Durgapur

অন্ধ রবি-কিরণে স্কুল আলো! অবসরেরর দু’দশক পরেও রোজ স্কুলে হেডমাস্টার

যাতায়াতের ভরসা খুদে পড়ুয়ারাই। তাঁদের কাঁধে হাত রেখে তিনি রোজ সকালে হাজির কাঁকসার বিষ্ণুপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুলাই ২৭, ২০২৬, ১৭:৫২

options
link
অন্ধ রবি-কিরণে স্কুল আলো! অবসরেরর দু’দশক পরেও রোজ স্কুলে হেডমাস্টার
কাঁকসার স্কুলে অবসরপ্রাপ্ত অন্ধ শিক্ষক রবিলাল গরাই। ছবি: সনাতন গরাই।

কথায় ‘অন্ধজনে আছে দেহ আলো।’ তবে এ যেন উলটপুরাণ। অন্ধ হেডমাস্টারের আলোর কিরণে আলোকিত কচিকাঁচারা। অবসরের পরও ছুটি নেই ‘শিক্ষক’ রবিলালের। রবিলাল গরাই। প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অবসর নেওয়ার বছর দু’য়েক আগে চিকিৎসা বিভ্রাটে একদিন তাঁর দু’চোখেরই দৃষ্টি হারান তিনি। তারপর অবসর। তাও পেরিয়েছে দু’দশক। তবে খাতায় কলমে তাঁর চাকরি না থাকলেও, অভ্যাস তাঁকে ছাড়েনি। ছাত্রছাত্রীদের জন্য আজও প্রতিদিন সকালে তিনি স্কুলে আসেন। যাতায়াতের ভরসা খুদে পড়ুয়ারাই। তাঁদের কাঁধে হাত রেখে তিনি রোজ সকালে হাজির কাঁকসার বিষ্ণুপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তাঁর কাছে চোখের আলো হারানোর চেয়েও বড় যন্ত্রণা হল স্কুল থেকে দূরে থাকা! রবিলালের বয়স এখন ৮০। কিন্তু শরীর কিংবা দৃষ্টিহীনতা কোনওদিন গ্রাস করতে পারেনি তাঁর অন্তরের তাগিদকে। কাঁকসার জঙ্গলমহলের সেই ছোট্ট গ্রামের স্কুলটাই যেন তাঁর দ্বিতীয় বাড়ি।

Advertisement

২০০৬ সালে প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসর নিয়েছিলেন রবিলাল। কিন্তু স্কুলের সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদ তাঁর ঘটেনি কোনওদিন। একদিনের জন্যও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেননি তিনি। স্কুলে ঢুকলেই যেন বদলে যায় তাঁর পৃথিবী। রবিলালের কথায়, “বাড়িতে একা থাকতে ভালো লাগে না। কচিকাঁচাদের সঙ্গে কথা না বললে মন খারাপ হয়ে যায়। এই স্কুলই আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন স্কুলে আসব। আমার কাছে পড়ে অনেকেই আজ প্রতিষ্ঠিত। এইগুলি আমার গর্বের বিষয়।” ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাপী হাজরার কথায়, “উনি আমাদের কাছে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক নন, উনি এই স্কুলের আত্মা। উনি থাকলে আমাদেরও ভরসা।”

Advertisement
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.