রাজ্যের অন্যান্য জায়গার মতো বর্ধমানেও কার্যত এক ছবি! বিজেপি পরিবর্তন যাত্রায় বর্ধমানেও তেমন ভিড় দেখা গেল না! কোনও জায়গায় আবার কর্মীদের না পেয়ে শিশুদের ঝান্ডা হাতে রাস্তার ধারে দাঁড় করানোর অভিযোগও উঠেছে। এদিন বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্য সরকার ও তৃণমূলকে নিশানা করেন দিলীপ ঘোষ, ভারতী ঘোষ, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আরও পড়ুন:
রাজ্যে ভোটে জিততে এসআইআর-এ নাম বাদ দেওয়াই যে হাতিয়ার, তা সোমবার বর্ধমানে পরিবর্তন যাত্রার সভায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার বক্তব্যে স্পষ্ট! তিনি বলেছেন, “বাংলায় এসআইআর করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেক নাম বাদ গিয়েছে। এখনও ৬০ লক্ষ নাম বিচারাধীন রয়েছে। এই ভোটারদের ভাগ্য অনিশ্চয়তায় রয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে অনেক নাম বাদ যাবে। এই ভোটাররা বাদ গেলে আগামী নির্বাচনে বিজেপি জিতবে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বুথে ৪০ হাজারের বেশি ভোট বাড়বে বিজেপির।” দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, “নির্বাচন কমিশনারকে কালো পতাকা দেখানো, রাষ্ট্রপতিকে বয়কট করা বা সুপ্রিম কোর্টের রায় না মানা—এই ধরনের কাজ চলতে পারে না। এমনটা করলে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো নির্বাসনে যেতে হবে।”
এদিকে পরিবর্তন যাত্রায় লোকসমাগম না হওয়া অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমনই দাবি তুলেছে তৃণমূল, এমনকী বিজেপির আদি কর্মীরাও। পূর্ব বর্ধমানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দীর্ণ বিজেপির সংগঠন। আবার এসআইআর নিয়ে মানুষের ক্ষোভ। বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় ভিড় নেই। মঞ্চে বক্তা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষই হোক বা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ভিড় নেই কোথাও! কোথাও আবার কর্মীদের না পেয়ে শিশুদের হাতে ঝান্ডা ধরিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড় করানো হয়েছিল। যা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদে সরব হয়েছেন আদি বিজেপির লোকজন।

এদিন কালনা থেকে পরিবর্তন যাত্রার রথ চালু হয়। মেমারি, জামালপুর, রায়না, খণ্ডঘোষ হয়ে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভায় আসে রথ। সেখানে সভা হয়। তার আগে বিভিন্ন বিধানসভা এলাকাতেও সভা হয়। মেমারির বামুনপাড়া মোড়ে বিজেপির সভাস্থলের কাছেই একদল তৃণমূল সমর্থক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে। তৃণমূল সমর্থকদের সরিয়ে দেয়। মেমারি থেকে জামালপুর, রায়না থেকে বর্ধমান কোথাও জনসমাগম সেভাবে হয়নি। এই নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সুর চড়িয়েছেন আদি বিজেপি কর্মীরা। আদি বিজেপি কর্মীদের ‘জামালপুর বিধানসভা বিজেপি’ নামে একটি পেজে কচিকাঁচাদের হাতে ঝান্ডা দিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড় করানো নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে।
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বিভিন্ন সভায় বক্তব্য রাখেন। জামালপুরে দেখা গিয়েছে উনি মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন তখন পাশেই রথ দাঁড়িয়ে। আর একপাশে শুধু ভাড়া করা লোকশিল্পীরা রয়েছেন। কর্মী সমর্থক নেই। মঞ্চের সামনে পুরো ফাঁকা। বর্ধমানেও কার্জন গেট চত্বরে সন্ধ্যায় দিলীপ ঘোষ জখন বক্তব্য রাখতে ওঠেন তখনও মঞ্চের সামনের বহ চেয়ার ফাঁকা ছিল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মক্কেল নাকি ন্যায়বিচার, কোনটা বেছে নেবে ‘অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য আইচ’?
-
মৃতের সংখ্যার সঙ্গে পিওকে নিয়ে বাড়ন্ত অস্বস্তি! ‘বিক্ষোভকারীরা জঙ্গি নয়’, বোধোদয় শাহবাজের দলের
-
আবাসের তথ্য যাচাইয়ে গিয়ে মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা! গ্রেপ্তার পঞ্চায়েতের অস্থায়ী কর্মী
-
শঙ্কা কাটিয়ে ফিরলেন শুভমান, শ্রীলঙ্কায় প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের জয়ের পরও ব্যাট করে গেলেন সিরাজ
-
ভারতের জেলে মদ-গাঁজায় বুঁদ অপরাধীরা! সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য, কীসের নেশা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ?