হরমোনে গণ্ডগোল, খয়রাশোলে ক্ষিপ্ত হনুমানের আক্রমণে জখম ৫১

ফাঁদ পেতে ধরার চেষ্টা করেও লাভ হয়নি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৭, ২০১৮, ১২:৩০

options
link
হরমোনে গণ্ডগোল, খয়রাশোলে ক্ষিপ্ত হনুমানের আক্রমণে জখম ৫১

নন্দন দত্ত, সিউড়ি: হরমোনগত গণ্ডগোল। তাতেই খেপেছে হনুমান। আর তার তাণ্ডবে আতঙ্কিত বীরভূমের খয়রাশোলের লোকপুর গ্রামের বাসিন্দারা। এখনও পর্যন্ত ক্ষিপ্ত হনুমানের আক্রমণে ৫১ জন জখম হওয়ার খবর মিলেছে। মঙ্গলবার ফাঁদ পেতে কপিরাজকে ধরার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তাতে লাভ বিশেষ হয়নি। তাই আজ, বুধবার নদিয়া মুর্শিদাবাদ থেকে ঘুমপাড়ানি বন্দুকবাজদের আনা হবে বলে জানান বিভাগীয় বনাধিকারিক হরিকৃষ্ণাণ।

Advertisement

[দিঘা যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, মৃত্যু ৬ পর্যটকের]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

গত ১৫ দিন ধরে এভাবে তাণ্ডব চালাচ্ছে ক্ষিপ্ত হনুমান। তার আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন এলাকাবাসী। লোকপুর এলাকায় মানুষ দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে সে। আঁচড়ে-কামড়ে দিয়ে ফের উধাও হয়ে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কপিরাজের আক্রমণে জখম হয়েছেন প্রায় ৫১ জন গ্রামবাসী। রবিবার সকালে বন দপ্তরের কর্মীরা একটি খাঁচা নিয়ে এলাকায় এসেছিলেন বটে। তাতে প্রলোভন হিসেবে কলাও রাখা হয়েছিল। কিন্তু লাভ বিশেষ হয়নি। চেষ্টা মঙ্গলবারও করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না কপিরাজকে। বনবিভাগের কর্তারা জানিয়েছে, হরমোনের গণ্ডগোলের কারণেই এমন আচরণ করছে হনুমানটি।

Advertisement

এদিকে ক্ষিপ্ত হনুমানের আতঙ্ক গ্রাস করেছে এলাকাবাসীকে। অপুর্বকুমার দে নামে গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “গত ১৫ দিন ধরে একটা খেপা হনুমান আমাদের লোকপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বর থেকে লোকপুর বাজার এলাকায় তাণ্ডব করে চলেছে। হনুমানের তাণ্ডবে গ্রামের প্রচুর লোক আহত হয়ে হাসপাতালে ভরতি হয়ে আছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা হনুমানের ভয়ে স্কুল যেতে পারছে না, কেউ বাজার ঘাট যেতে পারছে না।’ দিন কয়েক আগে গ্রামের আরেক বাসিন্দা কাজল দত্ত হনুমানের তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে পড়ে যান। পা ভেঙে গিয়েছে তাঁর। বর্তমানে  তিনি সিউড়ি হাসপাতালে ভরতি।

[মদের আসর বসানোর প্রতিবাদ, দুই পাড়ার সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বীরভূমের সাঁইথিয়া]

স্বাস্থ্যকর্মী সমাপ্তি গড়াই বলেন, ‘বাঁদরের তাণ্ডবে আতঙ্কিত সকলেই। কোন দিক থেকে এসে আক্রমণ করছে কেউ কিছু বুঝতে পারছে না। আমাদের এখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হনুমানের হাতে আক্রান্তদের চিকিৎসা যেটুকু করা সম্ভব সেটুকুই করা হচ্ছে। গুরুতর আহতদের নাকরাকোন্দা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।” বন দপ্তরের কর্মীরা জানান, মঙ্গলবার লোকপুর এলাকায় হাট থাকায় খাঁচা পাতা হলেও হনুমান বাগে আসেনি। তবে পুরুষ হনুমানটি সাবালক। সাবালকত্ব প্রাপ্ত হলে হনুমানের মধ্যে বীর ভাব জেগে ওঠে। এলাকায় তার বীরত্ব বজায় রাখতে যাকে পায় তাকেই আক্রমণ করে। হনুমানটিকে খাঁচাবন্দি করে নির্দিষ্ট হরমোন তার শরীরে প্রয়োগ করলে ফের শান্ত হয়ে যাবে। বুধবার থেকে ঘুমপাড়ানি বন্দুকবাজের দল লোকপুর এলাকায় যাবে। হরিকৃষ্ণাণ জানান, তার আগে সারাদিন হনুমানটির গতিবিধির ওপর খেয়াল রাখবেন বনকর্মীরা।

ছবি-বাসুদেব ঘোষ

[তামিলনাড়ুতে বাঙালি যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু, সমুদ্র থেকে উদ্ধার দেহ]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.