ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মেধাবী পড়ুয়ার পাশে সহপাঠীরা, পুজোর চাঁদায় চিকিৎসা

মানুষ মানুষের জন্য।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০১৮, ০৯:৩৩

options
link
ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মেধাবী পড়ুয়ার পাশে সহপাঠীরা, পুজোর চাঁদায় চিকিৎসা

মণিশঙ্কর চৌধুরি: পিঠে স্কুল ব্যাগ। চোখে স্বপ্ন। সরস্বতী পুজো আসছে। জমিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। বন্ধুদের সঙ্গে বেশ মজা হবে। হয়তো এসব কথাই মাথায় ঘুরছিল খুদে রূপঙ্করের। কিন্তু বাদ সাধলো নিয়তি। স্কুলে পৌঁছেই প্রবল জ্বর। অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। ডাকা হয় ডাক্তারবাবুকে। বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় মারণ রোগ ক্যানসারে আক্রান্ত সে।

Advertisement

[কুয়াশায় হাসপাতালে যেতে দেরি, ২ অ্যাম্বুল্যান্সে সন্তান প্রসব দুই প্রসূতির]

Advertisement

দত্তপুকুরের দেবীপুকুর এলাকার বাসিন্দা বছর তেরোর রূপঙ্কর বসু। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান সে। অন্যান্য দিনের মতো ১১ জানুয়ারি স্কুলে এসেছিল সে। তবে ওইদিনই প্রবল জ্বর নিয়ে বাড়ি ফিরে যায় রূপঙ্কর। পরদিন সমস্ত শরীরে ব়্যাশ বের হয় ওই মেধাবী পড়ুয়ার। প্রথমদিকে ডেঙ্গু বলেই মনে করেছিলেন বাড়ির লোকজন। কিন্তু রক্ত পরীক্ষার পর জানা যায় ‘ব্লাড ক্যানসারে’ আক্রান্ত সে। এই খবের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে বাবা কৃষ্ণেন্দু বসুর। বাড়ির সামনেই মুদির দোকান চালান তিনি। রোজগার সামান্যই। তাতেই কোনওরকমে চলে যেত তাঁদের। রূপঙ্করের মা গৃহবধূ। তিনিও স্পন্ডেলাইটিসে ভুগছেন তিনি। শীতকালে চলাফেরার শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেন তিনি। এর মধ্যে ছেলের অবস্থায় দিশাহীন হয়ে পড়েছে ওই পরিবার।

Advertisement

রাজারহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রূপঙ্করের চিকিৎসাধীন। মাঝে মাঝেই প্রবল জ্বর আসছে তার। বমিও হচ্ছে। দত্তপুকুরের ওই সন্তানের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। আগামী ১৯ দিনের মধ্যে ১০টি কেমো দিতে হবে। সবমিলিয়ে খরচ হবে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা। ওই বিশাল অঙ্কের অর্থ যোগাতে মাথায় হাত পড়েছে কৃষ্ণেন্দুবাবুর। তবে তাঁর এই বিপদে এগিয়ে এসেছেন এলাকার লোকজন থেকে স্কুলগুলি পর্যন্ত। ক্লাস সেভেনের ফার্স্ট বয় রূপঙ্কর সবারই প্রিয়পাত্র। এমনকী তাকে যারা সেভাবে চিনত না তারাও এগিয়ে এসেছে। দত্তপুকুরের  মহেশ বিদ্যাপীঠের ছাত্র রূপঙ্কর। ওই স্কুলের পড়ুয়ারা এবার কৃতী ছাত্রের জন্য সরস্বতী পুজোর আনন্দ কাটছাঁট করেছে।পুজোর জন্য সংগৃহীত ৫০ হাজার টাকা রূপঙ্করের চিকিৎসার জন্য তারা তুলে দিয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে এগিয়ে এসেছে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও। কৃষ্ণেন্দুবাবু জানান, “রূপঙ্করের মাঝে মাঝেই জ্বর আসছে। বমিও হচ্ছে। তবে এই অবস্থায় স্থানীয় মানুষজন ও স্কুলগুলি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সাহায্যে এগিয়ে এসেছে অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও। ইতিমধ্যে স্থানীয় বিধায়কের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি আমরা।”

[সামান্য ইরেজার দিয়ে সরস্বতী বানিয়ে নজির বাংলার এই শিল্পীর]

পরিস্থিতি জটিল হলেও বিভিন্ন মহল এগিয়ে আসায় আপাতত আশায় বুক বেঁধেছেন কৃষ্ণেন্দুবাবু। একমাত্র সন্তানকে সারিয়ে তুলতে সব চেষ্টাই করছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে শীঘ্রই উত্তর পাবেন বলেও আশাবাদী তিনি। এলাকার লোকজন জানান, রূপঙ্কর শুধু পড়াশোনায় ভাল নয়, অত্যন্ত নম্র। সে দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরুক এটাই চান তাঁরা। অসংখ্য এমন চেনা-অচেনা শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই প্রার্থনাই রূপঙ্করের এখন সবথেকে বড় পুঁজি। তার সহপাঠীরা বুঝিয়ে দিল পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়নি মানবতা। মানুষ মানুষের জন্য।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.