BJP MLA

ফেসবুক ‘রাজনীতি’র ফাঁদে প্রয়াত তৃণমূল নেতার পরিবার! বিজেপি বিধায়কের পোস্টে বিতর্ক

প্রয়াত নেতার পরিবারের আবেগকে পুঁজি করে ‘ফেসবুক রাজনীতি’ করছেন বিজেপি বিধায়ক, শুরু সমালোচনা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ২৩:৪৮

options
link
ফেসবুক ‘রাজনীতি’র ফাঁদে প্রয়াত তৃণমূল নেতার পরিবার! বিজেপি বিধায়কের পোস্টে বিতর্ক

টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: ফেসবুকে একটি ছবি, সঙ্গে একটি ক্যাপশন। তাতেই বাঁকুড়ার রাজনীতির অন্দরে তৈরি হল নয়া বিতর্ক! প্রয়াত তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক কাশীনাথ মিশ্রের পরিবারকে টেনে এনে সামাজিক মাধ্যমে ‘দলবদল’-এর ইঙ্গিত দিয়ে দলকে অস্বস্তির মুখে ফেললেন বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা। অভিযোগ, ব্যক্তিগত সৌজন্য ও পারিবারিক সাক্ষাৎকে তিনি রাজনৈতিক ফায়দার জন্য ব্যবহার করেছেন, যা জনমানসে ভুল বার্তা দিচ্ছে। এনিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন প্রয়াত বিধায়ক কাশীনাথ মিশ্রের স্ত্রী। তাঁর কন্যা শাখী ভট্টাচার্য এবং নাতি আয়ুষ্মান ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তাঁরা কেউই বিজেপিতে যোগ দেননি। তবু বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা তাঁদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদর্শে ‘অনুপ্রাণিত হওয়া’র গল্প ফেঁদে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছেন বলে অভিযোগ।

Advertisement

ঘটনা ঠিক কী ঘটেছে? জানা যাচ্ছে, প্রয়াত তৃণমূল বিধায়ক কাশীনাথ মিশ্রের মেয়ে শাখী ভট্টাচার্য ও নাতি আয়ুষ্মান পারিবারিকভাবে দেখা করতে গিয়েছিলেন বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানার সঙ্গে। তারপরই বিধায়ক নিজের ফেসবুক পোস্টে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি দিয়ে লেখেন, ‘আজ বাঁকুড়া বিধানসভার অন্তর্গত সকলের প্রিয় নেতা প্রয়াত ও প্রাক্তন বিধায়ক কাশীনাথ মিশ্র মহোদয় ও মিনতি মিশ্র মহাদয়ার একমাত্র কন্যা ও নাতি সাখী ভট্টাচার্য ও পুত্র রাতুল ভট্টাচার্য ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী সম্মাণনীয় নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদির আদর্শকে আঁকড়ে ধরলেন।’ অর্থাৎ তাঁর এই পোস্টে শাখী ও তাঁর পুত্রের বিজেপিতে যোগদানের ইঙ্গিত স্পষ্ট। কিন্তু ঘটনা মোটেই তেমনটা নয় বলে দাবি মিশ্র পরিবারের।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
নীলাদ্রিশেখর দানার এই পোস্ট ঘিরেই বিতর্ক।

এ বিষয়ে মেয়ে শাখী ও নাতি আয়ুষ্মানকে পাশে নিয়েই মুখ খুলেছেন বাঁকুড়া বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক মিনতি মিশ্র। তাঁর কণ্ঠে ছিল তীব্র ক্ষোভ। মিনতিদেবী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি কোনওদিনই চাইনি আমার মেয়ে, নাতি বা জামাই রাজনীতিতে আসুক। আমাদের পরিবারকে জোর করে রাজনীতির ময়দানে টেনে আনার এই চেষ্টা আমাকে গভীরভাবে দুঃখ দিয়েছে।” বাঁকুড়ার রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রয়াত নেতার পরিবারের আবেগকে পুঁজি করে ‘ফেসবুক রাজনীতি’ করাই বিজেপি বিধায়কের আসল লক্ষ্য। ক্ষমতার রাজনীতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সীমারেখা লঙ্ঘন করে এই ধরনের পোস্ট যে কতটা অনৈতিক বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

Advertisement

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, বিতর্ক তুঙ্গে উঠলেও বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানার কোনও বক্তব্য এখনও পর্যন্ত সামনে আসেনি। ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। একইভাবে নীরব বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও।
বাঁকুড়ার রাজনৈতিক মহলের কটাক্ষ, যখন উন্নয়ন বা জনস্বার্থের প্রশ্নে বিজেপি নীরব, তখন প্রয়াত নেতার পরিবারকে ব্যবহার করে সমাজমাধ্যমে সস্তা প্রচারেই তারা সক্রিয়। এই ঘটনায় শুধু একটি পরিবার নয়, আঘাত পেয়েছে রাজনৈতিক শালীনতাও।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.