Jitendra Tiwari

‘বিজেপিতে দাদাগিরির সংস্কৃতি বরদাস্ত নয়’, শমীকের সুরে ‘হুঁশিয়ারি’ জিতেন্দ্র তিওয়ারির

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি মনে করেন, জিতেন্দ্র তিওয়ারির সঙ্গে ঘুরে বেড়াবেন, ছবি তুলবেন আর এলাকায় দাদাগিরি করবেন, তাহলে তাঁদের দলে বেশি দিন জায়গা থাকবে না।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: আগস্ট ৬, ২০২৬, ১৩:১০

options
link
‘বিজেপিতে দাদাগিরির সংস্কৃতি বরদাস্ত নয়’, শমীকের সুরে ‘হুঁশিয়ারি’ জিতেন্দ্র তিওয়ারির
পাণ্ডবেশ্বরে আয়োজিত সভায় বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। নিজস্ব ছবি।

তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে যে দাদাগিরির সংস্কৃতি চলত, সেই রাজনীতির আর কোনও জায়গা বিজেপিতে নেই। পাণ্ডবেশ্বরের একটি সভা থেকে কর্মীদের সতর্ক করে দিলেন বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি (Jitendra Tiwari)। তিনি আরও বলেন, কেউ যদি মনে করেন, জিতেন্দ্র তিওয়ারির সঙ্গে ঘুরে বেড়াবেন, ছবি তুলবেন আর এলাকায় দাদাগিরি করবেন, তাহলে তাঁদের দলে বেশি দিন জায়গা থাকবে না। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সুরেই কার্যত দলের নেতা কর্মীদের ‘হুঁশিয়ারি’ দেন জিতেন্দ্র।

Advertisement

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এলাকায় ভয় দেখিয়ে, প্রভাব খাটিয়ে বা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ। বিজেপি সেই ধরনের সংস্কৃতিকে কোনওভাবেই মেনে নেবে না বা প্রশ্রয় দেবে না। দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার, দাদাগিরি কিংবা মানুষের উপর আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।”

Advertisement

জিতেন্দ্র স্পষ্ট করে দেন, বিজেপিতে রাজনীতি করতে হলে মানুষের কাছে যেতে হবে, তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। জনসংযোগের মাধ্যমেই নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা করে তুলতে হবে। মানুষের সমর্থন ও আস্থাই একজন রাজনৈতিক কর্মীর সবচেয়ে বড় শক্তি, ভয় বা প্রভাব নয়। যাঁরা বিজেপির পতাকার নিচে কাজ করতে চান, তাঁদের কাছে একটাই পথ খোলা রয়েছে, জনগণের আশীর্বাদ অর্জন করা, মানুষের মন জয় করা, তাঁদের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করা এবং প্রত্যেককে সম্মান করা। মানুষের সম্মান ও জনসমর্থনের ভিত্তিতেই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে বলে বার্তা দেন বিজেপি বিধায়ক। তিনি আরও জানান, সম্মানের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলেই মানুষের সমর্থন দীর্ঘস্থায়ী হবে। ভয়-ভীতি, দাদাগিরি বা ক্ষমতার দাপটের রাজনীতির কোনও স্থান বিজেপিতে নেই।

Advertisement

উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর কেটেছে প্রায় তিন মাস। এরই মধ্যে দলের অন্দরে একাধিক ‘বিচ্যুতি’ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। বিভিন্ন এলাকা থেকে তোলাবাজি, দাদাগিরির অভিযোগ সামনে আসছে। এই সব বিচ্যুতি দূর করতে কড়া পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে রাজ্য বিজেপি। আড়াইশোর বেশি নেতা-কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে সাসপেন্ড হয়েছেন ২২ জন। সম্প্রতি জগদ্দলের বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন। এবার জিতেন্দ্র তিওয়ারি দলের অন্দরের ‘বিচ্যুতি’ নিয়ে সরব হলেন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.