরই হোটেল কর্মীরা তাঁদের উপর চড়াও হন। কর্মীদের মারে তাঁর সঙ্গী মণীশ কুমার ও গাড়িচালক গণেশ কুমার আহত হন। গোটা ঘটনা সুরেশ কুমার রামপুরহাট এসডিপিওর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিশ হোটেল থেকে ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। জেলা পুলিশ সুপার সুধীর কুমার নীলকান্তম বলেন, “এমন ঘটনার কথা শুনেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।” তবে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব সুরশে শর্মার অভিযোগ মানতে চাননি। গৌতমবাবুর দাবি, একজন মন্ত্রীর অভিযোগ পুলিশ নেবে না, এটা হতে পারে না।
ছবি: সুশান্ত পাল
[‘সুবিচার পেয়েছি বলেই বিজেপিতে’, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে খুশি ইশরাত]
সর্বশেষ খবর
-
ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে আরও বিপাকে অভিষেক! কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশ, ধরানো হল হাজিরা সমন
-
খুন করে দিতে পারে ইরান! আতঙ্কে ঘরের বাইরে বেরনো বন্ধ করলেন ট্রাম্প পুত্র ব্যারন
-
একশো বছর পুরনো পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিবাদ, আইনের দ্বারস্থ চন্দ্রচূড়
-
ধ্বংসস্তূপের নিচে বন্দি ২ দিন! নেপালে সেনার তৎপরতায় উদ্ধার দুধের শিশু, ভাইরাল ভিডিও
-
‘তিনি বৃদ্ধ হলেন’, সিপিএমের বর্ধিত অধিবেশনে অনুপস্থিত থেকেও ‘বনস্পতির ছায়া’ বিমান বসু