Bridge of Purulia is not built after 7 years of laying foundation stone

শিলান্যাসের ৭ বছর পরেও হয়নি সেতু, বর্ষায় কাঠের সাঁকোই ভরসা স্থানীয়দের

২০১৬'র ফেব্রুয়ারিতে সেতুর শিলান্যাস করেছিলেন শান্তিরাম মাহাতো।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩১, ২০২৩, ১৭:৪৪

options
link
শিলান্যাসের ৭ বছর পরেও হয়নি সেতু, বর্ষায় কাঠের সাঁকোই ভরসা স্থানীয়দের

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: শিলান্যাসের পর পার হয়ে গিয়েছে সাত-সাতটা বছর। কিন্তু পুরুলিয়া এক নম্বর ও আড়শা ব্লকের সংযোগকারী কাঁসাই নদীর ওপর আজও সেতু গড়ে ওঠেনি। সেতু নির্মাণে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগ হাতে প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করলেও তা মাঝপথে থমকে রয়েছে। তাই ফি বছর বর্ষার সময় নদী পারাপারে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী সেতু তৈরি করা যেন পুরুলিয়ার এই অঞ্চলের মানুষ জনের নিয়তি হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের ন’কোটির বেশি টাকায় ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই সেতুর শিলান্যাস করেছিলেন ওই বিভাগের প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। ওই শিলান্যাসে দিন বদলের স্বপ্ন দেখেছিলেন জেলার বলরামপুর ও জয়পুর বিধানসভার মানুষজন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবের মুখ দেখল না। বলরামপুর বিধানসভার মধ্যেই রয়েছে পুরুলিয়া এক ব্লক। জয়পুর বিধানসভায় আড়শা। এই সেতু নির্মাণে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে থেকে এলাকার মানুষজন লড়াই করে যাচ্ছেন। একের পর এক আবেদনপত্র জমা করেছেন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিতে। কিন্তু কোন কাজ-ই হচ্ছে না। এই সেতু নির্মাণে যেভাবে ডিপিআর (ডিটেলস প্রোজেক্ট রিপোর্ট) তৈরি করা হয়েছিল সেই মোতাবেক কাজ করতে গিয়ে বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছে। তাই প্রকল্প রূপায়ণকারী সংস্থা পিছিয়ে গিয়েছে বলে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগ সূত্রে খবর।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: দিঘায় বিষাক্ত ‘ইয়েলো বেলি’ সাপ! কামড়ালে শরীর পুরোপুরি পক্ষাঘাতগ্রস্ত, কাজ করে না অ্যান্টি ভেনাম]

তাই ২০২২ সালের মতো এবারও গ্রামের মানুষজন নিজেদের মধ্যে চাঁদা আদায় করে কয়েক দিন ধরে দিন-রাত পরিশ্রমে নদীর বুকে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী সেতু তৈরি করেছেন। তবে সম্পূর্ণভাবে বাসের সাঁকো তৈরির কাজ এখনও হয়নি। আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। এই কাজে যুক্ত থাকা আড়শা ব্লকের বামুনডিহা গ্রামের বাসিন্দা রাখাল সিং সর্দার, মহেশ্বর মাহাতো জানান, “বর্ষা এলেই এই এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ জনের রুটি- রোজগার কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। সেই কথা মাথায় রেখেই গত বছরের মতো এবারও আমরা বাঁশের অস্থায়ী সেতু তৈরি করছি। আমরা চাই অবিলম্বে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করুক সরকার। ফি বছর বর্ষায় এই সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি চাই।”

Advertisement

বছরের অন্যান্য সময় এই কাঁসাই নদীর বুকে জল না থাকলেও জুন-জুলাই থেকে এই নদী ভরে ওঠে। যদিও এবার সেভাবে বৃষ্টি না হওয়ায় জলের গভীরতা অনেকটাই কম। কিন্তু মানুষজন যাতে এই বৃষ্টির সময় মসৃণভাবে যাতায়াত করতে পারেন তাই আগেভাগেই এই অস্থায়ী সেতু তৈরীর কাজ শুরু করলেন গ্রামের মানুষজন। আড়শা ব্লকের কুদাগাড়া গ্রামের বাসিন্দা রমেশ মাঝি, তুম্বা- ঝালদা গ্রামের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন মাহাতো বলেন, “আশপাশ গ্রামের সকলের কাছে চাঁদা আদায় করে দিন-রাত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে আমরা এই অস্থায়ী সেতুর কাজ করছি। যাতে এই বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষজনকে এই বর্ষায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে না হয়।” কিন্তু এই সেতু হবে কবে?

খুব স্বাভাবিকভাবেই সময়ের সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রীও বদল হয়ে গিয়েছে। বদল হয়েছে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার থেকে বিভাগীয় সচিব। সেই সঙ্গে জেলাশাসক থেকে এই দুই ব্লকের বিডিওরাও। কিন্তু থমকে থাকা সেতুর কাজ এগোয়নি। এই বিষয়টির প্রতিক্রিয়া নিতে বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার শংকর নস্করকে শনিবার একাধিকবার ফোন করা হলেও কোন সাড়া মেলেনি।

তবে বর্তমানে এই বিভাগের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু বলেন, ” ওই সেতুর বিষয়টি মাথায় রয়েছে। গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই আমার আধিকারিকরা ওখানে পরিদর্শন করতে যাবেন।” কিন্তু এই আশ্বাস শুনে শুনে বছর পার হয়ে গেল। থমকে থাকা সেতু সম্পূর্ণ করতে কোন কাজই শুরু হলো না। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই সেতু নির্মাণের জন্য এলাকার মানুষজন গণস্বাক্ষর সম্বলিত আবেদন পত্র জমা করেন বিভাগীয় মন্ত্রী, জেলাশাসক সভাধিপতির কাছে। কিন্তু আশ্বাসই সার। এবারও বাঁশ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী সেতুতেই এই বর্ষায় কাঁসাই পারাপার করতে হবে এলাকার মানুষজনদের।
দেখুন ভিডিও:

[আরও পড়ুন: বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে দেখতে হাসপাতালে মমতা, হাত নেড়ে সাড়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.